লকডাউন শিথিল করার জন্য চাপের মুখে ইইউ নেতারা

তৃতীয় কোভিড ভ্যাকসিনের অনুমোদন দিয়েছে রাশিয়া

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা বিদেশ ডেস্ক : করোনা সংকট মোকাবিলার লক্ষ্যে আরও পদক্ষেপের ঘোষণা করতে পারে ইইউ। টিকাদান কর্মসূচি, ভ্যাকসিন পাসপোর্ট, পর্যটনের সুযোগ ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করছেন নেতারা। করোনা টিকা সংগ্রহ ও বণ্টনের ক্ষেত্রে এখনো যথেষ্ট গতি আনতে পারছে না ইউরোপীয় ইউনিয়ন। রাষ্ট্রজোট হিসেবে টিকা কোম্পানিগুলির সঙ্গে দরকষাকষি করে চুক্তির মাধ্যমে ন্যায্য দামে বিশাল সংখ্যক টিকা নিশ্চিত করেছিল ইইউ, অন্তত কাগজে-কলমে সে রকমই হবার কথা ছিল। সদস্য রাষ্ট্রগুলি সেই ক্ষমতা ও দায়িত্ব ব্রাসেলসের হাতেই ছেড়ে দিয়েছিল। কার্যক্ষেত্রে সরবরাহের অভাবসহ একাধিক জটিলতার কারণে ইউরোপের মানুষের ক্ষোভ বেড়ে চলেছে। তার উপর ব্রিটেন ও দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আসা করোনার আরও ছোঁয়াচে সংস্করণ পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলছে। এই মিউট্যান্টের মোকাবিলা করতে টিকার তৃতীয় ডোজের প্রয়োজন হলে আরও টিকার অর্ডার দিতে হবে। এই অবস্থায় সংকট সামলাতে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠকে বসছেন ইইউ শীর্ষ নেতারা. অতীতের ভুলত্রুটি সামলে করোনা সংকটের দ্বিতীয় বা তৃতীয় ঢেউ মোকাবিলায় দ্রুত কিছু পদক্ষেপ নেবার পরিকল্পনা করছেন ইইউ নেতারা। সরবরাহে ঘাটতি সত্ত্বেও সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে ইইউ সদস্য দেশগুলির কমপক্ষে ৭০ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্কদের টিকা দেবার লক্ষ্যমাত্রায় এখনো অবিচল রয়েছে ইইউ। টিকা কর্মসূচি শুরু হবার দুই মাস পর ৪৫ কোটি জনসংখ্যার মাত্র চার শতাংশ টিকার প্রথম ডোজ এবং দুই শতাংশ দুটি করে ডোজ পেয়েছেন। এরই মধ্যে ভ্যাকসিন পাসপোর্ট নিয়ে তর্কবিতর্ক তুঙ্গে উঠেছে। যারা টিকা পেয়ে গেছেন, তাদের ভ্রমণের সুযোগ করে দিতে এমন দাবি উঠছে। কিন্তু সব টিকার ক্ষেত্রে সংক্রমণ ঠেকানো যায় কিনা, তা এখনো স্পষ্ট না হওয়ায় এমন প্রস্তাবের বিরোধিতা করছে কিছু মহল। জার্মানি ও ফ্রান্স এখনই এমন পদক্ষেপের বিরোধী। তবে ইইউ স্তরে যাত্রীদের টিকা সংক্রান্ত তথ্য রাখার লক্ষ্যে অ্যাপের ব্যবহার সম্পর্কে আলোচনা চলছে। গ্রিসের মতো পর্যটন-নির্ভর দেশ ইসরায়েলের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি করে পর্যটকদের আগমনের সুযোগ করে দিয়েছে। বৈঠকে ইইউ নেতারা পারস্পরিক সমন্বয়ের