পাঞ্জাবে মুখ থুবড়ে পড়ল বিজেপি

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা বিদেশ ডেস্ক : পাঞ্জাবের পৌর নির্বাচনে বড়সড় ধাক্কা খেল বিজেপি। স্পষ্ট আধিপত্য দেখালো কংগ্রেস। আট কর্পোরেশনে ভোট হয়েছে তার মধ্যে ছয়টিতে জয়ী কংগ্রেস। বাকি একটি কর্পোরেশনে কংগ্রেসই সবচেয়ে বেশি আসন পেয়েছে। সংশ্লিষ্ট সব মহলেরই মত, দুর্বার কৃষক আন্দোলনের জোরেই বিরোধী বিজেপি এবং শিরোমণি আকালি দলকে প্রত্যাখ্যান করেছে জনতা। কংগ্রেস জয়ী হয়েছে হোসিয়ারপুর, কাপুরথালা, পাঠানকোট, বাটালা, অবোহর, ভাতিণ্ডার মতো কর্পোরেশনে। মোগা কর্পোরেশনেও সবচেয়ে বেশি আসন পেয়েছে কংগ্রেস, তবে তা অর্ধেকের কম। ভাতিণ্ডায় কংগ্রেস জয়ী হলো তিপ্পান্ন বছর পর। আটটি কর্পোরেশনের ছাড়াও ১০৯টি পৌরসভা এবং নগর পঞ্চায়েতের ভোট হয়েছে। সাধারণভাবে নিচের স্তরের পৌরবোর্ডের ক্ষেত্রেও এগিয়ে রয়েছে কংগ্রেস। তাৎপর্যপূর্ণ ফল হয়েছে মনসা জেলার যোগা নগর পঞ্চায়েতে। মোট ১৩ আসনের পৌরসভায় ১২টিতেই ফের জয়ী হয়েছেন সিপিআই সমর্থিত নির্দল প্রার্থীরা। এই নিয়ে পরপর দু’বার এই নগর পঞ্চায়েতে জয়ী হয়েছে সিপিআই। ২০১৫-তে সিপিআই সমর্থিত প্রার্থীরা জয়ী হয়েছিলেন ১৩ আসনেই। জয়ী প্রার্থীদের অন্যতম এবং সিপিআই কর্মী গুরমীত সিং বলেছেন, ‘‘গতবার জয়ী আমাদের প্রতিনিধিরা মানুষের মধ্যে থেকে কাজ করেছেন। জনতা ফের সমর্থন জানিয়েছেন সেই কারণে।’’ মনসায় বামপন্থীদের শক্তি রয়েছে, সমর্থনও রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। ১৪ ফেব্রুয়ারি পৌরভোট হয় পাঞ্জাবে। সময় যত এগিয়েছে স্পষ্ট হয়েছে ভোটে বিজেপি বিপুলভাবে হারছে। কংগ্রেস বা বামপন্থী নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি বিভিন্ন মহল কৃষক আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন। কেন্দ্রে বিজেপি সরকারের মন্ত্রীরা তো বটেই, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও তিন কৃষি আইন বিরোধী বিক্ষোভকে ‘কয়েকজন ধনী কৃষকের আন্দোলন’ বলে প্রচার করছেন। বিজেপি’কে তীব্র শ্লেষে বিরোধীদের প্রশ্ন, দলে দলে বিজেপি’র বিরুদ্ধে ভোট দিলেন তাঁরা সব ধনী কৃষক? ২০২২-এ বিধানসভা ভোট পাঞ্জাবে। তার আগে এই আট কর্পোরেশন এবং শতাধিক পৌরসংস্থার নির্বাচনের বাড়তি গুরুত্ব ছিল। সারা দেশে ছড়িয়ে পড়া কৃষক আন্দোলনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র পাঞ্জাব। গ্রাম-শহর থেকে দলে দলে কৃষক যোগ দিয়েছেন দিল্লি সংলগ্ন এলাকার বিভিন্ন বিক্ষোভস্থলে। আমজনতার পয়সা তুলে দিয়েছেন, কেউ দিয়েছেন ফসল। খোলা আকাশের নিচে দু’মাস ধরে পড়ে থাকা