অমানবিক উন্নয়নের মডেল প্রত্যাখ্যান করি

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

রাজধানীর শাহবাগে যুব ইউনিয়ন ঢাকা মহানগর সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান
একতা প্রতিবেদক : বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের ঢাকা মহানগর কমিটির চতুর্দশ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্মেলন শেষে কাউন্সিলে ঢাকা মহানগরকে উত্তর-দক্ষিণ দু’টি ভাগে ভাগ করে কমিটি গঠন করা হয়। এর মধ্যে দক্ষিণের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন গোলাম রাব্বি খান, সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন শাহীন ভুইয়া এবং উত্তরের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন চৌধুরী জোসেন, সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন আসাদুজ্জামান আজিম। ১৩ নভেম্বর সকালে শাহবাগ প্রজন্ম চত্বরে সমে¥লনের উদ্বোধন করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি হাফিজ আদনান রিয়াদ। উদ্বোধনী পর্বে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন– সংগঠনের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য, নাট্যজন শংকর সাঁওজাল, কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক খান আসাদুজ্জামান মাসুম। সম্মেলনে ঢাকা মহানগরীরর বিভিন্ন থানা থেকে বন্যায় মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা যোগ দেন। উদ্বোধনী সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সম্মেলন প্রস্তুতি পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন, আহ্বায়ক শাহীন ভূঁইয়া প্রমুখ। শাহবাগের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শংকর সাওজাল দুর্নীতি, অপশাসন ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে তরুণদের একতাবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। যুব ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সভাপতি হাফিজ আদনান রিয়াদ সরকারের সমালোচনা করে বলেন, “এই সরকার পুঁজিপতিদের লুটপাটের ব্যবস্থা করে দিয়েছে। দেশ থেকে হাজার হাজার লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে। সরকার লুটেরাদের লালন পালন করছে। আজ তাদের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হচ্ছে এই সরকার। সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডকে ‘অমানবিক’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, “সরকার আজকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গান গাইছে। অথচ রাষ্ট্রীয় ব্যাংক বলছে ৭০ থেকে ৭২ শতাংশ লোকের আয় কমে গেছে। যারা স্বউদ্যোগে নানা কাজ করে জীবন ধারণ করত, তারা আজকে কর্মহীন হয়ে গেছে। ” করোনাভাইরাস মহামারিতে দেশের অর্থনীতি যথন ‘মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত’ তখনও সরকারের ‘সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ’ দেখতে পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন রিয়াদ। তিনি বলেন, “এমন অবস্থায় ওদের উন্নয়নগুলো চলছে, আমরা এই অমানবিক উন্নয়নের মডেলকে প্রত্যাখ্যান করি। ” যুব সমাজের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে রিয়াদ বলেন, “এ লড়াই হবে খুব কঠিন... কারণ বিপরীতে যারা রাষ্ট্রযন্ত্র দখল করে আছে, তারা অর্থবিত্তের ক্ষমতায় শক্তিশালী। তাদের প্রতিহত করতে গেলে আমাদেরকে আরো বেশি সংগঠিত হতে হবে। মহানগর কমিটি সভাপতি হাবীব ইমনের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী সমাবেশে বক্তারা বলেন, দেশে বিপুল জনগোষ্ঠী কর্মহীন হয়ে পড়েছে। দেশের ৭২% মানুষের আয় কমে গিয়েছে। এর মধ্যেই জিনিসপত্রের দাম আকাশ ছোঁয়া। জনজীবনে তীব্র অর্থনৈতিক সংকট। সরকার উন্নয়নের কথা বলছে। কিন্তু সরকারের এ উন্নয়নে জনগণ ভাল নেই। মানুষ আজ নিরাপত্তাহীন। প্রতি মুহূর্তে নারীরা ধর্ষিত হচ্ছে। সরকার একটি ঘটনারও সুষ্ঠু বিচার করতে পারেনি। ফলে এক ধরনের বিচারহীনতার সংস্কৃতি আমাদের সমাজে ভর করেছে। কর্মসংস্থানের দাবিতে এবং বিচারহীনতার বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলতে যুবকদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। যুব অধিকারসহ দেশের সকল আন্দোলন সংগ্রামে অংশগ্রহণ করে আসছে সংগঠনটি। দেশের বাইরেও বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে যুব ইউনিয়ন বরাবরের ন্যায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। উদ্বোধনী সমাবেশের পর একটি বিশাল র্যালি শাহবাগ-প্রেসক্লাব হয়ে পল্টনে এসে শেষ হয়। দুপুর ২টায় পল্টনস্থ মৈত্রী মিলনায়তনে কাউন্সিল অধিবেশন শুরু হয়।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..