শপথ নিলেন বাইডেন

ট্রাম্পের বেশ কিছু নীতি বদল

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা বিদেশ ডেস্ক ঃ অবশেষে হোয়াইট হাউস থেকে বিদায় নিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। নির্বাচনে পরাস্ত হয়েও পরাজয় মানতে না চাওয়া ট্রাম্পকে ২০ জানুয়ারি সকালেই ছেড়ে যেতে হলো রাষ্ট্রপতি ভবন। তাঁর চার বছর একদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ দেখেছেন অর্থনৈতিক অধোগতি, মন্দা, বিপুল ছাঁটাই, অনিয়ন্ত্রিত মহামারীর কামড়, জাতিবিদ্বেষ, অভিবাসী-বিরোধী উগ্রতা, স্বৈরাচার ও স্বেচ্ছাচারের এক উৎকট মিশ্রণ। অন্যদিকে, তাঁর রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন মার্কিন আধিপত্য বিস্তারের কর্মসূচি প্রসারিত হয়েছে লাতিন আমেরিকা থেকে ইরান, দক্ষিণ চীন সাগর থেকে ভারত মহাসাগরে। বিদায়বেলায় আত্মম্ভরিতা একটুও না কমিয়ে ট্রাম্প দাবি করেছেন, চার বছরে বহু কাজে তিনি সাফল্য অর্জন করেছেন। ‘আবার দেখা হবে’। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের একাংশের খবর, রিপাবলিকান দলে থেকে আর এগতে পারবেন না বোধ করায় একটি পৃথক দল গঠনের কথাও ভাবছেন ট্রাম্প। ‘প্যাট্রিয়ট পার্টি’ গঠন করতে পারেন যা আরও খোলাখুলি অতি দক্ষিণপন্থার রাস্তায় হাঁটবে। ট্রাম্প যে বিদায় নিয়েছেন এই স্বস্তির মধ্যেই এদিন শপথ নিলেন জো বাইডেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬ তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করলেন তিনি। একই সঙ্গে দেশের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ মহিলা রূপে উপরাষ্ট্রপতি হিসাবে শপথগ্রহণ করলেন কমলা হ্যারিস। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ঘিরে ছিল টানটান উত্তেজনা। নিরাপত্তার বজ্র আঁটুনিতে ছেয়ে ফেলা হয় গোটা ওয়াশিংটন। গত ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটলে উগ্র ট্রাম্প সমর্থকরা ব্যাপক হিংসা ছড়ায়। হামলা এক পুলিশ কর্মী সহ ৫ জনের মৃত্যু হয়। তার পর থেকেই কড়া নিরাপত্তার বলয়ে রাজধানী। রাষ্ট্রপতির শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে জাতীয় সঙ্গীত গেয়েছেন বিশিষ্ট শিল্পী লেডি গ্যাগা। গান গেয়েছেন জেনিফার লোপেজও। চিরাচরিত প্রথায় ক্যাপিটলের ওয়েস্ট ফ্রন্টে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস ঘড়ির কাঁটা ১২টা স্পর্শ করার সঙ্গেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসাবে জো বাইডেন (৭৮)’ কে পদ ও গোপনীয়তার শপথ বাক্য পাঠ করান। শপথ নেন উপরাষ্ট্রপতি কমলা হ্যারিস। হ্যারিসকে শপথগ্রহণ করান বিচরপতি সোনিয়া সটোমেয়র। পূর্ব ঘোষণা মতোই অনুষ্ঠানে ছিলেন না বিদায়ী রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার আগে এদিন বাইডেন, হ্যারিস করোনা ভাইরাসে মৃত প্রায় ৪ লক্ষ মার্কিন নাগরিকের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে অনুষ্ঠানে অংশ নেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের অল্প সময় পরেই নতুন রাষ্ট্রপতি দেশবাসীর উদ্দেশে ভাষণ দেন। এই ভাষণে বাইডেন বলেন, এই দিন গণতন্ত্রের দিন। গণতন্ত্র ভঙ্গুর নয়। ক্যাপিটলে হামলার উল্লেখ করে বাইডেন বলেন, আমেরিকা গণতন্ত্রের