লুটেরা ধনিকদের লোলুপ দৃষ্টি থেকে চিনিকল বাঁচাতে হবে

আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
ঘোর করোনাকালে গত বছরের জুলাই মাসে আওয়ামীজোট সরকার পঞ্চাশ হাজার শ্রমিক ও লাখ লাখ পাটচাষির জীবন-জীবিকার কথা বিবেচনায় না নিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত পঁচিশটি পাটকল বন্ধ করে দিয়েছিল। করোনাকালেই একই কায়দায় আখচাষি ও চিনিকল শ্রমিকদের কথা বিবেচনা না করে সরকার রাষ্ট্রায়ত্ত পনেরটি চিনিকলের মধ্যে কুষ্টিয়া, পাবনা, রংপুর (গাইবান্ধা), শ্যামপুর (রংপুর), সেতাবগঞ্জ (দিনাজপুর), পঞ্চগড় এই ছয়টি চিনিকল লোকসানের অজুহাত দিয়ে বন্ধ করে দিয়েছে। গত পহেলা ডিসেম্বর বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশনের নির্দেশনায় এই ছয়টি চিনিকলে ২০২০-২১ অর্থবছরে আখ মাড়াই বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় মালিকানায় মোট আঠারোটি চিনিকল ছিল। ইতোমধ্যে তিনটি চিনিকল বেসরকারিকরণ করা হয়েছে। বর্তমানে রাষ্ট্রীয় মালিকানায় পনেরটি চিনিকল রয়েছে। এর তিনটা ব্রিটিশ আমলে, নয়টা পাকিস্তান আমলে এবং তিনটা বাংলাদেশ আমলে প্রতিষ্ঠিত হয়। পনেরটি চিনিকলের মালিকানায় রয়েছে ১৯ হাজার ৯৬ একর জমি। এ পনেরটি চিনিকলে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশনের অনুমোদিত জনবলের সংখ্যা ১৬ হাজার ২৩৫ জন থাকলেও বর্তমানে কর্মরত রয়েছে ৯ হাজার ০১৬ জন। এর মধ্যে কর্মকর্তা ৭১৪, কর্মচারী ৪ হাজার ৪০১ এবং শ্রমিক ৩ হাজার ৯০১ জন। বন্ধকৃত ছয়টি চিনিকলে স্থায়ী কর্মচারী ও শ্রমিকের সংখ্যা ২ হাজার ৮৮৪ জন। দেশের বাজারে বছরে চিনির চাহিদা ২০ লাখ টন। রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানাগুলোয় ২ লাখ ১০ হাজার ৪৪০ টন উৎপাদন ক্ষমতার বিপরীতে ২০১৯-২০ মাড়াই মৌসুমে মাত্র ৮২ হাজার ১৪০ টন চিনি উৎপাদন হয়েছে। চিনিকলগুলোতে গত ছয় মাস ধরে মজুরি বন্ধ রয়েছে। মাসের পর মাস ধরে কৃষকরা তাদের বিল পাচ্ছে না। পাটকলের মত সবগুলো চিনিকল বন্ধ করে দেয়ার দুষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে সরকার এগিয়ে যাচ্ছে। এমতাবস্থায় বাম গণতান্ত্রিক জোটের প্রতিনিধিদল চিনিকলসমূহ বন্ধ না করে আধুনিকায়ন করে চালু রাখার দাবিতে গত ১০-১২ জানুয়ারি তিনদিনব্যাপি বন্ধকৃত ছয়টিসহ নয়টি জেলার দশটি চিনিকলে ‘ঝটিকা সফর’ করেছে। ঝটিকা সফরকালে নেতৃবৃন্দ চিনিকল শ্রমিক, আখচাষি ও স্থানীয় জনগণের সাথে মতবিনিময় করেছেন, পথসভা-জনসভায় অংশ নিয়েছেন। বাম গণতান্ত্রিক জোটের প্রতিনিধিদলে ছিলেন জোট সমন্বয়ক সিপিবি’র প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন, বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড বজলুর রশীদ ফিরোজ, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরোর সদস্য কমরেড আনছার আলী দুলাল, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড নজরুল ইসলাম, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির কমরেড শহীদুল ইসলাম