নির্বাচন নিয়ে দ্বিধা-সন্দেহ ফিলিস্তিনে

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা বিদেশ ডেস্ক : দেড় দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠেয় ফিলিস্তিনের জাতীয় নির্বাচন আদৌ হবে কিনা, হলেও তা কোনো পরিবর্তন নিয়ে আসবে কিনা তা নিয়ে জনমনে ব্যাপক দ্বিধা-বিভক্তি কাজ করছে। পাশাপাশি, রাজনৈতিক সহিংসতা এবং বিচ্ছিন্ন তিনটি অঞ্চল আর নিজস্ব প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি অবিশ্বাসতো রয়েছেই। এর আগে, ১৫ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের মধ্যে চলে আসা বিভক্তি কমিয়ে আনতে চলতি বছরের মে মাসে ফিলিস্তিনের পার্লামেন্ট নির্বাচন এবং জুলাইতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছেন। তার প্রধান প্রতিপক্ষ ইসলামপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসও এ ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে। আব্বাস বলেছেন, ২২ মে পার্লামেন্ট এবং ৩১ জুলাই প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ২০০৫ সালে হওয়ার সর্বশেষ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আব্বাস জিতেছিলেন, তার আনুষ্ঠানিক মেয়াদ ছিল ৪ বছর। নির্বাচন না হওয়ায় মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও এক যুগ ধরে তিনি একই দায়িত্বে আছেন। আব্বাসের ওই ঘোষণাকে যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে খুশি করার চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনামলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক তলানিতে পৌঁছে যাওয়ার পর ফিলিস্তিনিরা এখন বাইডেন প্রশাসনের সঙ্গে বন্ধুত্ব জোরদারের চেষ্টা করছে। তবে, আব্বাসের ওই ঘোষণা নিয়ে ফিলিস্তিনিদের মধ্যে খুব একটা উচ্ছ্বাস দেখা যাচ্ছে না। ফিলিস্তিনি সেন্টার ফর পলিসি অ্যান্ড সার্ভে রিসার্চের ডিসেম্বরের এক জরিপে অংশ নেওয়া ৫২ শতাংশ ফিলিস্তিনি মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো নির্বাচন হলে তা অবাধ ও সুষ্ঠু হবে না। নির্বাচনে যদি হামাস জেতে, তাহলে আব্বাসের দল ফাতাহ ফল মেনে নেবে না - বলে মনে করেন ৭৬ শতাংশ ফিলিস্তিনি। আবার, ফাতাহর জয় হামাস প্রত্যাখ্যান করবে - এমনটা বিশ্বাস করেন ৫৮ শতাংশ। এ ব্যাপারে পশ্চিম তীরের বর্ষীয়ান রাজনৈতিক বিশ্লেষক হানি আল-মাসরি বলেছেন - নির্বাচনের ঘোষণা একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, কিন্তু এখনও অনেকদূর যেতে হবে। অনেক বাধা আছে, সেসব বাধা টপকাতে না পারলে এই পুরো কার্যক্রমই ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে। ওদিকে, যেসব বাধার কথা বলা হচ্ছে, তার মধ্যে ফিলিস্তিন লিবারেশন অর্গানাইজেশনের (পিএলও) দুই প্রভাবশালী সংগঠন হামাস ও ফাতাহর মধ্যে বৈরিতাও আছে বলে জানিয়েছেন ফিলিস্তিনি পর্যবেক্ষকরা। এছাড়াও, অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করতে কী প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের অংশ নিতে দেওয়া হবে কিনা এবং ৮৫ বছর বয়সী অসুস্থ আব্বাস ফের নির্বাচনে দাঁড়াবেন কিনা - এসব প্রশ্নেরও উত্তর মেলেনি। অন্যদিকে, পশ্চিমা দেশগুলোর কাছে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে পরিচিত হামাস কোনো সরকারে থাকলে সেই সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) কোনো ধরনের চুক্তিতে যাবে না বলেও আভাস রয়েছে। তবে, ইইউ অবশ্য ফিলিস্তিনে নির্বাচনের ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে বলেছেন ইইউ’র পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা নীতি সংক্রান্ত মুখপাত্র বলেছেন - নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় সহায়তা করতে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত তারা। একইসঙ্গে ফিলিস্তিনের সব অঞ্চলে নির্বাচন আয়োজনে সহযোগিতা করতে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের প্রতিও আহ্বান জানিয়েছে ইইউ। এ ব্যাপারে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের এক মুখপাত্র বলেছেন, গণতান্ত্রিক অধিকার চর্চায় সক্ষম হয়ে উঠতে ফিলিস্তিনিদের এ প্রচেষ্টায় সহযোগিতা করতে প্রস্তুত জাতিসংঘ। এই নির্বাচন ফিলিস্তিনিদের ঐক্যবদ্ধ করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..