রাজনৈতিক অস্থিরতা, অনিশ্চয়তার কারণ– গণতন্ত্রহীনতা

মোহাম্মদ শাহ আলম

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
পাকিস্তান আমলের ২৪ বছর, স্বাধীনতার পর ৫০ বছর আমাদের দেশের জনগণ গণতন্ত্রের জন্য অনেক যুগান্তকারী লড়াই করেছে, কিন্তু প্রকৃত গণতন্ত্রের ঠিকানা এখনো খুঁজে পাচ্ছে না, পায়নি। কেন পায়নি? কেন গণতন্ত্রের বিজয়গুলি বারবার হারিয়ে যায়। এটা গভীর ভাবনার বিষয়। ভারত বিভক্তির মধ্যদিয়ে ধর্ম পরিচয়ে পাকিস্তানের জন্ম হয়, ‘মুসলমানরা একজাত, হিন্দুরা আরেক জাত’ এই দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে ১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্তি হয়। এই কৃত্রিম জাতিতত্ত্বের বিরুদ্ধে বাঙালিরা ১৯৪৮ সাল থেকে লড়াই শুরু করে। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী প্রথম থেকেই বাঙালিদের সাথে বৈষম্যমূলক আচরণ শুরু করে, উপনিবেশিক ধরনের জাতিগত নিপীড়ন চালাতে থাকে তারা। ধর্মীয় ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতি হলো গণতন্ত্রের সাথে সাংঘর্ষিক, কারণ সাম্প্রদায়িক ও ধর্মীয় রাজনীতি বিভেদ সৃষ্টি করে, মানুষের মানবিক মর্যাদাকে ভূলুণ্ঠিত করে। পাকিস্তান উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করলে বাঙালিরা এর প্রতিবাদে গর্জে উঠে এবং ১৯৫২ সালে (কম্যুনাল ন্যাশনালিজম) সাম্প্রদায়িক জাতিতত্ত্বকে ভাষাভিত্তিক জাতীয়তাবাদের মাধ্যমে counter করে ও মোকাবিলা করতে থাকে। এর ফলে গণতন্ত্র, অসাম্প্রদায়িকতা, স্বায়ত্তশাসনের লড়াই জোরদার হয়ে উঠে। পূর্ব পাকিস্তানে অর্থাৎ আজকের বাংলাদেশে ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট করে বাঙালিরা বিজয় অর্জন করে। গণতন্ত্র, স্বায়ত্তশাসন ও সাম্রাজ্যবাদবিরোধিতা যুক্তফ্রন্টের ২১ দফাতে স্থান পায়। পূর্ব পাকিস্তানে গণতন্ত্রের প্রক্রিয়া শুরু হয়, কিন্তু দলাদলি, পেটি বুর্জোয়া অস্থিরতা, ক্ষমতার লোভ, আদর্শহীনতা, পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ও সাম্রাজ্যবাদের ষড়যন্ত্র গণতান্ত্রিক সেই প্রক্রিয়াকে নস্যাৎ করে। ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্র প্রণীত হলেও এর ভিত্তিতে নির্বাচন আলোর মুখ দেখে না। প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে গঠিত অনির্বাচিত সরকারগুলির ক্ষমতায় উত্থান-পতন ঘটতে থাকে, এই পটভূমিতে ১৯৫৮ সালে জেনারেল আইয়ুব খান সামরিক শাসন জারি করে মানুষের সাধারণ ভোটাধিকার বাতিল করে। উন্নয়নের নামে ৮০ হাজার বিডি (Basic Democrate) মেম্বারের ভোটের এক অভিনব নির্বাচনী ব্যবস্থা চালু করে। এর বিরুদ্ধে দেশের গণতান্ত্রিক শক্তি ফুঁসতে থাকে। ১৯৬২ সালে ছাত্রদের শিক্ষা আন্দোলনের মধ্যদিয়ে বাঙালি আবার রাস্তায় নামে। ক্রমান্বয়ে নানা উত্থান-পতনের মধ্যদিয়ে সর্বজনীন ভোটাধিকারসহ গণতান্ত্রিক আন্দোলন অব্যাহত থাকে। ১৯৬৬’র ছয়দফা, ১৯৬৯’র ১১ দফা, ৭০’র নির্বাচনে ভূমিধস বিজয়, ৭১’র মুক্তিযুদ্ধ ও বিজয়, হানাদার পাকিস্তানি সাম্প্রদায়িক স্বৈরতান্ত্রিক সরকারের পরাজয়, মুক্ত স্বদেশে গণতন্ত্রের অভিযাত্রা, দেশের অর্থনীতি, রাজনীতি ও ভাবাদর্শের প্রগতিমুখীনতার ফলে সমাজে শ্রেণিদ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়। উগ্র ডান-বামের অন্তর্ঘাত-নৈরাজ্য, সাম্রাজ্যবাদী ষড়যন্ত্র ও শাসকদলের মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্ব, পশ্চিমা গণতন্ত্রে বিশ্বাসী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের একদলীয় বাকশাল গঠন, বহুদলীয় গণতন্ত্র বাতিল, তৃণমূলে স্বশাসন ও জনমুখী অর্থনৈতিক উন্নয়ন ধারার ঘোষণা, এই পটভূমিতে বঙ্গবন্ধুর নির্মম হত্যাকাণ্ড এবং ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের মধ্য দিয়ে পাকিস্তানি আমলের অর্থনীতি সাম্প্রদায়িক ধারার রাজনীতির পুনর্বাসন, অবাধ মুক্তবাজার ব্যবস্থা ফিরে আসে। জিয়ার ক্ষমতায় আরোহন ও সামরিক শাসন, নিয়ন্ত্রিত গণতন্ত্র, এরশাদের দীর্ঘ সামরিক শাসন, লুটেরা ও আমলা পুঁজির হাতে রাষ্ট্র-সমাজ-অর্থনীতি-রাজনীতির সামগ্রিক নিয়ন্ত্রণ ও সংহতকরণ হয়। এই প্রেক্ষাপটে আমরা দেখতে পাই গণতান্ত্রিক লড়াইয়ের নানা চড়াই-উৎরাই। কায়েমি স্বার্থবাদী গোষ্ঠী তাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্তৃত্ব রক্ষার স্বার্থে মানুষের গণতান্ত্রিক বিজয়কে কিভাবে বারবার নস্যাৎ করেছে তাও দেশবাসী প্রত্যক্ষ করেছে। এই ধারা এখনো অব্যাহত আছে। বর্তমানে দেশে ব্যাপক রাজনৈতিক শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে, ফলে রাজনীতিতে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। ‘৬০ এর দশকে গণতান্ত্রিক লড়াই সংগ্রামের মধ্যদিয়ে সমাজ ও রাজনীতিতে যে তরুণ সমাজের জন্ম ও উত্থান, মুক্তিযুদ্ধে তাঁদের বীরত্বপূর্ণ অবদান ও বিজয়ের মাধ্যমে সমাজ মানসে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের যে বিস্তার ঘটেছিলো তা আজ নিঃশেষ হয়ে গেছে, তাকে প্রতিস্থাপন করেছে money & muscle আমলা কর্তৃত্বের শাসন। এখন রাজনৈতিক শক্তি ও কর্মীরা সংসদ-রাষ্ট্র-সমাজ পরিচালনা করে না। সংসদ, রাষ্ট্র, সমাজ নিয়ন্ত্রণ করছে লুটেরা ব্যবসায়ী, লুটেরা আমলা, লুটেরা রাজনীতিবিদ ও সামাজিক দুর্বৃত্তরা, (social criminals) ঋণখেলাপি, ব্যাংক লুটেরা, সম্পদ পাচারকারীরা দেশের দণ্ডমুণ্ডের কর্তা ও রাষ্ট্রের সকল ক্ষমতার অধিকারী। জনগণের সাথে রয়েছে এদের দ্বন্দ্ব তাই এই গণবিরোধী শক্তি ও অপরাজনীতি জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতাকে ভয় পায়, ভয় পায় মানুষের অধিকারকে। ফলে এরা রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন বাহিনী, সামাজিক দুর্বৃত্তদের দিয়ে মানুষের ভোটাধিকার ছিনতাই করে। জিয়ার সত্তরের দশকের শেষ পর্যায়ে ‘হ্যাঁ-না’ ভোটও পার্লামেন্ট নির্বাচনে দেশবাসী প্রত্যক্ষ করেছে। এখানে জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক উক্তি খুবই প্রাসঙ্গিক এবং প্রণিধানযোগ্য। তিনি বলেছিলেন- ১) টাকা কোনো সমস্যা নয় (Money is no problem) এবং ২) আমি রাজনীতিবিদদের জন্য রাজনীতি কঠিন করে দেবো (I make politics difficult for the politicians)। জিয়া রাজনীতিতে টাকার খেলা ও মাসল পাওয়ারের রাজনীতি চালু করে প্রকৃত রাজনীতিকদের জন্য রাজনীতি কঠিন করে দিয়ে