পরিস্থিতির কোনও উন্নতি হয়নি

ভারতের সুপ্রিম কোর্টের হতাশা প্রকাশ

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা বিদেশ ডেস্ক : নতুন কৃষি আইনের বিরুদ্ধে দিল্লি সীমান্তে অব্যাহত কৃষক বিক্ষোভে অচলাবস্থা তৈরি হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। আদালত বলেছেন, পরিস্থিতির কোনও ধরনের অগ্রগতিই হয়নি। প্রধান বিচারপতি এসএ বোবদে বলেছেন, আদালতের উদ্দেশ্য ছিলো সরকার ও কৃষকদের মধ্যে আলোচনা উৎসাহিত করা। এদিকে ৮ জানুয়ারি কেন্দ্রের সঙ্গে অষ্টম দফা বৈঠকের ঠিক আগে আজ হাজার হাজার কৃষকের ট্রাক্টর নিয়ে মিছিলে বেরিয়েছিলেন সিঙ্ঘু, টিকরি, গাজিপুর আর রেওয়াসান বর্ডার থেকে। ১৩৫ কিলোমিটার দীর্ঘ কু-লি-মানেসর-পালওয়াল (কেএমপি) এক্সপ্রেসওয়ের ছয় লেন জুড়ে ট্রাক্টর মিছিল বের হয়। সবমিলিয়ে সাড়ে তিন হাজারের উপর ট্রাক্টর, ট্রলি এদিনের মিছিলে ছিল। শুধু হরিয়ানা থেকেই আজ আড়াই হাজার ট্রাক্টর মিছিলে এসেছে। নয়া কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে ৮ জানুয়ারি উত্তাল হয়ে উঠেছে বিজেপি শাসিত আসাম। শ্রমিক-কৃষকের আইন অমান্য আন্দোলনে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে অসংখ্য রাস্তা। বিক্ষোভের মুখে পড়েন রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী। বিশ হাজারের অধিক আন্দোলনকারী এদিন গ্রেপ্তার বরণ করেন। সারা দেশের সঙ্গে এদিন আসামেও আইন অমান্য আন্দোলনের ডাক দেয় সারা ভারত কৃষকসভা ও সিআইটিইউ। দু’টি সংগঠনের আহ্বানে এদিন রাজ্যে ব্যাপক সাড়া পরিলক্ষিত হয়েছে। জেলায় জেলায় মিছিল, বিক্ষোভ ও পথ অবরোধ গড়ে তুলেন আন্দোলনকারীরা। শিলচরে কৃষকদের অবরোধের মুখে পড়েন রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী অতুল বরা। অবশেষে পুলিশ বলপ্রয়োগ করে মন্ত্রীর কনভয় বের করে নিয়ে যেতে হয়। গুয়াহাটিতে লক্ষীনাথ বেজবরুয়া চকে শ্রমিক-কৃষকের মিছিল আটকে আন্দোলনকারীদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এখানে গ্রেপ্তার বরণ করেন সিআইটিইউ রাজ্য সম্পাদক তপন শর্মা, শ্রমিক নেত্রী ইন্দিরা নেওয়ার, বীরেন শর্মা সহ প্রায় দেড় শতাধিক আন্দোলনকারী। ধুবুরি, বিলাসীপারা, বঙাইগাঁও, কোকরাঝার, গোয়ালপারা, ছয়গাঁও, আমিনগাঁও, রঙিয়া, মঙ্গলদৈ, বিশ্বনাথ চারিআলি, লখিমপুর, ধেমাজি, ডিব্রুগড়, তিনিচুকীয়া, জোরহাট, নগাঁও, হোজাই, নলবাড়ি, ভবানীপুর, সাথেরবারী, কাছাড়ে হাজার হাজার শ্রমিক-কৃষক বিজেপি সরকারের কৃষক বিরোধী কৃষি আইন বাতিল করা এবং শ্রমিক বিরোধী শ্রম আইন সংস্কার বন্ধের দাবিতে রাস্তা অবরোধ ও জেলা শাসকের কার্যালয় ঘেরাও করেন। এদিনের আন্দোলন ভাঙতে পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনী মোতায়েন করে রাজ্য সরকার। কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে গত নভেম্বর থেকে দিল্লি সীমান্তে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছে ভারতের লাখ লাখ কৃষক। কৃষক ও সরকারি প্রতিনিধিদের মধ্যে ইতোমধ্যে কয়েক দফা আলোচনা অনুষ্ঠিত হলেও তাতে সংকট নিরসন হয়নি। আইন বাতিলের দাবিতে কৃষকেরা অনড় থাকলেও সরকার চাইছে কৃষি আইনের সংস্কার। গত সপ্তাহে ভারত সরকারের তরফে বলা হয়, কৃষকদের চারটি দাবির মধ্যে থেকে দুটি নিয়ে বোঝাপড়ায় সম্মত হয়েছে উভয় পক্ষ। ইলেক্ট্রিসিটি অ্যামেন্ডমেন্ট বিল এবং বায়ু মান দূষণ নিয়ে শাস্তির আইন বাতিলে সরকার সম্মত হয়েছে বলে জানায় সরকার। তবে বিক্ষোভরত কৃষকদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নতুন আইন বাতিল ছাড়া অন্য কোনও কিছুতেই পিছু হটবে না তারা। আগামী প্রজাতন্ত্র দিবসে কৃষক প্যারেড আয়োজনের ঘোষণা দিয়ে আন্দোলন তীব্র করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..