নদীও খাচ্ছে, দূষণও করছে

৬৪ জেলায় ৬৩ হাজার দখলদার

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা প্রতিবেদক : দেশে নদী দখলকারীদের তালিকা প্রতিদিন দীর্ঘ হচ্ছে। দেশের ৬৪ জেলায় এই দখলদারের সংখ্যা ৬৩ হাজার ২৪৯ জন। এর আগে তালিকায় ছিল ৫৭ হাজার ৩৯০। নদী কমিশন বলছে, গত এক বছরে তারা প্রায় ১৮ হাজার ৫৭৯ দখলদারকে উচ্ছেদ করেছে। একই সময়ে নদী দখল ও দূষণকারীদের তালিকা আরো বড় হয়েছে। কমিশন সূত্রে জানা গেছে, সবচেয়ে বেশি নদী দখলদার খুলনা বিভাগে। সেখানে সংখ্যাটি ১১ হাজার ২৪৫ জন। আর উচ্ছেদ করা হয়েছে চার হাজার ৮৯০ জন অবৈধ দখলদারকে। নদী দখলদারের সংখ্যা সবচেয়ে কম সিলেট বিভাগে দুই হাজার ৪৪ জন। এই বিভাগে ২০১৯ সালে উচ্ছেদ করা হয়েছে ৫৭৬ জনের অবৈধ স্থাপনা। ঢাকা জেলায় নদী দখলকারী সাড়ে ছয় হাজারের বেশি। ঢাকা বিভাগে নদী দখলদারের সংখ্যা ৮ হাজার ৮৯০ জন। উচ্ছেদ করা হয় নদীর জমিতে থাকা এক হাজার ৪৫২ জনের পাঁচ হাজার ৯৩৫টি স্থাপনা। ঢাকা জেলায় বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, শীতলক্ষ্যা, ইছামতি, বালু, বংশী, গাজীখালী, কালীগঙ্গাসহ মোট ১১টি নদী ও ২০১টি খালের উল্লেখ রয়েছে প্রতিবেদনে। ঢাকা জেলায় নদী দখলদারের সংখ্যা ৬ হাজার ৭৫৮ জন। এর মধ্যে উচ্ছেদ করা হয়েছে ৫ হাজার ৭৯৯ জনের স্থাপনা। নারায়ণগঞ্জে নয়টি নদী ও ২১৮টি খাল রয়েছে। সেখানে নদী ও খাল দখলদারের সংখ্যা ৭৮৫ জন। মানিকগঞ্জ জেলায় নদীর সংখ্যা ১৬টি আর খাল ১১৭টি; দখলদারের সংখ্যা এক হাজার ৩৯৯ জন। ফরিদপুর জেলায় ১৩টি নদী ও ১৫টি খাল রয়েছে; দখলদারের সংখ্যা এক হাজার ৮৩৪ জন। টাঙ্গাইল জেলায় নদী দখলদারের সংখ্যা এক হাজার ৭৮৮ জন। নদী দখল ও দূষণের ব্যাপারে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক শরিফ জামিল বলেন, এত আন্দোলনের পরও এখন এসে দেখা যাচ্ছে যে, নদী দখল এবং দূষণ দুই-ই বেড়েছে। পাশাপাশি আদালতের কড়া রায় করেও তা বন্ধ হচ্ছে না। বাইরের দেশগুলোতে আমাদের নদীর বিষয়ে এসব উদ্যোগের জন্য যেমন প্রশংসা শোনা যায়, তেমনি আইনের যথাযথ প্রয়োগ না করার জন্য আমরা সমালোচিতও হই। সরকার যেসব পদক্ষেপ নিচ্ছে তা খুবই দুর্বল। সরকারকে বিশ্বাস করতে হবে যে মানুষ নদীকে বাঁচাতে চায়। আদালত যতই শক্তিশালী রায় দিক না কেন, কাজ হবে না যদি না সরকার চায় কাজ হোক। কমিশনও কার্যকর হবে না। বিশেষজ্ঞরাও বলছেন, নদীর জমি দখলমুক্ত করার পর তদারকি না থাকায় ফের দখল হচ্ছে। এভাবেই বেড়ে ওঠছে দখলদারের সংখ্যা। সেইসঙ্গে তালিকাভুক্ত দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়ারও পরামর্শ দিয়েছেন অনেকেই। তারা বলছেন, সরকারি জমি বা নদী দখলের অপরাধে আইনি ব্যবস্থায় দখলদারদের জেল জরিমানার যে বিধান রয়েছে বিভিন্ন আইনে তা নিশ্চিত করা গেলে দখলের মাত্রা কমে আসতে পারে। সেইসঙ্গে রাজনৈতিকভাবেও দখলদারদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের। কমিশনের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজনৈতিক সহযোগিতার অভাবে প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে অনেক সময় আইন প্রয়োগ কঠিন হয়ে যায়। এজন্য রাজনৈতিক সমর্থন জরুরি বলেও মনে করেন তারা। কমিশন সূত্রে আরো জানা গেছে, দেশ থেকে হারিয়ে গেছে ১৯ হাজার কিলোমিটার নৌপথ। দেশে একসময় ২৪ হাজার কিলোমিটার নদীপথ ছিল। দখল, দূষণ ও ভরাটে হারিয়ে গেছে ১৯ হাজার কিলোমিটার নৌপথ। বর্তমানে পাঁচ হাজার কিলোমিটারেরও কম নদীপথে চলছে নৌযান। সারা দেশে ৫৩টি রুটের ১২ হাজার কিলোমিটার নৌপথ খননের জন্য ২০১২ সালে ১১ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্প গ্রহণ করে অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। প্রাথমিক পর্যায়ে ২৪টি রুটে এক হাজার ২৪ কিলোমিটার নৌপথ খননের কাজ ২০২১ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। গত আট বছরে ৭৫ শতাংশ নদী খনন শেষ হয়েছে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..