বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণেই ধর্ষণ মহামারিতে রূপ নিচ্ছে

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের প্রতিবাদে গাইবান্ধায় বিক্ষোভ সমাবেশ
একতা প্রতিবেদক : ধর্ষণ করে পার পেয়ে যাওয়া আর বিচারহীনতার যে সংস্কৃতি গড়ে উঠছে, তাতে এই অনাচার মহামারিতে রূপ নিচ্ছে। অতীতেও একের পর এক ধর্ষণ, নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার দৃশ্যমান প্রতিকার না হওয়ায় অথবা আইনের ফাঁক গলে অপরাধীরা দায়মুক্তি পাওয়ায় দেশে গড়ে উঠা বিচারহীনতার সংস্কৃতিই দেশে ক্রমবর্ধমান ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের মূল কারণ। নোয়াখালির বেগমগঞ্জে নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন, সিলেটের এমসি কলেজে গৃহবধূকে গণধর্ষণসহ সারাদেশে অব্যাহত নারী নির্যাতন, ধর্ষণ ও হত্যার প্রতিবাদে দেশব্যাপী চলমান বিক্ষোভে বক্তারা এসব কথা বলেছেন। সারাদেশ থেকে পাঠানো সংবাদ: গাইবান্ধা: দেশে অব্যাহত নারী নির্যাতন, ধর্ষণ ও হত্যার প্রতিবাদে গাইবান্ধায় বাম নারী সংগঠনসমূহের (সিপিবি নারী শাখা, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম, বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্র) যৌথ উদ্যোগে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ১১অক্টোবর সকাল ১১টায় গাইবান্ধা পৌর শহিদ মিনার চত্বরে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সিপিবি নারী শাখার সম্পাদক সুপ্রিয়া দেবের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন নারীমুক্তি কেন্দ্রের জেলা সাধারণ সম্পাদক নিলুফার ইয়াছমিন শিল্পী, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম গাইবান্ধা জেলার আহ্বায়ক ইশরাত জাহান লিপি, জেলা ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মৈয়েত্রী হাসান জয়িতা, ছাত্রফ্রন্ট নেত্রী মাসুদা আক্তার, রাহেলা সিদ্দিকা প্রমুখ। বক্তারা বলেন, সারা দেশে যেভাবে নারী নির্যাতন, ধর্ষণ, হত্যা চলছে তা একাত্তরকে হার মানিয়েছে। বর্তমান সরকার এর দায় কোনভাবেই এড়াতে পারে না। বক্তারা নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে সকল সচেতন মানুষকে সোচ্চার হওয়ার আহবান জানান। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহিদ মিনারে এসে শেষ হয়। চট্টগ্রাম: নোয়াখালীসহ সারা দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্ষণ ও নারীর প্রতি সহিংসতার প্রতিবাদে গত ১১ অক্টোবর বিকাল ৫ টায় চট্টগ্রাম চেরাগী পাহাড় চত্বরে সিপিবি নারীসেলের উদ্যোগে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সিপিবি নারী সেলের চট্টগ্রাম জেলার আহবায়ক রেখা চৌধুরী সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সিপিবি চট্টগ্রাম জেলার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক অশোক সাহা, সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য মোঃ মছিউদদোল্লা, নুরুচ্ছাফা ভূইয়া, সিতারা শামিম, শীলা দাশ গুপ্ত, উম্মে রায়হান, আশরাফি নিতু প্রমুখ। বিক্ষোভ কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, ধর্ষণ করে পার পেয়ে যাওয়া আর বিচারহীনতার যে সংস্কৃতি গড়ে উঠছে, তাতে এই অনাচার মহামারিতে রূপ নিচ্ছে। এ জন্য আজ দেশের মানুষকে ধর্ষকদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। অতীতেও একের পর এক ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার দৃশ্যমান প্রতিকার না হওয়ায় অথবা আইনের ফাঁক গলে অপরাধীরা দায়মুক্তি পাওয়ায় দেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। এই বিচারহীনতার সংস্কৃতিই দেশে ক্রমবর্ধমান ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের মূল কারণ।’ তারা বলেন, বিশেষ ট্রাইব্যুনালে দ্রুত বিচার করতে হবে। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। আমরা দেখেছি, রাজনৈতিক অপশক্তির পৃষ্ঠপোষকতা অপরাধীদের বেপরোয়া করে তুলেছে। এই ধর্ষক-নির্যাতনকারীদের আশ্রয়দাতা খুঁজে বের করে শাস্তি দিতে হবে। রাজনৈতিক প্রশ্রয় না পেলে এমন সীমাহীন অপরাধ প্রবণতার সৃষ্টি হতো না।’ যশোর: যশোরের কেশবপুরে অব্যহত নারী ধর্ষণ ও নারীর প্রতি সহিংসতার প্রতিবাদে কমিউনিস্ট পাটি, কৃষক সমিতি ও ছাত্র ইউনিয়নের উদ্যোগে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ত্রিমোহিনী মোড় চত্বরে সমাবেশে কৃষক, ছাত্র পার্টির কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। বিকেলে মানববন্ধন এবং সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন কৃষক সমিতির শিকারপুর গ্রাম কমিটির সভাপতি পীর আলী। বক্তব্য রাখেন যশোর জেলা কমিটির সহ সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. আমিনুর রহমান হিরু, জেলা কমিটির সদস্য আবদুল মজিদ, সিপিবি কেশবপুর শাখার সম্পাদক ও কৃষক সমিতি যশোর জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান নান্নু, ছাত্র ইউনিয়নের খুলনা জেলা কমিটির সভাপতি উত্তম রায়, শ্রমিক নেতা আবদুল জলিল। বক্তরা বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর থেকে সব সরকারের আমলেই নারীর প্রতি নির্যাতন হয়েছে। ধর্ষণকারীরা সবসময় রাজনৈতিক আশ্রয় প্রশ্রয়ে থেকে গেছে। শুধু আইন করে

ধর্ষণ ঠেকানো যাবে না। আইনের যথাযথ প্রয়োগ করতে হবে। বক্তারা আরও বলেন, যতোই নির্যাতন হোক না কেন নারীর প্রতি নির্যাতনের প্রতিবাদ হতেই থাকবে। আমাদের মুখ বন্ধ করা যাবে না। বরিশাল: গত ১১ অক্টোবর সকাল ১০ ঘটিকায় বাম গণতান্ত্রিক জোট বরিশাল জেলা সম্বয়ক ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)র বরিশাল জেলা সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক দুলাল মজুমদারের সভাপতিত্বে বরিশাল অশ্বিনী কুমার হল চত্ত্বরে সারাদেশে চলমান খুন, ধর্ষণ, লুটপাট ও অপ-রাজনিতীর বিরুদ্ধে এক প্রতিবাদী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) বরিশাল জেলা সভাপতি অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান সেলিম, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) বরিশাল জেলা সদস্য সচিব ডাঃ মনিষা চক্রবর্ত্তী, গণসংহতি আন্দোলন বরিশাল জেলা সম্বয়ক দেওয়ান আব্দুর রশিদ নিলু, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অধ্যাপক নৃপেন্দ্র নাথ বাড়ৈ এবং বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) মাক্সবাদী বরিশাল জেলা আহ্বায়ক সাইদুর রহমান প্রমুখ। সভায় বক্তারা দেশের চলমান এই সমস্যাকে রাজনৈতিক সমস্যা বলে চিহ্নিত করেন এবং রাজনৈতিক পরিবর্তন ছাড়া এধরণের সমস্যার সমাধান করা যাবে না বলে উল্লেখ করেন। বক্তারা অবিলম্বে ধর্ষকদের চিহ্নিত করে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি করেন এবং ধর্ষকদের কোন রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা