পাটকল রক্ষায় সম্মিলিত নাগরিক পরিষদ

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
খালিশপুরে সমাবেশ পাটকল চালু ও বকেয়া পরিশোধ করা না হলে কঠোর আন্দোলনের হুমকি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল-চিনিকল বিরাষ্ট্রীয়করণের সিদ্ধান্ত বাতিল ও আধুনিকায়ন, আলীম জুট মিলের শ্রমিকদের ৬৪ সপ্তাহের বিলসহ বকেয়া সকল পাওনা পরিশোধ, দৈনিকভিত্তিক, বদলীসহ শ্রমিকদের উৎসব বোনাসসহ সকল বকেয়া পরিশোধ, বকেয়া ৬ সপ্তাহের মজুরী ও ইনক্রিমেন্টসহ জুলাই মাসের ২ দিনের মজুরী পরিশোধ এবং পাটকল রক্ষা আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের নামে দায়েরকৃত ষড়যন্ত্রমূলক মামলা প্রত্যাহারসহ ১৪ দফা দাবিতে পাটকল রক্ষায় সম্মিলিত নাগরিক পরিষদ-এর উদ্যোগে গত ১১ জানুয়ারি বিকেল ৪টায় খালিশপুর জুট মিলের প্রধান ফটকের সামনে গেট সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক ও বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি (মার্কসবাদী) খুলনা জেলা সভাপতি শ্রমিকনেতা মোজাম্মেল হক খান এবং সঞ্চালনা করেন পরিষদের সদস্য সচিব ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) কেন্দ্রীয় সদস্য এস এ রশীদ। বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন- সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাড. আ ফ ম মহসিন, বাম গণতান্ত্রিক জোট ও গণসংহতি আন্দোলন খুলনা জেলা সমন্বয়ক মুনীর চৌধুরী সোহেল, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক (বাসদ) খুলনা জেলা সমন্বয়ক জনার্দন দত্ত নান্টু, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) খুলনা মহানগর সভাপতি এইচ এম শাহাদাৎ, সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. মোঃ বাবুল হাওলাদার, নারী নেত্রী সুতপা বেদজ্ঞ, সিপিবি নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা নিতাই পাল, ওয়ার্কার্স পার্টি (মার্কসবাদী) খুলনা জেলা নেতা আ. জলিল মল্লিক, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট খুলনা জেলা সাধারণ সম্পাদক আবদুল করিম, বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন খুলনা জেলা সভাপতি অ্যাড. নিত্যানন্দ ঢালী, টিইউসি মহানগর সভাপতি রঙ্গলাল মৃধা, সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাবু, জেলা সহ-সভাপতি রুস্তম আলী হাওলাদার, খালিশপুর থানা নেতা মিজানুর রহমান স্বপন, কৃষক সমিতির খুলনা জেলা সহ-সভাপতি শেখ আব্দুল হান্নান, গণসংহতি আন্দোলন খালিশপুর থানা আহ্বায়ক আলমগীর হোসেন লিটু, জেলা যুব ইউনিয়ন নেতা শেখ রবিউল ইসলাম রবি, মহানগর আহ্বায়ক আফজাল হোসেন রাজু, সাবেক ছাত্র ইউনিয়ন নেতা কে এম হুমায়ুন কবির, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট খুলনা জেলা সভাপতি সনজিত মণ্ডল, ছাত্র ফেডারেশন খুলনা মহানগর আহ্বায়ক আল আমিন শেখ, সম্পাদক অনিক ইসলাম, ছাত্র ইউনিয়ন জেলা নেতা সবুজ হোসেন দুর্জয়, শ্রমিকনেতা সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর শামসেদ আলম শমসের, বদলী শ্রমিকনেতা আবদুর রাজ্জাক তালুকদার, কাজী মাহামুদ মিন্টু, ইলিয়াস হোসেন, রিপন সরদার, শামস শারফিন শ্যামন, মো. নওশের আলী, রানা মল্লিক প্রমুখ। সমাবেশে বক্তারা বলেন, ক্ষমতাসীন দুঃশাসক ফ্যাসিবাদী সরকার লোকসানের খোঁড়াযুক্তি দেখিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ব মালিকানাধীন ২৫টি পাটকল বন্ধ করে দিয়েছে। সরকার শ্রমিকদের কর্মহীন করে চরম নিষ্ঠুর খেলায় মেতেছে। স্বাধীনতার ৪৯ বছরে পাটকলের যে-লোকসান তা নিরাপরাধ শ্রমিকদের নয়। বর্তমান ও বিগত সকল সরকারের দুর্নীতিবাজ আমলাদের সৃষ্ট অবাধ লুন্ঠন-দুর্নীতি ও লুটপাটের ফলে এই ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। বিজেএমসি ও মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতি-ভ্রান্তনীতি-লুটপাট ও মাথাভারী প্রশাসনের কারণে পাটকলে লোকসান হচ্ছে। তাদের এই লোকসানের দায় নির্দয় ও নিষ্ঠুরভাবে শ্রমিকদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার খেলা বন্ধ করতে হবে। বক্তারা আরো বলেন, পাটকল