যায় এবং এরশাদ এই ধারা সংহত করে, বর্তমানে আওয়ামী লীগ এই ধারার চ্যাম্পিয়ন হয়ে উঠেছে। ৮০’র দশকের স্বৈরাচারবিরোধী গণআন্দোলন যে আশার আলো দেখিয়েছিলো, ৯০’র ৬ ডিসেম্বর স্বৈরাচারের পতনের পর যে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছিলো, আওয়ামী লীগ-বিএনপির ক্ষমতাকেন্দ্রিক হানাহানির রাজনীতির ফলে তা আজ রুদ্ধ এবং বিপর্যস্ত। প্রকৃত গণতান্ত্রিক শক্তি বিভক্ত, বিভ্রান্ত, ছত্রখান ও হতাশ। রাজনীতিতে চলছে নৈরাশ্য। মানুষ বিকল্প খুঁজছে, কিন্তু তারা প্রকৃত বিকল্প শক্তি খুঁজে পাচ্ছে না। মানুষ আরো বেশি হতাশ এজন্য যে, যে আওয়ামী লীগ পাকিস্তান আমলে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র ও স্বায়ত্তশাসনের জন্য জোরদার লড়াই করেছিল সেই আওয়ামী লীগের হাতে গণতন্ত্রের সর্বনাশ দেখে। গণতন্ত্র ও গণবিরোধী শক্তি ব্যবহার করছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে কাভার (cover) হিসেবে ব্যবহার করছে তাদের সকল ধরনের অপকর্মে। ফলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা প্রতিনিয়ত প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে, আবেদন হারাচ্ছে, বিবর্ণ হচ্ছে। এই চেতনা মানুষকে আলোড়িত করছে না, বিচ্ছিন্ন হচ্ছে মানুষের আবেগ অনুভূতি থেকে। মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে সমস্ত বক্তব্য, আলোচনা মানুষ এক কান দিয়ে শুনে, আরেক কান দিয়ে বের করে দিচ্ছে। মানুষ ‘প্রকৃত বিকল্প’ না পেয়ে ঝুঁকে পড়ছে সাম্প্রদায়িক প্রতিক্রিয়াশীল শক্তির দিকে। এই অবস্থা ও পরিস্থিতি দেশ ও জাতির জন্য অশনিসংকেত। দেশে বর্তমানে positive রাজনৈতিক শক্তি না থাকার কারণে- সাম্প্রদায়িক প্রতিক্রিয়াশীল শক্তির নেতৃত্বে দক্ষিণপন্থি প্রতিক্রিয়াশীল গণঅভ্যুত্থাণের দ্বার ধীরে হলেও উন্মোচিত হচ্ছে। কারণ সমাজে এই শক্তি যে কোনো সময়ের চেয়ে বর্তমানে শক্তিশালী। শোনা যায় এবং গুজব আছে, extra constitutional শক্তির নড়াচড়া নিয়ে। অসাংবিধানিক শক্তির কর্মকাণ্ড অতীতেও দেশবাসী দেখেছে, যা দেশ ও জনগণের জন্য সুখকর হয়নি। প্রধানমন্ত্রী আশঙ্কা ব্যাক্ত করে বলেছেন, “সব ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে” (১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১ প্রথম আলো)। রাজনীতিতে এই অস্থিতিশীলতা ও অস্থিরতার জন্য দায়ী কী? দায়ী কারা? দায়ী গণতন্ত্রহীনতা, দায়ী শাসকগোষ্ঠী। দেশের এই রাজনৈতিক সংকট থেকে মুক্তির উপায় হলো লুটেরা শাসক, শোষকের বিরুদ্ধে বিকল্প শক্তি গড়ে তোলা। যার অমিত সম্ভাবনা রয়েছে আমাদের দেশের বর্তমান বাস্তব রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে। রাজনীতির এই অধোগতি ও পশ্চাৎ গতির ফলে রাজনীতিতে এই যে অস্থিরতা, অনিশ্চিয়তা চলছে তা থেকে মুক্তির উপায় ও পথ কী? তা থেকে মুক্তির উপায় হলো জনগণের ক্ষমতায়ন, জবাবদিহিতামূলক গণতন্ত্রকে তৃণমূলে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়া। প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে গেলে যা করা প্রয়োজন, তা হলো “সকল ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণের সার্বভৌমত্ব ও যথাযথ কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করা। এই লক্ষ্যে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা ও রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রশাসনিক কাঠামো ১) গণতন্ত্র ২) উপযুক্ত বিকেন্দ্রীকরণ ৩) স্বচ্ছতা ৪) জবাবদিহিতা ৫) জনগণের কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ও অংশগ্রহণ -এই নীতিমালার ভিত্তিতে মৌলিকভাবে ঢেলে সাজানো; উপজেলাকে রাষ্ট্রীয় ও প্রশাসনিক কাজের মুখ্য কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা; গ্রাম, ইউনিয়ন, থানা ও জেলা স্তরে স্থানীয় স্বশাসিত সরকার কাঠামোকে আর্থিক ক্ষমতাসহ রাষ্ট্রীয় প্রশাসনিক কাজের দায়িত্ব ও ক্ষমতা বিকেন্দ্রীভূত করে অর্পণ করা; সকল স্তরের প্রশাসনিক কাঠামোতে আমলাতান্ত্রিকতা দূর করে এবং রাষ্ট্রীয় প্রশাসনিক কাজকর্মের ওপর স্ব-স্ব স্তরের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের নিয়ন্ত্রণ ও প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। জাতীয় সংসদ সদস্যদের পরিবর্তে নির্বাচিত স্থানীয় স্বশাসিত সরকার কাঠামো সংস্থার হাতে স্ব-স্ব স্তরের প্রশাসনিক ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের নিয়ন্ত্রণ ও তদারকির দায়িত্ব অর্পণ করা; জাতীয় সংসদের ওপর রাষ্ট্রের আইন প্রণয়ন ও কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রযন্ত্রের তদারকির কাজ ন্যাস্ত রাখা।” (বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির বিপ্লবী গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের ১৭ দফা কর্মসূচির একটি ক্ষুদ্রাংশে এ বক্তব্য উল্লেখিত হয়েছে) কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, উল্লিখিত বক্তব্যের এরকম ব্যবস্থা সহজে গড়ে তোলা কি সম্ভব? লুটেরা শাসক শ্রেণি, আমলাতন্ত্র-এমপিতন্ত্র এই ব্যবস্থা করতে গেলে প্রবল প্রতিরোধ গড়ে তুলবে, ফলে এদের শাসন-শোষণ-নির্যাতন ও প্রতিরোধ ভাঙতে হলে সমাজের ৯৫ ভাগ মানুষের সাথে, এদের যে বহুমাত্রিক দ্বন্দ্ব চলছে তাকে হ্যান্ডেল অর্থাৎ মোকাবিলা করে এগোতে হবে, লড়াই হবে সংঘাতপূর্ণ, একে পাশ কাটিয়ে সুন্দর ব্যবস্থা ও সুন্দর সমাজের প্রত্যাশা ও স্বপ্ন দেখে লাভ নেই। কোথায় নেই দ্বন্দ্ব? স্বাস্থ্য-চিকিৎসা, শিক্ষা, খাদ্য নিরাপত্তা, নারীর অধিকার ও নিরাপত্তা আদায়ে দ্বন্দ্ব রয়েছে সমাজে, রয়েছে ভোট দেয়ার, ভাত-কাজ পাওয়ার দ্বন্দ্ব। এই দ্বন্দ্ব নিরসনের বিকল্প কর্মসূচি নিয়ে জনগণের মধ্যে বাম-প্রগতিশীল প্রকৃত গণতান্ত্রিক শক্তি ধারাবাহিক-নিরবচ্ছিন্ন কাজে নামতে পারলে লুটেরা শাসক শ্রেণির বিকল্প শক্তি সমাবেশ গড়ে তোলা সম্ভব। অপসারণ করা সম্ভব অপশাসনের যাঁতাকল, কায়েম করা সম্ভব জনগণের গণতন্ত্র, গড়ে তোলা সম্ভব জবাবদিহিতামূলক প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো। এরকম ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারলেই রাজনৈতিক অস্থিরতা, অনিশ্চয়তা ও নৈরাজ্যের হাত থেকে দেশ ও জাতিকে মুক্ত করা সম্ভব বা সম্ভব হয়ে উঠতে পারে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..