না দেয়ার আহ্বান জানান। রাজশাহী: নোয়াখালী, খাগড়াছড়ি, সাভার, সিলেটসহ দেশব্যাপী অব্যাহত ধর্ষণ, বর্বর নারী নির্যাতন ও বিচারহীনতার বিরুদ্ধে সারাদেশে প্রতিবাদ কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রতিবাদি সাংস্কৃতিক সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী রাজশাহী জেলা সংসদ। গত ৯ অক্টোবর শুক্রবার বিকেল ৪ টায় সারাদেশে একযোগে প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক সমাবেশের অংশ হিসেবে রাজশাহী মহানগরীর আলুপট্টি বঙবন্ধু চত্বরে উদীচী রাজশাহী জেলা সংসদের আয়োজনে এ সাংস্কৃতিক সমাবেশ করা হয়েছে। উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি ও রাজশাহী জেলা সংসদের সভাপতি অধ্যক্ষ জুলফিকার আহমেদ গোলাপের সভাপতিত্বে ও রাজশাহী জেলা সংসদের সাধারণ সম্পাদক অজিত কুমার মণ্ডলের সঞ্চালনায় এ সময় বক্তব্য রাখেন মুক্তিযোদ্ধা কলামিস্ট প্রশান্ত কুমার সাহা, শিক্ষক নেতা অধ্যক্ষ রাজকুমার সরকার, মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান আলী বরজাহান, নারী নেত্রী সেলিনা বানু ও আদিবাসি ছাত্রনেতা প্রশান্ত মিনজ। নেতৃবৃন্দ বলেন, কেবলমাত্র জৈবিক তাড়না থেকে নয় বরং ক্ষমতা, আধিপত্য এবং দমন-পীড়নের কুৎসিত বহিঃপ্রকাশ ঘটছে ধর্ষণের মাধ্যমে। পাহাড়ে ও সমতলে দরিদ্র ও অসহায় নারীর প্রতি যে বর্বরতা ঘটে চলেছে তা আর সহ্য করা যায় না। দুর্বৃত্তদের প্রতিরোধে সক্ষম না হলেও প্রতিবাদকারীদের প্রতি পুলিশ যেভাবে চড়াও হচ্ছে তা থেকে বোঝা যায় রাষ্ট্রযন্ত্র ধর্ষকদের সহায়ক ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। উদীচীর কর্মীদেরকে মানবিক সংস্কৃতির বিকাশ এবং এই অসুস্থ ও আধিপত্যবাদী দুর্বৃত্তায়নের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তারা। এ সময় উদীচী নেতা-কর্মিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ব্রজেন্দ্রনাথ প্রামানিক, শাহিনুর রহমান সোনা, বিধান চন্দ্র সরকার, রতন ভট্টাচার্য, রণজিৎ দাস, তরুণ ধর, সুস্মিতা অধিকারি, সোমা ভৌমিক, সুবোধ কবিরাজ প্রমুখ। নারায়ণগঞ্জ : দেশে অব্যাহত নারী নিপীড়ন ও ধর্ষনের প্রতিবাদে ছাত্র যুব ও সংস্কৃতি কর্মীরা রাস্তায় নেমেছে, প্রতিবাদ করছে। আমরা দীর্ঘদিন যাবৎ দাবি জানিয়েও সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারি নাই। সরকার ও রাষ্ট্রের সমীহীন উদাসীনতা ও বিচারহীনতার কারণে দেশের এই চরম অবনতি ঘটেছে। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি সিপিবি, নারায়ণগঞ্জ নারী সেলের উদ্যোগে এই ভয়াবহ নিপীড়ন ও ধর্ষণের প্রতিবাদে ৯ অক্টোবর বিকাল ৪টায় নারায়ণগঞ্জ আইন কলেজের সামনে এক নারী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন নারায়ণগঞ্জ নারী সেলের সম্পাদক কৃষ্ণা ঘোষ ও সঞ্চালনায় ছিলেন মৈত্রী ঘোষ। বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি সিপিবি নারায়ণগঞ্জ জেল কমিটির সভাপতি হাফিজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক শিবনাথ চক্রবর্তী, জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য নারী নেত্রী শাহানারা বেগম, জেলা কমিটির সদস্য দুলাল সাহা, উন্মেষ সাংস্কৃতিক সংসদের সভাপতি এড প্রদীপ ঘোষ বাবু, নারী সেলের সদস্য প্রীতিকনা