বন্ধের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে পাটশিল্পের সাথে যুক্ত প্রায় ৩ কোটি মানুষ। পাটকল বন্ধ হওয়ায় রাষ্ট্রায়ত্ব পাটকল আর পাট ক্রয় করবে না। এই সুযোগে ব্যক্তিমালিকানাধীন পাটকলগুলো সিন্ডিকেট করে যথেচ্ছভাবে পাটের দাম নিয়ন্ত্রণ করবে। এতে করে পাটচাষীরা পাটের প্রকৃত মূল্য থেকে বঞ্চিত হবে। পাটকল বন্ধ হওয়ায় ভারতে কাঁচা পাট পাচার আরো বৃদ্ধি পাবে। বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্থ হবে। অথচ বাংলাদেশ সরকার এক সময় এই পাটপণ্য বিদেশে রফতানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতো। বক্তারা বলেন, দুর্নীতি-লুটপাট-লুণ্ঠন ও অর্থ পাচারের ক্ষেত্রে গণবিরোধীদের ঐক্য থাকে অটুট। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার বিগত জোট সরকারের শ্রমিক স্বার্থবিরোধী পথে হাঁটছে। বন্ধকৃত রাষ্ট্রায়ত্ব ২৫টি পাটকল আধুনিকায়নের জন্য প্রয়োজন ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা। এই টাকা ভর্তুকি না দিয়ে গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের (সোনালী করমর্দন) জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ৫ হাজার কোটি টাকা। অতীতেও এ রকম ঘটনা ঘটেছিল ২০০২ সালে। তখন বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের আমলে এশিয়ার বিখ্যাত আদমজী পাটকল বন্ধ করে দেয়া হয়। তখন আদমজী পাটকল আধুনিকায়নের জন্য প্রয়োজন ছিল মাত্র ২০০ কোটি টাকা। অথচ তৎকালীন জোট সরকার বিশ্বব্যাংকের পরামর্শে ১৩শ কোটি টাকা ব্যয় করেছিল পাটকল বন্ধের জন্য। এর আগে নাগরিক পরিষদের গেট সমাবেশ সফলের লক্ষ্যে গত ১০ জানুয়ারি খালিশপুর-আটরা-রাজঘাট শিল্পাঞ্চলে গণসংযোগ করা হয়। প্লাটিনাম গেট, ক্রিসেন্ট গেট, পিপলস গেট, চিত্রালী, লিবার্টি, অস্থায়ী শ্রমিক নিবাস এলাকায় প্রচারপত্র বিলি, গণসংযোগ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন- পরিষদের সদস্য সচিব এস এ রশীদ, যুগ্ম আহ্বায়ক জনার্দন দত্ত নান্টু, মুনীর চৌধুরী সোহেল, আবদুল করিম, আবদুর রাজ্জাক হাওলাদার, হারুন অর রশীদ, কাজী মাহামুদ মিন্টু, নেতা শেখ রবিউল ইসলাম রবি প্রমুখ। অপরদিকে ফুলতলা উপজেলায় আটরা শিল্প এলাকায় প্রচারপত্র বিলি, গণসংযোগ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন- মোজাম্মেল হক খান, গাজী নওশের আলী, মোঃ অলিয়ার রহমান, আব্দুস সাত্তার গাজী, সুলতান মাহমুদ, গাজী আফজাল হোসেন। অন্যদিকে রাজঘাট শিল্প এলাকায় প্রচারপত্র বিলি, গণসংযোগকালে উপস্থিত ছিলেন- শ্রমিকনেতা ও সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর শামসেদ আলম শমসের, নজরুল ইসলাম মল্লিক, শামস শারফিন শ্যামন, রবিউল ইসলাম সরদার, মোঃ নওশের আলী, রানা মল্লিক প্রমুখ। বিজ্ঞপ্তি আলীম জুট মিলস শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধের দাবিতে সভা রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল চালু এবং আলীম জুট মিলস্ শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের দাবিতে গত ৩০ ডিসেম্বর বেলা ১টায় পাটকল রক্ষায় সম্মিলিত নাগরিক পরিষদ, খুলনা’র এক সভা সংগঠনের অস্থায়ী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের আহ্বায়ক অ্যাড. কুদরত-ই-খুদা এবং সঞ্চালনা করেন সদস্য সচিব এস এ রশীদ। সভায় বক্তব্য রাখেন– সিপিবি কেন্দ্রীয় সদস্য ও খুলনা জেলা সভাপতি ডাঃ মনোজ দাশ, বাসদ খুলনা জেলা সমন্বয়ক জনার্দন দত্ত নাণ্টু, ওয়ার্কার্স পার্টি (মার্কসবাদী) খুলনা জেলা সভাপতি মোজাম্মেল হক খান, গণসংহতি আন্দোলন খুলনা জেলা সমন্বয়ক মুনীর চৌধুরী সোহেল, সিপিবি জেলা সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. এম এম রুহুল আমিন, মহানগর সভাপতি এইচ এম শাহাদাৎ, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট খুলনা জেলা সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম, যুব ইউনিয়ন নেতা শেখ রবিউল ইসলাম রবি, ছাত্র ফেডারেশন খুলনা মহানগর আহ্বায়ক আল আমিন শেখ, শ্রমিকনেতা শামসেদ আলম শমশের, শামস শারফিন শ্যামন প্রমুখ। বিজ্ঞপ্তি

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..