চিনিকল খুলে আধুনিকায়ন কর দুর্নীতি-ভুলনীতি-অনিয়ম দূর কর

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা প্রতিবেদক : সরকারি নির্দেশে ছয়টি চিনিকল বন্ধ ঘোষণার প্রতিবাদে গত ১০-১২ জানুয়ারি বাম গণতান্ত্রিক জোটের প্রতিনিধিদল বন্ধ ছয়টিসহ নয় জেলায় দশটি চিনিকল ও আখচাষ এলাকায় ঝটিকা সফর করে। পরে ১৭ জানুয়ারি পুরানা পল্টনের মুক্তি ভবনের মৈত্রী মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে ওই সফরের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে জোট সমন্বয়ক ও সিপিবি’র প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন লিখিত বক্তব্য রাখেন। পরে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বজলুর রশীদ ফিরোজও নানান প্রসঙ্গে কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলন পরিচালনা করেন ইউসিএলবি’র নজরুল ইসলাম। উপস্থিত ছিলেন বাসদ (মার্কসবাদী)’র কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মানস নন্দী, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, গণসংহতি আন্দোলনের সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য বাচ্চু ভুইয়া, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের সভাপতি হামিদুল হক। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, করোনাকালে গত বছরের জুলাই মাসে আওয়ামী সরকার ৫০ হাজার শ্রমিক ও লাখ লাখ পাটচাষির জীবন জীবিকার কথা বিবেচনায় না নিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত ২৫টি পাটকল বন্ধ করে দিয়েছে। করোনাকালেই আখচাষি ও চিনিকল শ্রমিকদের অনিশ্চয়তায় ঠেলে দিয়ে সরকার রাষ্ট্রায়ত্ত ১৫ চিনিকলের মধ্যে ছয়টি চিনিকল বন্ধ করে দিয়েছে। ঝটিকা সফরকালে চিনিকলগুলোর শ্রমিক ও সংশ্লিষ্ট মিলের সাথে যুক্ত আখচাষিরা বিভিন্ন বিষয়ে তাদের যে বক্তব্য তুলে ধরেন সেগুলো উপস্থাপন করে বলা হয় চিনিকলের লোকসানের জন্য কৃষক-শ্রমিকদের দায়ি করার কোন সুযোগ নাই। এর জন্য দায়ি সরকার ও প্রশাসনের অনিয়ম, ভুলনীতি ও দুর্নীতি। লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, বিক্রয় মূল্য থেকে উৎপাদন ব্যয় বেশি হলে লোকসান হবে এটা অর্থনীতির সাধারণ সূত্র। উৎপাদন ব্যয় বেশি হওয়ার কারণগুলো হচ্ছে- আখের অপর্যাপ্ত সরবরাহ, অন্যান্য উৎপাদনকারী দেশের তুলনায় একর প্রতি আখের ফলন অনেক কম, পুরাতন প্রযুক্তি ও মেশিনের কারণে আখ থেকে চিনি আহরণ হার (রিকভারি রেট) অন্যান্য উৎপাদনকারী দেশের তুলনায় প্রায় অর্ধেক, পণ্যের বহুমুখীকরণের ক্ষেত্রে উদ্যোগহীনতা, চিনি বিপণনের ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতামূলক হতে না পারা, আখ কেনা থেকে শুরু করে চিনি উৎপাদন ও বিপণন পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রে সীমাহীন দুর্নীতি, প্রশাসনিক ব্যর্থতায় বেড়ে ওঠা পাহাড়সম ব্যাংকঋণ ও তার সুদ, অপ্রয়োজনীয় জনবলের বেতনভাতা। লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, বাৎসরিক চাহিদা ২০ লাখ টন ধরলে বাংলাদেশে চিনির বাজার হচ্ছে ১৩ হাজার কোটি টাকার। বর্তমানে পাঁচটি বেসরকারি গ্রুপ রিফাইনারি কারখানা প্রতিষ্ঠা করে বিদেশ থেকে অপরিশোধিত চিনি আমদানি করে পরিশোধন করে বিভিন্ন ব্র্যান্ডে বাজারজাত করছে। এরা আখিচাষিদের কাছ থেকে এক কেজিও আখ কিনবে না। ফলে আখচাষ শেষ হয়ে যাবে। পাঁচ লাখ আখচাষি নিঃস্ব হবে। বাংলাদেশের চিনিখাত হয়ে পড়বে বিদেশনির্ভর। আর তা নিয়ন্ত্রণ করবে চিনি ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট। সংবাদ সম্মেলনে বাম নেতারা বলেন, বিশ্ব ব্যাংক- আইএমএফ নির্দেশিত নয়া উদরবাদী পথে হাঁটছে সরকার। নয়া উদারবাদী নীতির কারণে বিরাষ্ট্রীয়করণই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য। তথাকথিত মুক্তবাজার নীতির কারণে সরকার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানসমূহ নামমাত্র দামে ব্যক্তিমালিকানায় দিয়ে দিচ্ছে। তাদের দলীয় লোক ও কর্পোরেট বন্ধুদের হাতে তুলে দিচ্ছে জনগণের সম্পত্তি। সরকার প্রথম দফায় ৬টি চিনিকল এবং পর্যায়ক্রমে সকল চিনিকল বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরবর্তীতে সেগুলো তুলে দেয়া হবে ব্যক্তিমালিকানায়। এভাবেই পরিসমাপ্তি ঘটবে রাষ্ট্রায়ত্ত চিনি শিল্প খাতের। চিনি শিল্প রক্ষার জন্য বাম গণতান্ত্রিক জোটের পক্ষ থেকে পাঁচ দফা সুপারিশ তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে চিনিকল, পাটকলসহ সকল রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিরাষ্ট্রীয়করণের বিরুদ্ধে সকল বাম-প্রগতিশীল দেশপ্রেমিক গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল, ব্যক্তি, গোষ্ঠীকে ঐক্যবদ্ধ গণআন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..