সবুজ, গণসংহতি আন্দোলনের দীপক রায়, বাসদ (মার্কসবাদী)’র কমরেড শেখর রায়, ওয়ার্কার্স পার্টি (মার্কসবাদী)’র মৃণাল কান্তি বর্মণ। সেতাবগঞ্জ চিনিকলের সভায় যোগ দিয়েছিলেন ইউসিএলবি’র সাধারণ সম্পাদক কমরেড মোশাররফ হোসেন নান্নু। আখচাষি ও চিনিকল শ্রমিকদের যত অভিযোগ চিনিকল এলাকায় আখচাষি ও শ্রমিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তারা একটি দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশনের সাবেক চেয়ারম্যান জনাব সনৎ কুমার সাহার সাক্ষাৎকারের উদ্বৃতি দিয়ে প্রতিনিধিদলকে জানিয়েছেন, চিনিকলের খামারে এক কেজি আখের উৎপাদন ব্যয় ৬.৬১ টাকা আর কৃষক সেটা চিনিকলের কাছে বিক্রি করে ৩.৫০ টাকায়। প্রতি কেজিতে কৃষকের ক্ষতি ৩.১১ টাকা। তারা কারখানা সূত্রে প্রাপ্ত আরেকটা হিসাব প্রতিনিধিদলের সামনে উপস্থাপন করে জানতে চেয়েছেন চিনিকলসমূহে যে লোকসানের কথা বলা হয় তার দায় কার? এক মণ আখ থেকে সাড়ে তিন কেজি চিনি, ছয় কেজি মোলাসেস, চৌদ্দ কেজি ব্যাগাসে, দুই কেজি প্রেসমাড উৎপাদিত হয়। যাদের বাজার মূল্য ২১০, ১৬২, ৭০ ও ২০ টাকা। সর্বসাকুল্যে ৪৬২ টাকা। এক মণ আখের জন্য কৃষক পায় মাত্র ১৪০ টাকা। ৩২২ টাকা উদ্বৃত্ত পায় চিনিকল। কৃষক-শ্রমিকদের প্রশ্ন তাহলে লোকসান হয় কেন? সেতাবগঞ্জ চিনিকল সফরের সময় শ্রমিকরা কারখানার অপ্রয়োজনীয় মাথাভারী প্রশাসনের কথা উল্লেখ করেন। তারা বলেন, সেতাবগঞ্জ ও গোপালপুর চিনিকল দুটি একই মালিক ১৯৩৩ সালে স্থাপন করেছিলেন এবং একজন ব্যবস্থাপকই যথেষ্ট ছিল কারখানা পরিচালনার জন্য। এখন প্রতিটি কারখানায় একজন এমডি, একাধিক জিএম, ডিজিএমসহ বিরাট মাথাভারী প্রশাসন চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। মাসে শ্রমিকদের মজুরি যা আসে তার তিন/চার গুণ বেশি বেতন দিতে হয় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। সেতাবগঞ্জের শ্রমিকরা আড়াই কোটি টাকায় ভারত থেকে আমদানিকৃত একটি মেশিন দেখিয়ে বলেন দুইজন ভারতীয় প্রকৌশলী দীর্ঘদিন অবস্থান করেও এক মুহূর্তের জন্য মেশিনটি চালু করতে পারেনি। কিন্তু এর আমদানি ব্যয়ের ব্যাংকসুদ প্রতিদিন গুণতে হচ্ছে। প্রতিনিধিদলের সাথে মতবিনিময়কালে কৃষক-শ্রমিকরা আগামী মৌসুমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সবগুলো চিনিকল বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশংকা ব্যক্ত করেন। তারা বলেন, প্রতিবছর সেপ্টেম্বর মাসে আগামী বছরের আখ চাষের জন্য চিনিকল থেকে যে বীজ, সার, কীটনাশক ও ঋণ দেয়া হয় এ বছর কোনো চিনিকল থেকেই আখচাষিদের সেই প্রণোদনাগুলো সরবরাহ করা হয়নি। ফলশ্রুতিতে কৃষকদের মধ্যে আশংকা বিরাজ করায় এ বছর আখ চাষে ব্যাপক বিপর্যয় ঘটবে। আখের অপর্যাপ্ততার কারণে চিনিকলগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবেই বন্ধ হয়ে যাবে। সরকারের নতুন করে নির্দেশনার প্রয়োজন হবে না। কর্পোরেশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঠাকুরগাঁও চিনিকল বন্ধ হয়ে যাওয়া পঞ্চগড় ও সেতাবগঞ্জ চিনিকল সংলগ্ন এলাকা থেকে আখ এনে মাড়াই করবে, জয়পুরহাট চিনিকল আখ আনবে শ্যামপুর ও রংপুর থেকে, নর্থ বেঙ্গল চিনিকল আনবে পাবনা থেকে, মোবারকগঞ্জ, কেরু, ও ফরিদপুর চিনিকল আনবে কুষ্টিয়া থেকে। সরকারি সিদ্ধান্তে আখচাষিরা আশংকা ব্যক্ত করে বলেন এতে চিনি আহরণ হার (রিকভারী রেট) অনেক কমে যাবে। এর সাথে পরিবহণ খরচ যোগ হলে উৎপাদন খরচ আরো বেড়ে গিয়ে লোকসান আরো বাড়বে। আখচাষিরা বলেছেন তাদেরকে দেওয়া ঋণ সুদসহ ৯৯ শতাংশ আদায় হয়। আখচাষিরা এ পর্যন্ত ৬ হাজার কোটি টাকা পরিশোধ করলেও চিনিকলগুলোর কর্তৃপক্ষ ব্যাংকের ঋণ শোধ না করে নানা অজুহাতে ঋণের টাকা ব্যয় করেছে। ফলে ব্যাংক ঋণের বোঝা দিন দিন বাড়ছে। লোকসানের দায় কার? সরকারের হিসাবে গত অর্থবছরে ৯৭০ কোটি টাকা লোকসান দিয়েছে চিনিকলগুলো। সে লোকসানের দায় শ্রমিক-কৃষকদের উপর চাপিয়ে দিয়ে কারখানা বন্ধের যুক্তি তৈরি করছে সরকার। আখচাষিদের ভাষ্যমতে তারা উৎপাদন ব্যয়ের চেয়ে কমদামে অর্থাৎ লোকসানে চিনিকলগুলোকে আখ সরবরাহ করে। তাহলে রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলোতে লোকসানের উৎস কোথায়? এবং এর জন্য দায়ী কারা? সাম্প্রতিককালে একটি দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদসূত্রে দেখা যাচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলোর সংকটের একটা বড় কারণ হলো চিনির উৎপাদন খরচ আমদানি করা চিনির বাজারদরের তুলনায় অনেক বেশি। এই উৎপাদন ব্যয়ের একটা বড় অংশ আবার ঋণের সুদ। যেমন, রংপুর চিনিকলে প্রতি কেজি চিনি উৎপাদনে গত মৌসুমে খরচ হয়েছে ১৮৬ টাকা ২৪ পয়সা। এই চিনিকলের ১৫৮ কোটি টাকা ব্যাংকঋণ আছে। এর সুদ হিসাব করলে প্রতিকেজি চিনি উৎপাদনের খরচ দাঁড়ায় ৩১১ টাকা ৯৭ পয়সা। সেই চিনি বিক্রি হয়েছে মাত্র ৫৩ টাকা ৩৫ পয়সা কেজি দরে। পঞ্চগড় চিনিকলে গত মৌসুমে ব্যাংক সুদসহ প্রতি কেজি চিনির উৎপাদন খরচ ছিল ৩০২ টাকা। একইভাবে প্রতি কেজি উৎপাদনে কুষ্টিয়ায় ২৭৩, শ্যামপুরে ২৬২, সেতাবগঞ্জে ২৪৯ এবং পাবনায় ১৭৮ টাকা ব্যয় হয়েছে। আর বিক্রি হয়েছে ৫৩ থেকে ৫৭ টাকা কেজি দরে। বিক্রয় মূল্য থেকে উৎপাদন ব্যয় বেশি হলে লোকসান হবে এটা অর্থনীতির সাধারণ সূত্র। বিশেষজ্ঞদের মতে উৎপাদন ব্যয় বেশি হওয়ার কারণগুলো হচ্ছে- আখের অপর্যাপ্ত সরবরাহ, অন্যান্য উৎপাদনকারী দেশের তুলনায় একর প্রতি আখের ফলন অনেক কম, পুরাতন প্রযুক্তি ও মেশিনের কারণে আখ থেকে চিনি আহরণ হার (রিকভারি রেট) অন্যান্য উৎপাদনকারী দেশের তুলনায় প্রায় অর্ধেক, পণ্যের বহুমুখীকরণের ক্ষেত্রে উদ্যোগহীনতা, চিনি বিপণনের ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতামূলক হতে না পারা, আখ কেনা থেকে শুরু করে চিনি উৎপাদন ও বিপণন পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রে সীমাহীন দুর্নীতি, প্রশাসনিক ব্যর্থতায় বেড়ে ওঠা পাহাড়সম ব্যাংকঋণ ও তার সুদ, অপ্রয়োজনীয় জনবলের বেতনভাতা প্রভৃতি। নিশ্চিত করে বলা যায় উপরের কারণগুলোর জন্য কৃষক-শ্রমিকদের দায়ী করার সুযোগ নাই। এর