চট্টগ্রামে ব্রিটিশবিরোধী সংগ্রামের স্মৃতিবিজড়িত শতবর্ষী স্থাপনা দখলের চেষ্টা

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
চট্টগ্রাম সংবাদাতা : গত ৪ জানুয়ারি ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের স্মৃতি বিজড়িত যাত্রামোহন সেনগুপ্ত (জে এম সেন) এর শতবর্ষী ভবনের একাংশ যুবলীগ নামধারী একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী দখলের উদ্দেশ্যে বুলডোজার দিয়ে গুড়িয়ে দিয়েছে। মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইবুনালের প্রসিকিউটর রানা দাশগুপ্ত স্থানীয়দের নিয়ে ভবনটির সামনে অবস্থান নিলে প্রতিরোধের মুখে ভবনটি ভাঙ্গা বন্ধ হয়। পরে কয়েকঘন্টার বাদ-প্রতিবাদের পর জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেট গিয়ে বাড়িটি সিলগালা করে দেন। পরে এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট বাড়িটি ভাঙা যাবে না বলে আদেশ জারি করে। সর্বভারতীয় ভারতীয় কংগ্রেস নেতা যাত্রামোহন সেনগুপ্তের এই বাড়িটি ছিল ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম সূতিকাগার। আসাম-বেঙ্গল রেলওয়ে আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ, মহাত্মা গান্ধী, সুভাষ চন্দ্র বসু, শরৎ বসু, মোহাম্মদ আলী, শওকত আলী সহ বৃটিশবিরোধী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের পদচারণায় মুখরিত ছিল ভবনটি। যাত্রামোহন সেনগুপ্তের ছেলে দেশপ্রিয় যতীন্দ্রমোহন সেনগুপ্ত ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের নেতা সূর্য সেন, অনন্ত সিংহ, অম্বিকা চক্রবর্তীর হয়ে মামলা লড়েছিলেন। তিনি বৃটিশদের রোষানলে পড়ে ১৯৩৩ সালে কারাগারে মৃত্যুবরণ করেন। যতীন্দ্রমোহন সেনগুপ্তের স্ত্রী নেলী সেনগুপ্তা ১৯৭০ সালে চিকিৎসার জন্য ভারত যান। ফিরে এসে দেখেন তাঁর বাড়ি বেদখল হয়ে গেছে। পরে ১৯ গন্ডা এক কড়া পরিমাণ জমিটি শত্রুসম্পত্তি হিসাবে ঘোষিত হয়। পরে জেলা প্রাশাসন থেকে শামসুদ্দিন মোঃ ইসহাক নামে এক ব্যক্তি বাড়িটি ইজারা নিয়ে “বাংলা কলেজ” প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৭৫ সালে নাম বদলিয়ে “শিশুবাগ স্কুল” নামে মোঃ ইসহাকের সন্তানরা স্কুলটি পরিচালনা করে আসছিলেন। ৪ জানুয়ারি এই ভবনটি ভাঙার ঘটনায় এলাকাবাসী ফুঁসে উঠে ও ছাত্র ইউনিয়নসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রতিবাদ জানায়। তখন বুডোজার থেমে যায়। পরেরদিন ৫ জানুয়ারি আড়াইশ বছরের পুরানো ভবনটি রক্ষার দাবীতে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সংবাদ সংবাদ সম্মেলন করে চট্টগ্রাম ইতিহাস সংস্কৃতি সংরক্ষণ পরিষদ। এছাড়া যাত্রামোহন সেনের বাড়ি দখলের অপচেষ্টার প্রতিবাদে নিন্দাজ্ঞাপন করেছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, চট্টগ্রাম জেলা। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, চট্টগ্রাম জেলার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবদুন নবী ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক অশোক সাহা এক যৌথ বিবৃতিতে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত নেতৃবৃন্দ প্রশাসনের নিকট এই ঐতিহ্য রক্ষার দাবি জানান।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..