ইতিহাসের পাতা থেকে

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
জিয়া কি বলেন- ভাষ্যকার প্রায় চার বছর একটানা দেশ চালানোর পরে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কি আবিষ্কার করলেন যে দেশটা ঠিকমতো চলছে না? অন্তত গত ৩০ আগস্ট বঙ্গভবনে জাতীয় অর্থনৈতিক কাউন্সিলের সভায় প্রদত্ত তাঁর সুদীর্ঘ ভাষণের সংবাদপত্রে প্রকাশিত বিবরণ পড়লে এটাই মনে হয়। (....) সংকট, সংকট বঙ্গভবনের ঐ সমাবেশে মন্ত্রী, সরকারের উচ্চপদস্থ আমলা, পরিকল্পনাবিদ ও টেকনোক্রাটরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের উদ্দেশ্যে ‘আপনারা এটা করছেন, আপনারা সেটা করছেন না, আপনারা কি করছেন’– এরকম ভাষায় কয়েক ঘণ্টাব্যাপী ভাষণে রাষ্ট্রপতি জাতীয় অর্থনীতির প্রায় প্রতিটি খাতের কার্যাবলী সম্পর্কে কিছু না কিছু উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন পাটকলগুলোতে ক্রমাগত লোকসানের কথা, বলেছেন ‘আমাদের যথাযথ কৃষি পরিকল্পনা নেই’...‘পানি আমাদের প্রধান সম্পদ হলেও পানি নীতি বলে কিছু নেই।’ বলেছেন ‘আমরা অনেক আলোচনা করেছি, অনেক দির্দেশ জারি করা হয়েছে, কিন্তু এগুলো বাস্তবায়িত হচ্ছে না।’ (....) (সাপ্তাহিক একতার ১৯৭৯ সালের ২১ সেপ্টেম্বরের সংখ্যায় প্রকাশিত) *** ট্রেড ইউনিয়ন এবং রাজনীতি মনজুরুল আহসান খান সারাবিশ্বে আজ শ্রমিক শ্রেণির আন্দোলন সবচাইতে শক্তিশালী ও প্রভাবশালী আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। বিশ্বের অর্থনৈতিক পরিবর্তনের মূল চালিকা শক্তি হচ্ছে শ্রমিক শ্রেণি। বেশ কয়েকটি দেশেই শ্রমিক শ্রেণির নেতৃত্বে সমাজতন্ত্র কায়েম হয়েছে, গড়ে উঠেছে বিশ্ব সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা। অন্যান্য দেশেও শ্রমিক শ্রেণির সংগ্রাম ক্রমেই জোরদার হয়ে উঠছে। শ্রমিক শ্রেণির এইসব সংগ্রামে ট্রেড ইউনিয়নসমূহ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বাংলাদেশেও ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলন ক্রমেই জোরদার হয়ে উঠছে। ধীরে হলেও শ্রমিক কর্মচারীদের সংখ্যা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে, সেই সঙ্গে বৃদ্ধি পাচ্ছে ট্রেড ইউনিয়নের সংখ্যা এবং সেগুলোর সদস্য সংখ্যা। স্বাধীনতার আগে যেখানে ইউনিয়নের সংখ্যা ছিল দুই হাজারের মত, এখন তার সংখ্যা তিন হাজারেরও বেশি। সদস্য সংখ্যাও এখনও ৮ লাখের ওপরে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। নতুন নতুন কর্মচারীরা ইউনিয়ন গড়ে তুলছে। ব্যক্তিগত, বিচ্ছিন্ন এবং স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলনের স্থানে নিচ্ছে তুলনামূলকভাবে সংগঠিত ও ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন। ধর্মঘটের ঢেউ সাম্প্রতিককালে আমরা লক্ষ্য করেছি সামরিক শাসন, ধর্মঘটের ওপর নিষেধাজ্ঞা, ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার হরণ এবং নানা বিধি-নিষেধ সত্ত্বেও বাংলাদেশের একপ্রান্ত থেকে আর এক প্রান্তে শ্রমিক কর্মচারীদের ধর্মঘটের ঢেউ বয়ে গেছে। (....) পেটনীতি না রাজনীতি আমাদের দেশে শ্রমিক আন্দোলনে একটি কথা প্রচলিত আছে–“গরিব মানুষের রাজনীতির দরকার নাই, দরকার পেটনীতির।” কথাটা