থানায় ধর্ষণ মামলার তথ্য আছে বিচারের নাই

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা প্রতিবেদক : বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা সারা দেশের থানাগুলোতে ২০১৬ থেকে ২০২০ সালের অক্টোবর পর্যন্ত সময়ে ২৬ হাজার ৬৯৫টি ধর্ষণের মামলা রেকর্ড করেছে। তবে এসব মামলার মধ্যে কয়টির বিচারকাজ শেষ হয়েছে সেই সম্পর্কে কোনো তথ্য নেই। এর বাইরে সারা দেশে সংশ্লিষ্ট আদালত বা ট্রাইব্যুনালেও মামলা করেছেন ভুক্তভোগীরা। গত পাঁচ বছর কতগুলো মামলা আদালতে হয়েছে, সে তথ্য আসেনি। একটি রিটের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট পুলিশের কাছে ধর্ষণের মামলার তথ্য চেয়েছিল। তখন দুই মাস সময় দেওয়া হয়েছি। গত সপ্তাহে পুলিশ সদর দপ্তর বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মহি উদ্দিন শামীমের হাইকোর্ট বেঞ্চে প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইনে নির্ধারিত ১৮০ দিনের মধ্যে টানা বিচারকাজে ধর্ষণের মামলা নিষ্পত্তি হচ্ছে কি না, তা নিরীক্ষণ (মনিটরিং) করেত সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. আলী আকবরের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। আর রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালসহ সংশ্লিষ্ট সব আদালতকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তথ্য পেলেই আরেকটি প্রতিবেদন জমা দেবে রাষ্ট্রপক্ষ। ধর্ষণের ঘটনায় সালিশকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করার নির্দেশনা চেয়ে করা এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত বছর ২১ অক্টোবর রুলসহ আদেশ দেয় হাইকোর্ট। আদেশে ধর্ষণের ঘটনায় গত পাঁচ বছর সারা দেশে থানা, আদালত, ট্রাইব্যুনালে কত মামলা হয়েছে, সে তথ্য জানতে চাওয়া হয়। এ ছাড়া আইনে নির্ধারিত ১৮০ দিনের মধ্যে ধর্ষণের মামলার নিষ্পত্তি ও টানা বিচারকাজ চালাতে উচ্চ আদালতের দেওয়া আগের রায়ের নির্দেশনা মানা হচ্ছে কি না বা বাস্তবায়ন কতটুকু হচ্ছে, তার অগ্রগতি প্রতিবেদন দিতেও বলে হাইকোর্ট। সেই আদেশ অনুযায়ী পুলিশ সদর দপ্তর ও ও সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিবেদন দেওয়া হয়। পুলিশের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৬ থেকে ২০২০ সালের অক্টোবর পর্যন্ত সারা দেশে থানাগুলোতে ২৬ হাজার ৬৯৫টি ধর্ষণ মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০১৬ সালে চার হাজার ৩৩১টি, ২০১৭ সালে চার হাজার ৬৮৩টি, ২০১৮ সালে চার হাজার ৬৯৫টি, ২০১৯ সালে ছয় হাজার ৭৬৬টি ও ২০২০ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ছয় হাজার ২২০টি মামলা দায়ের করা হয়। অপরদিকে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের দেওয়া প্রতিবেদেনে বলা হয়েছে, হাইকোর্ট বিভাগের ফৌজদারি আপিল (৪৪১৭/২০১৬) মামলার রায়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৩১(ক) ধারা বিধান অনুসারে দাখিল করা প্রতিবেদনগুলো সমন্বয় করে আদালতের নির্দেশনা অনুসারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য একটি মনিটরিং সেল গঠনের নির্দেশনা রয়েছে। এ নির্দেশনার আলোকে মনিটরিং সেল গঠন করা হল।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..