‘এক শতাংশ পাহাড়ি জমিও কেউ যেন ইজারা না পায়’

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
বান্দরবানের চিম্বুক পাহাড়ে সিকদার গ্রুপের ভূমি দখল ও পাঁচ তারকা মেরিয়ট হোটেল নির্মাণ কাজ বন্ধের দাবীতে গত ১৩ নভেম্বর সকালে শাহবাগস্থ জাতীয় জাদুঘর এর সামনে আয়োজিত এক ছাত্র-যুব সমাবেশে বিশিষ্ট লেখক-বুদ্ধিজীবি সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেছেন, চিম্বুক পাহাড়ের জমি ম্রাে’রা শত শত বছর ধরে ভোগদখল করছেন সেই ম্রােদের জমিতে ফাইভ স্টার হোটেল এবং অ্যমিউজম্যান্ট পার্ক বানানোর চক্রান্ত চলছে। সরকারের কাছে আবেদন জানাচ্ছি যে কর্মকর্তা এই জমি ইজারা দেওয়ার জন্য অনুমতি দিয়েছেন তাকেও আইনের আওতায় আনা হোক। আমরা এই সমাবেশ থেকে দাবি করছি এক হাজার একর নয় এক শতাংশ পাহাড়ি জমিও কেউ যেন ইজারা না পায়। সমাবেশ থেকে উত্থাপিত সাত দফা দাবিতে বলা হয়, চিম্বুক পাহাড়ে সিকদার গ্রুপসহ অন্যান্য সকল ভূমিদস্যুদের উন্নয়নের নামে হোটেল নির্মাণ বন্ধ। সারাদেশে পাহাড় কাটা অবিলম্বে বন্ধ, পাহাড়ী পরিবেশ সংরক্ষণ। পাহাড়ে অনাদিবাসী বাড়ীঘর, অবকাঠামো, স্থাপনা, শিল্প-কারখানা, খামার নির্মাণ নিষিদ্ধ। পাহাড় কাটায় যুক্ত ব্যক্তি, সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ। পাহাড় ও বনে বসবাসরত আদিবাসীদের উৎখাত প্রচেষ্টা বন্ধ, তাদের ভূমি অধিকার, নিরাপত্তা ও জীবন-মান উন্নয়নে সহায়তা প্রদান। সকল পাহাড় ও পাহাড়ী বন সংরক্ষণ, সম্পদ ব্যবহার ও উন্নয়নের দায়িত্ব শুধুমাত্র পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের নিকট ন্যস্ত করতে হবে। পাহাড় ও বন বিষয়ে সকল প্রকার প্রশাসনিক দুর্নীতি বন্ধ। গ্রীন ভয়েস এর পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের সমন্বয়ক সাচিনু মারমার সভাপত্বিতে এবং গ্রীন ভয়েস এর কেন্দ্রীয় সহ-সমন্বয়ক হুমায়ুন কবির সুমন এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এবং বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট লেখক-বুদ্ধিজীবি সৈয়দ আবুল মকসুদ, সিপিবি’র কেন্দ্রীয় সম্পাদক, গ্রীন ভয়েসের উপদেষ্টা রুহিন হোসেন প্রিন্স, বাপার যুগ্ম সম্পাদক মিহির বিশ্বাস, আদিবাসী নেতা সঞ্জীব দ্রং, নাগরিক সংহতির শরীফুজ্জামান শরীফ, আদিবাসী যুব ফোরাম এর আহ্বায়ক অনন্ত ধামাই-সহ বিভিন্ন পরিবেশবাদী ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিগণ। সমাবেশে রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, পাহাড়ি অঞ্চলে যে উন্নয়নের নামে যে ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হচ্ছে তা বন্ধ করতে হবে। তিনি চিম্বুক পাহাড়ে তথাকথিত ফাইভ ষ্টার নির্মাণের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানান। তিনি বলেন উন্নয়নের নামে পাহাড়ে যে লুটপাট চলছে এই লুটপাট করতে দেওয়া হবে না। পাহাড়ির অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য নষ্ট করে, পাহাড়ী জনগণের সম্মতি না নিয়ে উন্নয়নের নামে পরিবেশ প্রতিবেশ ধ্বংস করা চলবে না। তিনি ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চুক্তি পূর্ন বাস্তবায়ন ও ভূমি সমস্যা সমাধানের দাবি জানা। তিনি সংবিধানে আদিবাসীদের স্বীকৃতির দাবি জানিয়ে আদিবাসীদের দাবি আদায়ের সংগ্রামে সকল বিবেকবান মানুষদের এগিয়ে আসার আহবান জানান। বিজ্ঞপ্তি

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..