বিহারে নজরকাড়া ফল বামপন্থিদের

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা বিদেশ ডেস্ক : ভারতের বিহার রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে ২৯টি আসনে প্রার্থী দিয়েছিল বাম দলগুলো। আশাতীত সাফল্য এসেছে তাদের। ২৯টি আসনের মধ্যে ১৬ আসনে জয়ী হয়েছেন বাম প্রার্থীরা। আরজেডি ও কংগ্রেসের জোট ‘মহাগাটবন্ধনে’ যোগ দিয়ে এবার নির্বাচন করেছে তিন বামপন্থি দল সিপিআই (এম), সিপিআই এবং সিপিআই (এম-এল) লিবারেশন। ১৯টি আসনে প্রার্থী দেয় সিপিআই (এম-এল) লিবারেশন, ৬টি আসনে সিপিআই ও ৪টি আসনে সিপিআই (এম)। বিহারে মহাজোটের মধ্যে থেকেই আসন ভাগাভাগি করে নিয়েছে বামেরা। আরও আসনে প্রার্থী দিতে পারলে আরও ভাল ফল করার সম্ভাবনা ছিল বলে মনে করছে সিপিআইএমএল। এদিন সিপিআই (এম)-র সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি বলেছেন, বামপন্থিদের যদি আরো আসন দেওয়া হত তাহলে মহাজোট আরো আসনে জয়ী হতে পারত। রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে সমস্তিপুর জেলার বিভূতিপুর কেন্দ্রে সিপিআই (এম) প্রার্থী অজয় কুমার জনতা দল (ইউ)’র প্রার্থীর থেকে ৪১ হাজারেরও বেশি ভোটে জয়ী হয়েছেন। গতবার পরাজিত হলেও অতীতে এই কেন্দ্র থেকে ছয়বার জয়ী হয়েছে সিপিআই (এম)। মানঝি কেন্দ্রে সিপিআই (এম) প্রার্থী সত্যেন্দ্র যাদবকেও জয়ী ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নির্দল প্রার্থীর থেকে ২৫ হাজারের বেশি ব্যবধান রয়েছে। তিনিও হারিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের জেডি (ইউ) প্রার্থীকে। পর্যবেক্ষকদের অনেকেই মনে করিয়েছেন যে আরজেডি’র সঙ্গে জোটে এর আগেও বিভিন্ন সময়ে জয়ী হয়েছেন বামপন্থিরা। সামাজিক ন্যায়ের সঙ্গে অর্থনৈতিক ন্যায়ের দাবির সমন্বয় জোরালো হয়েছে। সাম্প্রদায়িক এবং সুবিধাবাদী রাজনীতিকে কড়া চ্যালেঞ্জ জানানো গিয়েছে। করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতিতে ত্রাণ, অন্য রাজ্যে আটকে পড়া শ্রমিকদের সঙ্গে সংযোগের মতো উদ্যোগেরও কিছু ভূমিকা রয়েছে বলে মত বিভিন্ন অংশের। সিপিআই (এম) ৪ আসনে প্রার্থী দিয়েছিল। তিন বামপন্থি দল মোট ২৯ আসনে প্রার্থী দেয়। কংগ্রেস লড়েছে মোট ৭০ আসনে। বিধানসভার ২৪৩ আসনের বাকিগুলিতে লড়েছে আরজেডি। তেঘড়া কেন্দ্রে সিপিআই প্রার্থী রামরতন সিং জয়ী ৪০ হাজারের বেশি ভোটে। ভোজপুর জেলা এবং সংলগ্ন এলাকায় লিবারেশনের শক্তিশালী জনসমর্থন রয়েছে। এই অঞ্চলে আগাইয়াঁও কেন্দ্রে জেডি(ইউ) প্রার্থীর থেকে ৪৭ হাজারের বেশি ভোটে জয়ী হয়েছেন এম-এল’র মনোজ মঞ্জিল। আরা কেন্দ্রে দলের প্রার্থী কায়ামুদ্দিন আনসারি দীর্ঘক্ষণ এগিয়ে থাকলেও একেবারে শেষ মুহূর্তে তাঁকে পরাজিত ঘোষণা করা হয়। এই কেন্দ্রসহ তিন কেন্দ্রে পুনর্গণনা চেয়েছে লিবেরেশন। যে ভোটে ২৯ আসনে জয় পরাজয়ের ব্যবধান পাঁচশো থেকে এক হাজার ভোট, সেখানেই একের পর এক কেন্দ্রে বামপন্থী প্রার্থীদের দশ হাজারের চেয়ে বেশি ভোটে জয়ও নজর কেড়েছে বিভিন্ন অংশের। চালু কথায় ‘স্ট্রাইক রেট’ কেন লক্ষ্যণীয় বামপন্থিদের? সিপিআই (এম) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অরুণ মিশ্রের ব্যাখ্যা, বামপন্থিদের নিজস্ব ভোটভিত্তি রয়েছে। কখনও তা বেড়েছে, কখনও আবার দুর্বল হয়েছে। কিন্তু কম হোক বা বেশি, সাংগঠনিক অস্তিত্ব থেকে গিয়েছে। তাঁর মত, কোনও নির্দিষ্ট জাত পরিচয়ে বামপন্থিদের সমর্থন ঘুরপাক খায়নি। প্রান্তিক বিভিন্ন অংশের কাছে আবেদন পৌঁছানো হয়েছে। দলিত বা মহাদলিতদের বিভিন্ন অংশে পৌঁছানো গিয়েছে। জমি থেকে উচ্ছেদ, মজুরি, ফসলের দামের মতো বিষয়ে বছরভর সক্রিয়তা থাকায় প্রস্তুতি নেওয়া সুবিধাজনক হয়েছে। আরজেডি’র নেতৃত্বাধীন জোট শরিকদের সমর্থন নিজেদের পক্ষে পেতে সুবিধাও হয়েছে। তার প্রতিফলন পড়েছে ভোটে। সিপিআই (এম)-র সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি এদিন বলেন, আমরা প্রথম থেকেই বলছিলাম বিজেপি-কে পরাস্ত করতে হবে। বামপন্থিদের যদি আরো বেশি আসন দেওয়া হত তাহলে মহাজোটের আসন আরো বাড়ত। আরজেডি এবং কংগ্রেসের সঙ্গে বামপন্থিদের জোট হয়েছে সামাজিক ন্যায়বিচারের সঙ্গে অর্থনৈতিক ন্যায়বিচারের প্রশ্নে। একটিকে বাদ দিয়ে আরেকটি হয় না। ইয়েচুরি বলেন, এই ফলাফল দেখিয়ে দিচ্ছে বামপন্থিদের নস্যাৎ করা যাবে না। ভারতের গণতন্ত্রের স্বার্থেই বামপন্থিদের প্রয়োজন। বিজেপি-র বিরুদ্ধে মহাজোটের লড়াইকে আরো বৈধতা দিয়েছে বামপন্থিরা। আমরা জনগণের স্বার্থে ধারাবাহিক সংগ্রাম করেছি। নির্বাচনী ফলাফল যাই হোক না কেন, লাল ঝাণ্ডা সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। পাঁচ বছর আগের নির্বাচনে বামপন্থিরা নিজেদের জোট গড়ে স্বতন্ত্র লড়াই করেছিল। এর মধ্যে পরিস্থিতির পরিবর্তনও হয়েছে। গতবার আরজেডি এবং কংগ্রেস জোটের অংশ ছিল নীতীশ কুমারের জেডি (ইউ)। ভোটে বিজেপি পর্যুদস্ত হয়। কিন্তু দু’বছরের মাথায় জোট ভেঙে পরাজিত বিজেপি’কে নিয়ে ঘুরপথে সরকার গড়েন নীতীশ। আগের নির্বাচনে সিপিআই (এম-এল) লিবারেশন তিনটি আসনে জয়ী হয়। আসন না পেলেও সিপিআই (এম) এবং সিপিআই একাধিক কেন্দ্রে লক্ষণীয় জনসমর্থন পায়। পাঁচ বছরে বিভিন্ন আন্দোলনে একজোটেই রাস্তায় নেমেছে তিন বামপন্থি দল। সাফল্য প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমে সিপিআই (এম-এল) লিবারেশনের সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্যের প্রতিক্রিয়া, বামপন্থিরা ধারাবাহিকভাবে সরব থেকেছে সামন্ততন্ত্র, সাম্প্রদায়িকতাবাদ বিরোধী, দুর্নীতি বিরোধী আন্দোলনে। নির্বাচনে তার প্রতিফলন পড়েছে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..