সাফারি পার্কে এসেছে আরো নতুন মুখ

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা পরিবেশ ডেস্ক : করোনা পেন্ডামিকে গাজীপুর বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে বেশ কিছু প্রাণী বাচ্চার জন্ম দিয়ে সুখবর ছড়িয়েছিল দেশব্যাপী। করোনাকালে সংক্রমণ রোধে দীর্ঘসময় সাফারি পার্ক বন্ধ রাখা হয়েছিল। বন্ধ থাকার এ সময়টুকুতে প্রাণীরা নিজেদের মতো করে পরিবেশ পেয়ে আশানুরূপ ব্রিডিং করেছে। তবে কিছু দিন হলো পার্ক উন্মুক্ত করা হয়েছে দর্শনার্থীদের ঘুরে বেড়ানো। এমন সময়ে একেবারে ভিন্ন রকমের দুটি সুখবর দিল পার্ক কর্তৃপক্ষ। একটি এসেছে উটপাখির পরিবার থেকে অপরটি ভালুক পরিবার থেকে। এরমধ্যে বালুময় বিস্তৃর্ণ মরুভুমি অঞ্চলের প্রাণী উটপাখির ডিম থেকে ইনকিউভেটরের (তাপযন্ত্র) মাধ্যমে চারটি বাচ্চা ফুটিয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছে পার্ক কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে পার্কে আনন্দের হইচই পড়ে গেছে। এর আগেও পার্কে প্রাকৃতিক পরিবেশে দুইবার উটপাখির বাচ্চা ফুটেছিল। প্রতিবছরই উটপাখি নিয়মিত ডিম দিলেও বাচ্চা না ফোটা নিয়ে ছিল অসন্তুষ্টি। ওয়াইল্ড লাইফ সুপার ভাইজার মো. আনিসুর রহমান জানান, ২০১৩ সালে দুই দফায় দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে পশুপাখি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মের্সাস ফ্যালকন ট্রেডার্সের মাধ্যমে ৬টি উটপাখি আমদানি করা হয় সাফারি পার্কের জন্য। পরে পার্কের দক্ষিণ পশ্চিম পাশের ইমু পাখির বেষ্টনীর পাশের বেষ্টনীতে রাখা হয় উটপাখিগুলো। কিছু দিন পর থেকেই নিয়মিত ডিম পাড়তে থাকে নারী উটপাখিগুলো। পরে ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে প্রাকৃতিকভাবে উটপাখির একটি বাচ্চা ফোটে। এর পরের বছরই আরো দুটি বাচ্চা ফোটে। জানা যায়, প্রতি বছরই পর্যাপ্ত পরিমাণ ডিম পাড়লেও বাচ্চা ফুটছিল না। এ নিয়ে কতৃর্পক্ষ বেশ অসন্তুষ্টিতে ছিলেন। এবার পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তবিবুর রহমানের বিশেষ চিন্তা ভাবনা থেকেই ইনকিউভেটরের মাধ্যমে উটপাখির ডিম থেকে উটপাখির বাচ্চা ফোটানোর চেষ্টা করেন। এর আগে ময়ূরের বাচ্চা ফোটানো হয়েছিল ইনকিউভেটরের মাধ্যমে। এবার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দুরদর্শী সে চিন্তা থেকেই ইনকিউভেটরের মাধ্যমে উটপাখির ডিম থেকে বাচ্চা ফোটানোর সফলতা পাওয়া গেল। মো. আনিসুর রহমান জানান, সমতলে বসবাস করা আকারে সবচেয়ে বড় হলো উটপাখি। উটপাখি ক্যাভটিবে (আবদ্ধস্থান) ৬০ বছর বেঁচে থাকে পারে। অপর দিকে ন্যাচারে (প্রকৃতিতে) ৪০-৪৫ বছর বাঁচে। এদের ওজন প্রায় ৬৩ কেজি থেকে ১৪৫ কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে। তবে এভারেজ পুরুষের ওজন ১১৫ কেজি ও নারীর ওজন ১০০ কেজি হয়। উটপাখি লম্বা পায়ে ঘন্টায় ৭০ কিমি গতিতে দৌঁড়াতে পারে। তিনি আরো বলেন, ন্যাচারে ৫-৫০টি পাখি দলবদ্ধ হয়ে বসবাস করে। পুরুষ পাখি দুলদুলে (বালুময়) স্থানে বাসা তৈরী করে। রাতে