অঙ্গীকার ছাড়া নতুন কী পদক্ষেপ নিতে পারেন, তা স্পষ্ট নয়। তবে বছরের প্রথম তিন মাসে টিকা সরবরাহে বিপুল ঘাটতির পর পরিস্থিতির অনেক উন্নতির আশায় তারা দিন গুনছেন। জনসন অ্যান্ড জনসনের এক ডোজের টিকা ইউরোপে অনুমোদিত হলে এবং সেই কোম্পানির সঙ্গে বোঝাপড়া হলে চাপ কিছুটা কমতে পারে। জার্মানির মতো শিল্পোন্নত দেশ সামান্য পরিমাণ টিকা পেয়েও সেগুলি বণ্টন করতে হিমসিম খাচ্ছে। তাই এ ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনার উন্নতির জন্যও চাপ বাড়ছে। এপ্রিল মাস থেকে টিকার সরবরাহ এক ধাক্কায় বেড়ে গেলে ইইউ দেশগুলি দক্ষতার সঙ্গে সেগুলি দ্রুত নাগরিকদের কাছে পৌঁছে দিতে পারবে কিনা, সে বিষয়ে সংশয় রয়েছে। এই মুহূর্তে জনমতের চাপ নিয়েও দুশ্চিন্তায় রয়েছেন ইইউ নেতারা। মাসের পর মাস ধরে কারফিউ ও লকডাউনসহ একাধিক কড়া পদক্ষেপের ফলে অনেক মানুষ ধৈর্য্য হারাচ্ছেন। একাধিক জনমত সমীক্ষা অনুযায়ী রাজনৈতিক নেতাদের উপর মানুষের আস্থাও কমে চলেছে। অনেকেই স্পষ্ট ও দৃঢ় পদক্ষেপের অভাব সম্পর্কে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। এই অবস্থায় ঝুঁকি সত্ত্বেও লকডাউন শিথিল করার জন্য চাপ বাড়ছে। প্রায় এক বছর ধরে কার্যত বন্দি থাকার পর আসন্ন বসন্ত ও গ্রীষ্মকালে পর্যটনের প্রবল স্পৃহা নিয়েও দুশ্চিন্তায় রয়েছেন ইইউ নেতারা। এদিকে নিজেদের তৃতীয় কোভিড ভ্যাকসিন অনুমোদন দিয়েছে রাশিয়া। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রধানমন্ত্রী মিখাইল মিশুস্তিন এ ঘোষণা দিয়েছেন। এর নাম দেয়া হয়েছে কোভিভ্যাক। তবে এখনো বড় পর্যায়ে এর কোনো ট্রায়াল চালানো হয়নি। এর আগে আরো দুটি কোভিড ভ্যাকসিন অনুমোদন দিয়েছে রাশিয়া। এরমধ্যে বিদেশে রপ্তানি করা হচ্ছে গামালেয়া ইনস্টিটিউটের ডেভেলপ করা স্পুটনিক ভি ভ্যাকসিন। এটিও তৃতীয় ধাপের ট্রায়াল ছাড়াই অনুমোদন দেয়া হয়েছিল। তবে দেশটির গবেষকরা একে ৯০ শতাংশেরও বেশি কার্যকরি ও নিরাপদ বলে দাবি করছেন। এখন পর্যন্ত প্রায় ২০ লাখ রাশিয়ানকে স্পুটনিক ভি ভ্যাকসিন প্রদান করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী মিখাইল মুরাশকো। এছাড়া ভেক্টর ইনস্টিটিউট আরো একটি ভ্যাকসিন উৎপাদন করেছে। এটিও অনুমোদনপ্রাপ্ত ভ্যাকসিন। শীগগিরই এটি জনগণের মধ্যে প্রয়োগ শুরু হবে বলে জানিয়েছে রুশ কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী মিশুস্তিন বলেন, এখন বিশ্বের একমাত্র দেশ হিসেবে রাশিয়ারই তিনটি কোভিড ভ্যাকসিন রয়েছে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..