শুনতে ভালই শোনা যায়। বুর্জোয়াদের দালালরা এ কথা প্রচার করে। সাধারণ শ্রমিকরাও অনেকে এ কথায় বিভ্রান্ত হন। কিন্তু এ কথার মূল উদ্দেশ্য কী? এর মানে হচ্ছে শ্রমিকরা মজুরি বৃদ্ধি না অর্থনৈতিক দাবি-দাওয়া নিয়েই ব্যস্ত থাকুক, রাজনীতি বা ক্ষমতা দখলের ব্যাপারে মাথা ঘামানোর দরকার নেই। আসলে রাজনীতি অর্থনীতিরই প্রতিফলন যা ঘণীভূত রূপ। ধনিক শ্রেণি রাজনীতিটা তাদের আয়ত্তে রাখতে চায়। (....) নিরপেক্ষ ট্রেড ইউনিয়ন ট্রেড ইউনিয়নগুলোকে নিরপেক্ষ রাখার একটা প্রচেষ্টাও লক্ষ্য করা যায়। নিরপেক্ষ কথাটা শুনতে ভাল। আগে থেকেই কোনও বিশেষ পক্ষ অবলম্বন না করে সঠিক পথে এগিয়ে যাওয়া। কিন্তু সঠিক পথ কোনটা? শোষণ থেকে মুক্তির জন্য যে শ্রেণিসংগ্রাম চলছে, শোষক এবং শোষিতের মধ্যে যে লড়াই চলছে অর্থাৎ বুর্জোয়া রাজনীতি আর শ্রমিক শ্রেণির রাজনীতির যে সংগ্রাম চলছে তার মাঝামাঝি কোনও নিরপেক্ষ অবস্থান নেয়া যায় না। এই সংগ্রামে হয় শ্রমিক শ্রেণির পক্ষে থাকতে হবে অথবা বুর্জোয়াদের পক্ষ নিতে হবে। শ্রমিক শ্রেণিকে সমাজ পরিবর্তনের বিপ্লবী সংগ্রাম থেকে দূরে সরিয়ে রাখার জন্যই নিরপেক্ষতার ধূয়া তোলা হয়। (....) (....) শ্রমিক শ্রেণির নিজস্ব রাজনৈতিক দল শ্রমিক শ্রেণির সচেতন অগ্রবাহিনী। শ্রমিক ও মেহনতি জনগণের বিপ্লবী সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়ে শ্রমিক ও মেহনতি জনগণের রাষ্ট্র কায়েম ও সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠাই এর লক্ষ্য। শ্রমিক শ্রেণির রাজনৈতিক দল এবং ট্রেড ইউনিয়ন সংগঠনের কাজ পরস্পর পরিপূরক। তবে দুটি সংগঠনের সুনির্দিষ্ট ভূমিকা গুলিয়ে ফেললেও মারাত্মক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। (....) *** বিপ্লব করবে মেহনতি মানুষ -মোহাম্মদ ফরহাদ দিনাজপুর প্রতিনিধি দেশ স্বাধীন হয়েছে, ব্রিটিশ ও পাকিস্তানি শোষণের যাঁতাকল নেই, তবু কেন হাজার হাজার মানুষকে অনাহারে মৃত্যুর অপেক্ষায় থাকতে হয়? কেন বর্তমানে গ্রাম-বাংলার লাখ লাখ মানুষের কাজ নেই, মজুরি নেই! কেন রংপুর-দিনাজপুর-জামালপুরে অনাহারক্লিষ্ট মানুষের বুকফাটা আহাজারি? বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ফরহাদ গত ২১ অক্টোবর, রবিরাব দিনাজপুরে এক বিরাট জনসভায় এই প্রশ্ন তুলে বলেন যে, দেশ স্বাধীন হয়েছে, কিন্তু কৃষক-শ্রমিক মধ্যবিত্ত মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন হয়নি। মেহনতি মানুষের রক্ত শোষণ করে গুটি কয়েক মানুষ মুনাফার পাহাড় গড়ছে আর গরিব দিন দিন আরও গরিব হচ্ছে। তিনি বলেন, নিজেদের ভাগ্যের পরিবর্তন নিজেদেরই করতে হবে। কৃষক, শ্রমিক, ক্ষেতমজুর, মধ্যবিত্ত, ছাত্র-যুব সমাজ ও বুদ্ধিজীবীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে বেঁচে থাকার দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলব। তিনি মেহনতি মানুষের ন্যূনতম দাবি আদায়ের সংগ্রামে দলমত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। (....) (সাপ্তাহিক একতার ১৯৭৯ সালের ২৬ অক্টোবরের সংখ্যায় প্রকাশিত) *** জেলা নেতৃবৃন্দসহ কেন্দ্রীয় কমিটির সভা সমাপ্ত কমিউনিস্ট পার্টি গ্র্যানাইটের মতো ঐক্যবদ্ধ থাকবে মণি সিংহ বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মণি সিংহ তাঁর স্বভাবসুলভ তেজোদ্দীপ্ত কণ্ঠে ঘোষণা করেন যে, কমিউনিস্ট পার্টি গ্র্যানাইট শিলার মতো ঐক্যবদ্ধ থাকবে। তিনি বলেন, শোষণ ব্যবস্থার উচ্ছেদ ঘটিয়ে শ্রমিক-কৃষক মেহনতি মানুষের মুক্তি ছাড়া কমিউনিস্ট পার্টির আর কোনও স্বার্থ নাই। এই মহান বিপ্লবী লক্ষ্য অর্জনের জন্য সকল মেহনতি শ্রেণির মানুষকে সুদৃঢ় বিপ্লবী ঐক্য গড়ে তুলতে হবে এবং এই সংগ্রামে কমিউনিস্ট পার্টিকে তার ঐতিহাসিক ভূমিকা পালনের জন্য আদর্শগত, রাজনৈতিক ও সাংগঠনিকভাবে ঐক্যবদ্ধ ও উত্তরোত্তর শক্তিশালী হয়ে উপযুক্ততা অর্জন করতে হবে। কমিউনিস্ট পার্টির ঐক্য বিনষ্ট হওয়া সম্পর্কে অপপ্রচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ওটা প্রতিক্রিয়াশীলদের রুটিন ওয়ার্ক। সকল দেশেই মেহনতি মানুষের অগ্রবাহিনী কমিউনিস্ট পার্টিকে প্রতিক্রিয়াশীলরা ভাঙতে চেয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি ঐক্যবদ্ধ আছে এবং থাকবে। তৃতীয় কংগ্রেসের মাধ্যমে পার্টির আদর্শগত, রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক ঐক্য এবং শক্তি আরও জোরদার হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত বৈঠকে পার্টি সকল জেলা ও বিভিন্ন মহকুমা কমিটি কেন্দ্রীয় কমিটির সংশ্লিষ্ট শাখা এবং বিভিন্ন গণসংগঠনের নেতৃত্বস্থানীয় প্রবীণ ও নবীন সদস্যগণ যোগদান করেন। তাঁরা দ্বিতীয় কংগ্রেসের পরবর্তী এযাবতকালের দেশের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনাবলী, বর্তমান সামগ্রিক পরিস্থিতি, পার্টির ভূমিকা, ভবিষ্যতের করণীয় প্রভৃতি বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন ও মতামত দেন। তৃতয়ি কংগ্রেসের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক প্রস্তুতি সংক্রান্ত পুংখানুপুংখ আলোচনার সূত্রপাত করেন কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ফরহাদ। তিনি রাজনৈতিক আলোচনায় কমিউনিস্ট পার্টির ঐতিহাসিক ভূমিকার ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, কমিউনিস্ট পার্টি তথা মার্কসবাদী-লেনিনবাদী পার্টির নেতৃত্বমূলক ভূমিকা ছাড়া সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা যায় না। (....) (সাপ্তাহিক একতার ১৯৭৯ সালের ১৬ নভেম্বরের সংখ্যায় প্রকাশিত) *** কিশোরগঞ্জে দিনমজুর সমিতি কাজ চাই, অনাহারে মরতে চাই না নিজস্ব সংবাদদাতা কিশোরগঞ্জের মানুষ অনাহার অর্ধাহারে মারা যাচ্ছে, শতকরা ৫৮ জন দিনমজুর, ক্ষেতমজুর ও ভূমিহীন কৃষক এই সংকটে পতিত হয়েছে এবং বেকার হয়ে পড়েছে। অবিলম্বে এদের কোন কর্মসংস্থান ও পূর্ণ রেশন প্রদানের দাবি জানানো হয়েছে। গত ২৭ অক্টোবর কিশোরগঞ্জ দিনমজুর সমিতি আয়োজিত দিনমজুর সমাবেশে গৃহীত প্রস্তাবে ভূমিহীন ও দিনমজুরদের কর্মসংস্থানের জন্য কৃষিনির্ভর কুটিরশিল্প স্থাপনের সুপারিশ করা হয়। স্থানীয় বারইখাল প্রকল্পের কাজে দিন মজুরদের ন্যায্য পাওনা পরিশোধের দাবি করা হয় এবং দিনমজুরদের জন্য কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচির অধীনও টেস্ট রিলিফের কাজ চালু করার দাবি করা হয়। (....) ***

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..