রাষ্ট্রীয় চিনিকল বন্ধ নয় আধুনিকায়ন করে চালুর দাবি

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

শ্যামপুর চিনিকল রক্ষায় রংপুরে চলছে লাগাতার কর্মসূচি
একতা প্রতিবেদক : রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলসমূহ বন্ধ করে দেয়ার পর সরকারি নির্দেশে রাষ্ট্রায়ত্ত ৬টি চিনিকল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি বেসরকারি মালিকদের হাতে তুলে দেয়ার সরকারের গণবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে বাম গণতান্ত্রিক জোটের ১০-১২ জানুয়ারি ৩ দিনব্যাপী চিনিকল বন্ধের প্রতিবাদে ঝটিকা সফর আগামীকাল শুরু হবে। এ ঝটিকা সফরে বাম জোটের নেতৃবৃন্দ কুষ্টিয়া, পাবনা, গাইবান্ধা, রংপুর, দিনাজপুর, পঞ্চগড় জেলার সরকার কর্তৃক বন্ধ ঘোষিত ৬টি চিনিকল সফর করবেন। সফরকালে নেতৃবৃন্দ চিনিকল শ্রমিক ও আখচাষিদের সাথে মতবিনিময় করবেন। সেখানে তারা গণসংযোগ ও পথসভায় অংশ নিবেন। ঝটিকা সফরে বাম গণতান্ত্রিক জোটের প্রতিনিধি দলে ছিলেন জোট সমন্বয়ক ও সিপিবি প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন, বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বজলুর রশীদ ফিরোজ, বাসদ (মার্কসবাদী)’র কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ফখরুদ্দিন কবীর আতিক, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরোর সদস্য আনসার আলী দুলাল, ইউসিএলবি’র নেতা নজরুল ইসলাম, গণসংহতি আন্দোলনের দীপক রায় ও গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির শহীদুল ইসলাম সবুজ। গণসংযোগ ও পথসভায় বাম জোটের নেতারা বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত ১৫টি চিনিকল বন্ধ করার ষড়যন্ত্র চলছে। কৃষকরা আখ উৎপাদন করে যখন চিনিকলগুলোতে আখ বিক্রি করার প্রস্তুতি নিচ্ছে ঠিক তখনি ছয়টি চিনিকলের চলতি মৌসুমে আখ মাড়াই বন্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। বাকি ৯টি কলের আখ মাড়াইয়ের সময়সীমাও কমিয়ে দিয়েছে। চলতি মৌসুমে সীমিতভাবে আখ মাড়াই চললেও পর্যায়ক্রমে রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলো বন্ধ ঘোষণার পাঁয়তারা চলছে। বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিনের পুরাতন যন্ত্রপাতি, অদক্ষ লোকবল, চিনিকল ব্যবস্থাপনার ব্যয় বৃদ্ধি, সীমাহীন দুর্নীতি-লুটপাট-অবহেলা, আখচাষিদের উন্নত জাতের বীজ-সার প্রশিক্ষণ-প্রণোদনা না দেয়া, উৎপাদিত চিনি বাজারে ব্যবস্থায় কোনো পরিকল্পনা না থাকায় চিনি উৎপাদনে চিনিকলগুলো অনেকদিন ধরে লোকসান দিচ্ছে। চিনিকলগুলো চিনি ছাড়াও বাইপ্রোডাক্ট হিসেবে অ্যালকোহল, রেক্টিফায়েড স্পিরিট, চিটাগুড়, সেনিটাইজার, জৈব সারসহ বিভিন্ন উপাদান উৎপাদন করে ব্যাপক লাভবান হচ্ছে। শুধুমাত্র চিনি উৎপাদনে লোকসানের অজুহাতে সরকার এ ১৫টি চিনিকল বন্ধ করে ব্যক্তি খাতে দিয়ে দেয়ার পাঁয়তারা করছে। বক্তারা আখচাষি ও শ্রমিক-কর্মচারীদের বকেয়া পাওনা পরিশোধ করে চলতি মৌসুমে নগদ মূল্যে আখ ক্রয় এবং সরকারি সকল চিনিকল সারা বছর চালু রাখা, উন্নত প্রযুক্তি-পদ্ধতিতে লাভজনক করার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা এবং ব্যবস্থাপনার ব্যয় বৃদ্ধি-দুর্নীতি-লুটপাট বন্ধ করে অবিলম্বে চিনিকল খুলে দেয়ার দাবি জানান।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..