মেইল (পুরুষ) উটপাখি ডিমে তা দেয় আর দিনে ফিমেইল (নারী) উটপাখি ডিমে তা দিয়ে থাকে। উটপাখি ২-৪ বছরে প্রাপ্তবয়স্ক হয়। একটি পাখি ৫-১০ ডিম পাড়তে পাড়ে। এক বাসায় একাধিক মা উটপাখি ডিম দিয়ে থাকে। উটপাখি ডিমে ৪০ দিন তা দেওয়ার পরে বাচ্চা ফোটে। সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (সহকারী বন সংরক্ষক) মো. তবিবুর রহমান বলেন, পার্কের উটপাখিগুলো সব সময় ব্রিডিং করে। সময়মত পর্যাপ্ত ডিমও দেয়। কিন্তু বাচ্চা ফুটতনা নিয়মিত। সমানে ডিম নষ্ট হতো। এ নিয়ে অসন্তুষ্টি ছিল আমাদের মাঝে। তবে এ বেষ্টনীতেই দুবার প্রাকৃতিকভাবে বাচ্চা ফুটেছিল। তিনি বলেন, প্রকল্প পরিচালকের সঙ্গে পরার্মশ করে এবার ভিন্ন চিন্তা করে ইনকিউভেটরের (তাপযন্ত্র) মাধ্যমে উটপাখির ডিম থেকে বাচ্চা ফোটানোর চেষ্টা করি। সাইফুল ইসলাম নামে একজন ভদ্রলোকের কাছ থেকে ইনকিউভেটরের মাধ্যমে উটপাখির ডিম থেকে বাচ্চা ফোটার বিষয়টি জানতে পারি। পরে তার সাথে যোগাযোগ করে তার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতা ও নির্দেশনায় কাজ শুরু করি। এবার ইনকিউভেটরের মাধ্যমে উটপাখির বাচ্চা ফোটানোর সাফল্য পাওয়া গেল। তবিবুর রহমান আরো জানান, এ পদ্ধতি অবলম্বন করে এখন নিয়মিত উটপাখির বাচ্চা পাওয়া যাবে বলে আশা করছি। এ সাফল্য আমাদের সকলের প্রচেষ্টার ফসল। এ সাফল্য আমাদের বড় আশা জাগিয়েছে। এদিকে গাজীপুরের সাফারি পার্কে তৃতীয়বারের মতো দুটি ভাল্লুক শাবকের জন্ম হয়েছে। গত ৫ জানুয়ারি শাবক দুটির জন্ম হলেও পার্ক কর্তৃপক্ষ ২০ জানুয়ারি দুপুরে সংবাদটি গণমাধ্যমে জানান। সদ্য জন্ম নেয়া দুটি শাবকসহ পার্কে ভাল্লুকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫টিতে। পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সহকারী বন সংরক্ষক তবিবুর রহমান বলেন, সাফারির ভাল্লুক বেষ্টনীতে মাদী ভাল্লুক অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর তাকে বিশেষ বেষ্টনীতে নিয়ে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল। সেখানে ৫ জানুয়ারি ওই মাদী ভাল্লুক দুটি শাবকের জন্ম দেয়। এখনো ওই বেষ্টনীতে রেখে মা ভাল্লুককে পার্কের কর্মকর্তারা খাবার দিচ্ছেন। ভাল্লুকেরা সাধারণত একসাথে এক থেকে তিনটি বাচ্চার জন্ম দেয়। তিনি আরও জানান, এশিয়াটিক ব্ল্যাক বেয়ার এখন পৃথিবীতে প্রাণিদের মধ্যে লাল তালিকাভুক্ত প্রাণি। বিলুপ্তির ঝুঁকিতে থাকা এই জাতের (কালো ভাল্লুক) সংরক্ষণে ভূমিকা রাখছে সাফারী পার্ক। আবদ্ধ পরিবেশে ভাল্লুকের পালে তৃতীয়বারের মতো বাচ্চার জন্ম হওয়ায় তিনি এ প্রাণিটির নতুন সম্ভাবনা দেখছেন। সদ্য জন্ম নেওয়া বাচ্চাসহ পার্কে বর্তমানে ভাল্লুকের সংখ্যা ১৫টি। গর্ভধারণের আট মাস পর বাচ্চা প্রসব করে। ভালুক ২০ থেকে ২৫ বছর পর্যন্ত বাঁচে। তবে আবদ্ধ পরিবেশে ৩০ থেকে ৩৫ বছর বেঁচে থাকে। ভাল্লুক সর্বভূক প্রাণি। পার্কে সাধারণত পূর্ণবয়ষ্ক ভাল্লুককে আপেল, মাল্টা, মিষ্টি কুমড়া, পাউরুটি, মধু খেতে দেয়া হয়।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..