রাজপথে বামপন্থি

বাসদ’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সমাবেশ ও লালপতাকা মিছিল

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ এর ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবং মহান রুশ সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের ১০৩তম বার্ষিকী উপলক্ষে গত ৭ নভেম্বর বিকেল সাড়ে তিনটায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বজলুর রশীদ ফিরোজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রাজেকুজ্জামান রতন। সমাবেশ পরিচালনা করেন বাসদ কেন্দ্রীয় পাঠচক্র ফোরামের সদস্য নিখিল দাস। সমাবেশ শেষে বিভিন্ন দাবি সম্বলিত ব্যানার ফেস্টুন সহকারে এক সুসজ্জিত লালপতাকা মিছিল প্রেসক্লাব থেকে শুরু হয়ে তেপাখানা রোড, পল্টন, জিপিও, বায়তুল মোকাররম, গুলিস্তান, গোলাপশাহ মাজার, বঙ্গবন্ধু এভিনিউ হয়ে পুনরায় প্রেসক্লাবে এসে শেষ হয়। সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, ৭ নভেম্বর আমাদের দলীয় জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। প্রথমত, স্বাধীনতার পর ক্ষমতাসীন হয়ে শাসক দল মুক্তিযুদ্ধের সেই চেতনা ও আকাঙ্ক্ষা থেকে অনেক দূরে সরে গিয়ে শোষণমূলক পুঁজিবাদী ধারায় দেশ পরিচালিত হয়। ফলে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনা ও আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের জন্য ১৯৮০ সালের ৭ নভেম্বর বাসদের জন্ম হয়। দ্বিতীয়ত, আজ থেকে ১০৩ বছর আগে ১৯১৭ সালের ৭ নভেম্বর রাশিয়ায় বলশেভিক পার্টি ও তার নেতা কমরেড লেনিনের নেতৃত্বে এক শ্রমিক বিপ্লব সংগঠিত হয়। যা ছিল পৃথিবীর বুকে প্রথম শ্রমিক শ্রেণির রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিপ্লব। ৭ নভেম্বর বিপ্লবের মাধ্যমে রাশিয়ায় সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর মানব সভ্যতা এক উন্নত স্তরে তুলেছিল। শ্রমিক শ্রেণিও রাষ্ট্র পরিচালনা করতে পারে এ কথার বাস্তব রূপায়ন ঘটিয়েছিল। নেতৃবৃন্দ বলেন, আজ যখন আমরা আমাদের দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও রুশ বিপ্লব বার্ষিকী পালন করছি তখন সারা দুনিয়া বৈশ্বিক মহামারি করোনার সংক্রমণে বিপর্যস্ত। করোনা সারা পৃথিবীর মতো আমাদের দেশেও অর্থনীতিসহ যাপিত জীবনে নানামুখী সংকট তীব্র করেছে। করোনা মোকাবিলায় সরকার ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। স্বাস্থ্যখাতে অপ্রতুল বরাদ্দ, দুর্নীতি, অনিয়ম, দলীয়করণে স্বাস্থ্যখাতের বেহাল দশা ফুটে উঠেছে। চাল, ডাল, তেল, পিয়াজ, আদাসহ সকল নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম আকাশ ছোঁয়া। বাজার সিন্ডিকেটের দৌরাত্মে জনগণ জিম্মি। সরকারের বাজার নিয়ন্ত্রণে কোন কার্যকর উদ্যোগ নেই। নেতৃবৃন্দ বলেন, এ সময়ে দেশে যেমন মানুষ কাজ হারাচ্ছে, বিদেশ থেকে শ্রমিকেরা ফিরে আসছে। এর সাথে সরকার রাষ্ট্রীয় ২৫টি পাটকল বন্ধ করে স্থায়ী-অস্থায়ী মিলে ৫১ হাজার শ্রমিক; পাটচাষী, তাদের পরিবার ও এই শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট প্রায় লক্ষ লক্ষ মানুষকে দুর্দশায় ফেলেছে। কর্মহীন মানুষের আয় কমেছে। দারিদ্র বেড়েছে। এদের রক্ষায় কোন কার্যকর উদ্যোগ নেই। নেতৃবৃন্দ আজকে দেশে এক শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য অবিলম্বে ভোট ডাকাতির সংসদ বাতিল, সরকারের পদত্যাগ ও নিরপেক্ষ তদারকি সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে সকল বাম-প্রগতিশীল-গণতান্ত্রিক দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক দল, ব্যক্তিকে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান। নেতৃবৃন্দ সারাদেশের নেতা-কর্মীদেরকে রুশ বিপ্লব থেকে শিক্ষা নিয়ে, দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষকীতে পুঁজিবাদী শোষণ, ফ্যাসিবাদী দুঃশাসন হটাতে সমাজতন্ত্রের সংগ্রাম বেগবান করার শপথ নেয়ার আহ্বান জানান। বিজ্ঞপ্তি

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..