জন্য দায়ী সরকার ও প্রশ্রাসনের ভুলনীতি ও দুর্নীতি। বাৎসরিক চাহিদা ২০ লাখ টন ধরলে বাংলাদেশে চিনির বাজার হচ্ছে ১৩ হাজার কোটি টাকার। বর্তমানে পাঁচটি বেসরকারি গ্রুপ রিফাইনারি কারখানা প্রতিষ্ঠা করে বিদেশ থেকে অপরিশোধিত চিনি আমদানি করে পরিশোধন করে বিভিন্ন ব্র্যান্ডে বাজারজাত করছে। এরা আখিচাষিদের কাছ থেকে এক কেজি আখ কিনবে না। ফলে আখচাষ শেষ হয়ে যাবে। পাঁচ লাখ আখচাষি নিঃস্ব হবে। বাংলাদেশের চিনিখাত হয়ে পড়বে বিদেশনির্ভর। আর তা নিয়ন্ত্রণ করবে কতিপয়ের চিনি সিন্ডিকেট। বাংলাদেশের আপামর ভোক্তারা চিরতরে অসহায় হয়ে পড়বে। বিরাষ্ট্রীয়করণই সরকারের প্রধান লক্ষ্য বিশ্ব ব্যাংক-আইএমএফ নির্দেশিত নয়া উদারবাদী পথে হাঁটছে সরকার। নয়া উদারবাদী নীতির কারণে বিরাষ্ট্রীয়করণ এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য। তথাকথিত মুক্তবাজার নীতির কারণে সরকার নিজের মালিকানায় থাকা প্রতিষ্ঠানসমূহ ব্যক্তিমালিকানায় দিয়ে দিচ্ছে। সরকার তাদের কর্পোরেট বন্ধুদের হাতে তুলে দিচ্ছে জনগণের সম্পত্তি। গত পঞ্চাশ বছর ধরে ক্ষমতাসীন সরকারগুলোর অব্যবস্থাপনা, অদক্ষতা, দুর্নীতির কারণে নিঃস্বপ্রায় প্রতিষ্ঠানের সম্পদগুলো তুলে দেয়া হচ্ছে ব্যক্তি মালিকদের হাতে। যা মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধপূর্ব মুক্তিসংগ্রামে জাতির কাছে দেয়া অঙ্গীকারের বরখেলাপ। জাতির প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা। সরকারের লক্ষ্য যেহেতু বিদ্যমান চিনিকলগুলোকে বিরাষ্ট্রীয়করণ করা, সেহেতু চিনিকলগুলোকে চলতি মূলধনের যোগান, কৃষককে সময়মতো আখের মূল্য পরিশোধ করা, চিনিসমৃদ্ধ আখের জাত উদ্ভাবন ও সংগ্রহ করা, লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী মিলে আখপ্রাপ্তি, ৮-১০ শতাংশ রিকভারিতে চিনি উৎপাদন নিশ্চিত করা, কারখানাগুলোর আধুনিকায়ন, পণ্যের বহুমুখীকরণ, দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও জনবল নিয়োগ, মাথাভারি প্রশাসনকে যৌক্তিকীকরণ না করে প্রথম দফায় চিনিকলগুলো বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরবর্তীতে সেগুলো তুলে দেয়া হবে ব্যক্তিমালিকানায়। এভাবেই পরিসমাপ্তি ঘটবে রাষ্ট্রায়ত্ত চিনি শিল্পের। শাসকশ্রেণির সাম্রাজ্যবাদ নির্ভর নয়া উদারবাদী নীতির লক্ষ্যই হচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠানসমূহ ব্যক্তিমালিকানায় দিয়ে দেয়া। সরকারের এ নীতি সরাসরি শ্রমিক-কৃষক-মেহনতি মানুষের উপর আক্রমণ। এ আক্রমণ কেবলমাত্র শ্রমিক আন্দোলন ও কৃষক আন্দোলন দিয়ে মোকাবিলা করা যাবে না। এ লড়াই জাতীয় সম্পদ রক্ষার লড়াই। জনগণের সম্পদ জনগণের মালিকানায় রাখার লড়াই। কতিপয় লুটেরা ধনিক ও তাদের অনুগ্রহভোগী রাজনৈতিকদের বিরুদ্ধে জনগণের লড়াই। সাম্রাজ্যবাদ ও লুটেরা শাসকগোষ্ঠীর স্বার্থরক্ষাকারী সরকারের গণবিরোধী নীতিকে রুখতে সর্বশক্তি নিয়োগ করে জাতীয় আন্দোলন গড়ে তোলাটা এখন সময়ের দাবি।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..