৪৬তম প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন

শ্রমমন্ত্রী হতে চান বার্নি স্যান্ডার্স

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা বিদেশ ডেস্ক : পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যে জয়ের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী জো বাইডেন। এরপর ভোট গণনা যত এগুচ্ছে বাইডেন ততই নতুন রেকর্ড গড়ছেন । ১৯৯৬ সালের পর দ্বিতীয় ডেমোক্রাটিক প্রার্থী হিসাবে দীর্ঘদিনের রিপাবলিকান ঘাঁটি অ্যারিজোনাতেও এবার জয় পেয়ে অবস্থান আরও পোক্ত করলেন তিনি। ১৯৯৬ সালে শেষবার ডেমোক্র্যাট বিল ক্লিন্টন এই রাজ্যে জিতেছিলেন বলে জানিয়েছে ‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’। অ্যারিজোনায় জয় নিয়ে বাইডেনের ইলেকটোরাল কলেজ ভোট দাঁড়াল ২৯০ টিতে; প্রয়োজনীয় ২৭০ ভোটের চেয়ে যা ২০টি বেশি। অন্যদিকে, ট্রাম্পের ঝুলিতে আছে মাত্র ২১৭ ইলেকটোরাল ভোট। গত ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে ভোট গ্রহণ শেষে গণনা শুরুর পর প্রায় তিনদিন কেটে গেলেও ট্রাম্প না বাইডেন জিতছেন তা নিয়ে দোলাচল ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে পেনসিলভানিয়া রাজ্যে বাইডেন প্রয়োজনীয় সংখ্যক ইলেকটোরাল ভোট নিশ্চিত করে ট্রাম্পকে পরাজিত করেন। কার্যত তখনই জয় পেয়ে গেছেন বাইডেন। যদিও চূড়ান্ত ফল ঘোষণা হবে ডিসেম্বরে। ট্রাম্পের প্রচার শিবির এই সময়ের মধ্যে পেনসিলভানিয়ার গণনা প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে আদালতে গেছে। এমনকী ডাকযোগের ভোট নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে তারা। এ পরিস্থিতিতে অ্যারিজোনায় বাইডেনের জয় তাকে আরও একধাপ এগিয়ে দিল। আর কেবল তাই নয়, অ্যারিজোনার মত রাজ্য- যেখানে বরাবরই রিপাবলিকানদের বড় ধরনের প্রভাব দেখা যায়, সেখানে বাইডেনের জয়ে একটি গভীর রাজনৈতিক পরিবর্তনের আলামতও স্পষ্ট হয়েছে। চার বছর আগেও এ রাজ্যে জয় পেয়েছিলেন ট্রাম্প। এবারে ভোটের সেই রেকর্ড উল্টে গেছে। যদিও সেখানে বাইডেন জিতলেও ট্রাম্পের সঙ্গে ব্যবধান খুবই কম। পরিসংখ্যান বলছে, ট্রাম্পের চেয়ে মাত্র ০.৩ শতাংশ পয়েন্টে এ রাজ্যে জিতেছেন বাইডেন। জয়ী হিসেবে বাইডেনের জানুয়ারি মাসে দায়িত্ব নেওয়ার কথা। তবে বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে নির্বাচন নিয়ে বেশ কিছু মামলা করা হয়েছে। ডেমোক্র্যাটিক প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হওয়ার আগে বারাক ওবামা আমলে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে কাজ করেছেন বাইডেন। ডেলাওয়ারের সবচেয়ে দীর্ঘ আমলের সিনেটরও তিনি। নির্বাচনি প্রচারের সময় থেকেই বাইডেন বলে আসছেন ট্রাম্পের আমলে ক্ষয়ে যাওয়া দেশ পুনর্গঠন করবেন। আভাস অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী ভাইস প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন কমলা হ্যারিস। এছাড়াও তিনি দেশটির প্রথম নারী এবং কৃষ্ণাঙ্গ ভাইস প্রেসিডেন্টও হবেন। দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্টও হবেন তিনি। ২০১৭ সাল থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার সিনেটে প্রতিনিধিত্ব করে আসছেন হ্যারিস। জ্যামাইকান বাবা ও ভারতীয় অভিবাসী মায়ের সন্তান তিনি। কৃষ্ণাঙ্গ ব্যাপটিস্ট চার্চ আর হিন্দু মন্দিরে যাতায়াত করে বেড়ে উঠেছেন তিনি। পেনসিলভানিয়ায় সর্বশেষ ব্যালট গণনা শেষ হলে ট্রাম্পের চেয়ে ৩০ হাজার ভোটে এগিয়ে যান বাইডেন। আর এতেই তাকে জয়ী ঘোষণা করে সিএনএনসহ মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো। এর আগে এক বিবৃতিতে ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি হার মেনে নেবেন না; বরং আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন। তিনি বলেন, খেলা এখনও শেষ হয়ে যায়নি। জো বাইডেন এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও রাজ্যে বিজয়ী হয়নি। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাজ্যগুলোতে ফল পুনঃনিরীক্ষণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। আমাদের বৈধ আইনি চ্যালেঞ্জ রয়েছে; যা চূড়ান্ত বিজয়ী নির্ধারণ করতে পারে। ট্রাম্প বলেন, নির্বাচনি আইন পুরোপুরি বহাল রয়েছে এবং প্রকৃত বিজয়ীই হোয়াইট হাউজে আসন গ্রহণ করেছেন। এদিকে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ডাকলে তার ডাকে সাড়া দেবেন ভারমন্টের সিনেটর বর্ষীয়ান রাজনীতিক বার্নি স্যান্ডার্স। জো বাইডেন তাকে তার মন্ত্রীপরিষদে ডাকলে তিনি শ্রমমন্ত্রীর দায়িত্ব নিতে পারেন। সিএনএনের সাংবাদিক উলফ ব্লিটজারের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, যদি আমাকে কর্মজীবী মানুষের পাশে দাঁড়াতে, তাদের জন্য লড়াইয়ের জন্য কোন পোর্টফোলিও দেয়া হয় এবং জানতে চাওয়া হয় আমি তা গ্রহণ করবো কিনা, তার জবাব হলো- হ্যাঁ, আমি সেই প্রস্তাব গ্রহণ করবো। উল্লেখ্য, প্রথম ২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেট দল থেকে মনোনয়ন চেয়েছিলেন বার্নি স্যান্ডার্স। কিন্তু দলীয় নির্বাচনে তিনি হিলারি ক্লিনটনের কাছে হেরে যান। ফলে সে সময় তার হোয়াইট হাউজের স্বপ্ন ভেস্তে যায়। এবার ২০২০ সালে এসে তিনি আবার একই চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু এবারও তার ভাগ্যের চাকা একই দিকে ঘুরেছে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..