দাস নূপুর, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক বিমল কান্তি দাস, নারী সেলের সদস্য শোভা সাহা, গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের জেলা সভাপতি এম.এ. শাহীন প্রমুখ। নেতৃবৃন্দ বলেন, সিলেটের এমসি কলেজে ধর্ষণের ঘটনা, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের ঘটনাসহ সারাদেশে প্রতিদিন ধর্ষণের মহা উৎসব চলছে। জাতির মান সম্মান বলে কোন কিছুই অবশিষ্ট থাকছে না। আমাদের মা বোনেরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে জীবন যাপন করছে। বলা যায় স্বাভাবিক জীবন যাপনের কোনো পরিবেশ দেশে আর নেই। ময়মনসিংহ : অব্যাহত ধর্ষণ, নারী-শিশু নির্যাতনের প্রতিবাদে ও ধর্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি কার্যকরের দাবিতে সিপিবি, ক্ষেতমজুর সমিতি ও উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী ও বেকারদের কর্মসংস্থান এবং ধর্ষণের প্রতিবাদে যুব ইউনিয়নের উদ্যোগের উদ্যোগে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। গত ৯ অক্টোম্বর সকালে স্থানীয় কলেজ গেটের সামনে সিপিবি ও ক্ষেতমজুর সমিতির মানববন্ধন কমসূচিতে বক্তব্য রাখেন ময়মনসিংহ জেলা সিপিবি নেতা হারুন আল বারী, ক্ষেতমজুর সমিতির সহ সাধারণ সম্পাদক অর্ণব সরকার বাপ্পী, ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক নেতা মাহমুদুল হাসান শুভ ও সিপিবি শ্যামগঞ্জ শাখার সম্পাদক ডা. মোহাম্মদ শহীদুল্লা। ধর্ষণের প্রতিবাদে ও ধর্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ১০ অক্টোবর সকালে পূর্বধলা উপজেলা সদরে সিপিবির মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। এসময় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ক্ষেতমজুর সমিতির সহ সাধারণ সম্পাদক অর্ণব সরকার বাপ্পী, জেলা যুব ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা কামাল, সিপিবি উপজেলা শাখার সম্পাদক জহিরুল ইসলাম ও উদীচীর সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক। ধর্ষণ-নির্যাতনের প্রতিবাদে ও করোনাকালে বেকারদের কর্মসংস্থানের দাবিতে একইদিন বিকালে নেত্রকোণা শহীদ মিনারের সামনে বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের উদ্যোগে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। এসময় আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ক্ষেতমজুর সমিতির সহ সাধারণ সম্পাদক অর্ণব সরকার বাপ্পী, জেলা যুব ইউনিয়নের সভাপতি আবুল কাইয়ুম আহমদ, সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা কামাল, সাংগঠনিক সম্পাদক তপতী শর্মা ও সত্যেন্দ্র সরকার। ১১ অক্টোবর উদীচী শ্যামগঞ্জ শাখা আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, গৌরীপুর উপজেলা কমিটির সাধারন সম্পাদক হারুন আল বারি, ক্ষেতমজুর সমিত গৌরীপুর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল লতিফ, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী গৌরীপুর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুর রহমান, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী শ্যামগঞ্জ শাখার সভাপতি ডা. মো.