জন্য জেগে উঠতে সক্ষম হয়েছে। বাইডেন শ্বেতাঙ্গ বর্ণবাদের বিপদ, জাতিবিদ্বেষের বিপদের কথা উল্লেখ করে বলেন সকলের জন্য ন্যায়বিচারের প্রতিশ্রুতি দেন। ঘৃণা, উগ্রবাদ, হতাশা, তৈরি হওয়া ক্ষত প্রশমনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সঙ্গে সঙ্গে মহামারীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের কথাও বলেন। ভাষণের মধ্যেই নীরবতা পালিত হয়। মার্কিন ভোটেও স্পষ্ট হয়েছে কীভাবে বিভাজিত হয়ে আছে আমেরিকা। তারই উল্লেখে বাইডেন বারংবার বলেন ঐক্যের কথা। বলেন, তিনি হবেন সকল মার্কিনীর রাষ্ট্রপতি। ট্রাম্পের নাম উল্লেখ না করেও তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে আমরা মিথ্যার দর্প দেখেছি, দেখেছি সংঘাত। এদিকে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিয়ে বাইডেন ১৫টি সরকারি নির্দেশ জারি করতে চলেছেন বলে জানা গেছে। এর মধ্যে বেশ কিছু বিদায়ী রাষ্ট্রপতি ট্রাম্প প্রশাসনের আমলে নেওয়া সিদ্ধান্তের বিরোধী। যেমন বাইডেন সরকার প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে যোগ দিয়েছে। বাইডেন ঘোষণা করতে চলেছেন, ১০০ দিনের মাস্ক ব্যবহারের নির্দেশিকা। এছাড়াও মুসলিম দেশ থেকে আমেরিকায় সফরে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও অভিবাসী বিল সংক্রান্ত সিন্ধান্ত তার অন্যতম। যাতে অভিবাসীদের ৮ বছরের থাকার ছাড় এবং কোনও একটি দেশ থেকে ঠিক কত হন অভিবাসী পেশার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আসতে পারবেন তা তুলে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। বিলটি পাশ হলে ভারতের অনাবাসী তথ্য ও প্রযুক্তিবিদরা উপকৃত হবেন। কেননা ট্রাম্পের আমলে তাঁদের আমেরিকায় থেকে কাজ করার ওপরে নানা রকমের বিধিনিষেধ আরোপিত হয়েছিল। অবশ্য নতুন রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণের উৎসবে ছাপিয়ে গেছে অশান্তির সম্ভাবনা। উদ্বোধনী অুষ্ঠানে আগত অতিথি অভ্যাগতদের থেকে শুরু করে রাজধানী ওয়াশিংটনের সাধারণ মানুষ। সবার মুখেই ছিল ভয়ের রেশ। গোটা শহর ঢেলে সাজানো হয়েছিল নিরাপত্তা ব্যবস্তা। সমস্ত সরকারি ভবন, সুপ্রিম কোর্ট এবং ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপুর্ণ স্থানে মোতায়েন করা হয়েচিল ন্যাশনাল গার্ড। এর আগে ফেডরেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন সহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা বাইডেনের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে দেশে হিংসা ছড়াতে পারে বলেই প্রশাসনকে সতর্ক করা হয়েছিল। আগাম নিরাপত্তার অন্তর্গত শপিং মল, বাজার, বিনোদন কেন্দ্র প্রমুখ বন্ধ ছিল। একমাত্র জরুরি কাজ ছাড়া রাস্তায় গাড়ি বের করতে নিষেধ করা হয়। এদিকে শপথ গ্রহণের পরেই ট্রাম্প জমানার বেশ কিছু নীতি বদলের সিদ্ধান্ত নিলেন বাইডেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে ইতিমধ্যেই ১৫টি নীতি নির্বাহী আদেশে সই করার পাশাপাশি হোয়াইট হাউজের এক পদস্থ কর্তাকে বরখাস্ত করেছেন তিনি। এর ভেতর দিয়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বার্তা দিতে চেয়েছেন বলেই মত আন্তর্জাতিক মহলের।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..