কৃষকদের জন্য ‘লঙ্গর’ খোলার রসদ পৌঁছেছে দিল্লিতে। আন্দোলনের দৃঢ়তা ভাঙতে না পেরে বিজেপি এবং কেন্দ্রের মন্ত্রীরা উগ্রপন্থী খালিস্তানীদের সঙ্গে যোগের প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। ভোটের ফলে স্পষ্ট, এমন প্রচারের জবাব দিতে চেয়েছেন মেহনতী মানুষ। তিন কৃষি বিল পাশ হয় গত সেপ্টেম্বরে। দিল্লি অভিমুখে স্রোত শুরু হয় কৃষকদের। ক্ষোভের আঁচ টের পেয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভা ছাড়তে হয় বিজেপি’র দীর্ঘদিনের শরিক আকালি দলকে। ফলে এবার ভোটে বিজেপি এবং আকালি আলাদা হয়ে লড়েছে। মন্ত্রীসভা ছাড়লেও আকালির জনসমর্থন হ্রাসের প্রবণতা কমেনি, দেখিয়েছে নির্বাচন। বিরোধী হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে আম আদমি পার্টিও। তারাও সাফল্য পায়নি। কর্পোরেশন ছাড়াও নগর পঞ্চায়েতের ভোট হয়েছে আধা গ্রাম-আধা শহর এলাকায়। মুখ্যমন্ত্রী অমরিন্দর সিংয়ের প্রতিক্রিয়া, ‘‘আকালি, বিজেপি এবং ‘আপ’ আরও বড় প্রত্যাখ্যান দেখবে বিধানসভা নির্বাচনে। রাজ্য এবং দেশে রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতা হারাবে এরা সবাই।’’ বিরোধী শিবিরে অন্যতম বড় ধাক্কা দিয়েছে ভাতিণ্ডার ফলাফল। একই নামে রয়েছে লোকসভা কেন্দ্রও। এখান থেকেই সাংসদ আকালি দলের অন্যতম প্রধান নেত্রী এবং প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরসিমরত বাদল। আবার ভাতিণ্ডার বিধায়ক কংগ্রেসের মনপ্রীত সিং বাদল। তিনি রাজ্যের অর্থমন্ত্রীও। ভাতিণ্ডা কর্পোরেশনের নির্বাচন ঘিরে তাই বাড়তি আগ্রহ এবং উত্তেজনা ছিল। পাঁচ দশকেরও বেশি সময় এখানে কর্পোরেশনের দায়িত্ব পায়নি কংগ্রেস। এবার ৫০ আসনের মধ্যে ৪৩টিই তাদের। বিজেপি’র প্রদেশ নেতারা কংগ্রেসের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে ব্যবহার করার অভিযোগ তুলেছেন। জোর খাটানোর অভিযোগও জানিয়েছেন এদিন। কিন্তু নির্বাচন প্রক্রিয়াতেই বোঝা যাচ্ছিল বিজেপি’র হাওয়া খারাপ। দলের নেতা এবং প্রার্থীরা স্বতঃস্ফূর্ত স্থানীয় বিক্ষোভের মুখে পড়ছিলেন কৃষি আইনের জন্য। মোট ২২১৫ ওয়ার্ডে ভোট হলেও ১০০৩টিতে মাত্র প্রার্থী দিতে পেরেছে বিজেপি। নগর এলাকায় বিজেপি’র মূল ভিত হলেও ৭টি কর্পোরেশনের ৩৫১টি ওয়ার্ডের ২৮১টিতে জয়ী কংগ্রেস। পৌরসভার ১৮৯৫ ওয়ার্ডের ১১৯৯টি কংগ্রেসের। এর বাইরে বেশি আসন পেয়েছে নির্দলরা। একাধিক কর্পোরেশনে জয়ে প্রায় একতরফা সমর্থন পেয়েছে কংগ্রেস। অবোহরে ৫০ আসনের মধ্যে ৪৯টি, কাপুরথালায় ৪০ আসনের মধ্যে ৩৭টি পেয়েছে কংগ্রেস।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..