শহীদুল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক জয়ন্ত রায়, ছাত্র ইউনিয়ন ময়মনসিংহ জেলা সংসদের প্রাক্তন নেতা মাহমুদুল হাসান শুভ ও গৌরীপুর শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হাসান অনয়। গৌরীপুর: দেশব্যাপী চলমান ধর্ষণ-নিপীড়নের বিরুদ্ধে গান-কবিতা-স্লোগানে সংক্ষোভ কর্মসূচী পালন করেছে ধর্ষণ-নিপীড়ন বিরোধী জনতা। মঙ্গলবার বিকালে মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মরণে নির্মিত বিজয় ‘৭১ পাদদেশে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। কর্মসূচীর শুরুতে সংক্ষিপ্ত সংহতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ধর্ষণ-নিপীড়ন বিরোধী জনতার সমন্বয়ক এম হাসান শুভর সভাপতিত্বে এবং ছাত্রনেতা এনামুল হাসান অনয়ের সঞ্চালনায় উক্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ক্ষেতমজুর সমিতির নেতা হারুণ আল বারী, কৃষক সমিতির নেতা আব্দুল লতিফ, সংস্কৃতি কর্মী মোঃ শহীদুল্লাহ, ওবায়দুর রহমান, পৌরসভার ওয়ার্ড কাউন্সিলর নাজিম উদ্দিন আহমেদ, শিক্ষক উজ্জ্বল চন্দ্র রবিদাস, ছাত্রনেতা আলী আশরাফ আবির, অর্ক দত্ত, প্রীতলতা ব্রিগেড নেত্রী অর্পিতা কবীর অ্যানি, সাদিয়া আফরিন দিশা। সংহতি সমাবেশ পরবর্তী প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক সংক্ষোভে অংশ নেন গৌরীপুরের সাংস্কৃতিক কর্মীরা। গাজীপুর: ধর্ষণের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন কাপাসিয়া শাখা। গত শুক্রবার সকাল ১১ টায় শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ চত্তর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ অনুষ্ঠান হয়। ঢাকা কিশোরগঞ্জ মহা সড়কের এক পাশে চত্তরের সামনে শতাধিক নারী পুরষ কয়েকঘণ্টা ব্যাপি এ মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করে। নারী সহিংসতা ও ধর্ষণের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান বক্তারা। যুব ইউনিয়ন কাপাসিয়া সভাপতি অ্যাডভোকেট মন্জুরুল হক, সাধারণ সম্পাদক

আমিনুর রহমান, যুব ইউনিয়ন জেলা নেতা আসলাম, উদীচী নেতা জাহাংগীর হোসেন, কৃষক সমিতি নেতা আলতাফ হোসেন, সিপিবি কাপাসিয়া সম্পাদক ছিদ্দিক ফকির, গাজীপুর সাংবাদিক ইউনিয়ন যুগ্ম সম্পাদক নুরুল আমীন সিকদার প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। পটুয়াখালী: পটুয়াখালী জেলার খেপুপাড়ায় ৮ অক্টেবর এখানে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী মানিকমালা খেলাঘর আসর, নাগরিক উদ্যেগ ও মহিলা ক্লাবের যৌথ উদ্যোগে নোয়াখালী, খাগড়াছড়ি, সাভার, সিলেট এবং সাম্প্রতিক নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের নারীর উপর নৃশংসতার প্রতিবাদে ও এর সাথে জড়িতদের শাস্তির দাবীতে বেলা ১১ টায় শহীদ সুরেন্দ্র মোহন চৌধুরী সড়কে এক প্রতিবাদী সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি খেপুপাড়া শাখার সম্পাদক ও নাগরিক উদ্যোগ কলাপাড়ার আহ্বায়ক নাসির তালুকদার। সভায় বক্তব্য রাখেন মানিকমালা খেলাঘর আসরের সভাপতি ও মহিলা কাউন্সিলর মনোয়ারা বেগম, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) পটুয়াখালী জেলা শাখার সমন্বয়ক ও আইনজীবী জহিরুল ইসলাম সবুজ, খেপুপাড়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অবসর প্রাপ্ত সিনিয়র সহকারী শিক্ষিকা ও মহিলা ক্লাবের সহ-সভাপতি মিসেস নমিতা দত্ত, অবসর প্রাপ্ত সহকারী প্রধান শিক্ষক ও উদীচী সদস্য অমল কর্মকার, খেপুপাড়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আবদুল কাদের, মঙ্গলসূখ মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসর প্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও নাগরিক উদ্যোগ কলাপাড়ার সদস্য, এস.এম আবুল হোসেন, কলাপাড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি হুমায়ুন কবির, রহমতপুর কে.জি.এ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও মানিকমালা খেলাঘর আসরের সাধারন সম্পাদক মোঃ শাহ সুজা উদ্দিন, মানিকমালা খেলাঘর আসরের সদস্য ও নারীনেত্রী লাখাইন উইন, যুবনেতা ও সমাজকর্মী দিবাকর সরকার, নাগরিক উদ্যোগ কলাপাড়ার সদস্য আবদুল মতিন, পটুয়াখালী সরকারী কলেজের স্নাতক (সম্মান) শ্রেণির ছাত্রী সালমা জাহান। সভাটি পরিচালনা ফরিদগঞ্জ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও নাগরিক উদ্যোগ কলাপাড়ার সদস্য আতাজুল ইসলাম। বক্তারা নারীর উপর সহিংসতার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জ্ঞাপন করেন এবং জড়িতদের গ্রেফতার করে জরুরী আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শান্তির দাবী জানান। বিভিন্ন শ্রেণি পেশার ও বিভিন্ন শিশা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষকবৃন্দ উপনিস্থত ছিলেন। মানিকগঞ্জ: মানিকগঞ্জে ধর্ষক-নিপীড়কদের উদ্দ্যেশে প্রতীকী ডাস্টবিন স্থাপন করে থু-থু ও ময়লা নিক্ষেপ করেছে মানিকগঞ্জ জেলার কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সাধারণ জনতা। ১৫অক্টোবর সকাল সাড়ে ১০টায় মানিকগঞ্জ শহরে শহিদ রফিক চত্বরের পূর্ব পাশে মানিকগঞ্জ নিপীড়নবিরোধী ছাত্র জোটের উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এসময়, ধর্ষক-নিপীড়কদের ঘৃণা ও এদের সামাজিকভাবে বয়কট করার আহ্বান জানায় নিপীড়নবিরোধী ছাত্র জোট। সংগঠনটি জানায়, ধর্ষণ ও নিপীড়ন রোধে আইনের কঠোর প্রয়োগ যেমন প্রয়োজন, ঠিক তেমনি পরিবার, স্কুল-কলেজ থেকে শুরু করে সামাজিক এবং রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর মধ্যে ধর্ষণ বিরোধী নৈতিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে হবে। দেশের বিচারহীনতার কারণে ধর্ষণের পরিমাণ দিন-দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ধর্ষণ-নিপীড়ন সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হচ্ছে। ধর্ষকের শাস্তি ‘মৃত্যুদণ্ড’ আইনকে স্বাগত জানাই, তবে কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না, দলমত নির্বিশেষে এ আইনের যথাযথ প্রয়াগ করতে হবে। সারাদেশে অব্যাহত ধর্ষণ-নারীর প্রতি সহিংসতার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত সময়ের মধ্যে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। সংগঠনটি দাবি করেন, পাঠ্যপুস্তকে নারীর প্রতি অবমাননা- বৈষম্যমূলক যেকোনো প্রবন্ধ, নিবন্ধ, পরিচ্ছদ, ছবি, নির্দেশনা ও শব্দচয়ন পরিহার করতে হবে। ধর্মীয়সহ সব ধরনের সভা-সমাবেশে নারী বিরোধী বক্তব্য শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করতে হবে। কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন, মানিকগঞ্জ নিপীড়নবিরোধী ছাত্র জোটের আহ্বায়ক এম. আর.লিটন, সদস্য সচিব রাসেল আহম্মেদ, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. জাহাঙ্গীর আলম, অনিকা হোসাইন, রোকনুজ্জামান রাসেল, ও শাহিনুর রহমান এবং সদস্য জাকির হোসেন রুবেল ও মোহাম্মদ মাহবুবুল আলম। এছড়াও একর্মসূচিতে প্রতীকী ডাস্টবিনে ধর্ষক-নিপীড়কদের প্রতি থু-থু ও ময়লা ফেলে ঘৃণা প্রদর্শন করে শহিদ রফিক সড়কের বিভিন্ন পথচারীরা।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..