পুঁজিবাদী শোষণের মর্মকথা

লুৎফর রহমান

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
পুঁজিবাদী সমাজে মূল দুটি শ্রেণি বিদ্যমান। একটি বুর্জোয়া শ্রেণি। এই শ্রেণিটি উৎপাদনের উপকরণ ও সামাজিক সম্পদের মালিক পুঁজিপতিদের একটি শ্রেণি। অন্য শ্রেণিটি প্রলেতারিয়েত। এরা উৎপাদনের উপকরণ থেকে বঞ্চিত হয়ে শোষণের বস্তু হিসেবে মজুরি-শ্রমিকদের একটি শ্রেণি। পুঁজিবাদের আত্মপ্রকাশের জন্য অবস্থাগুলো গড়ে ওঠেছিলো সামন্ততন্ত্রের ভাঙন এবং পুঁজির আদিম সঞ্চয়নের সময়। সেগুলো ছিলো, ১) সম্পদচ্যুত এক বিশাল জনগোষ্ঠীর গঠন, যারা ছিলো ব্যক্তিগতভাবে স্বাধীন কিন্তু উৎপাদনের উপকরণ থেকে বঞ্চিত। তারা বেঁচে থাকতে পারতো শুধু পুঁজিপতিদের কাছে শ্রমশক্তি বেচে; ২) কয়েকজন ব্যক্তির হাতে অর্থ ও উৎপাদনের উপকরণের সঞ্চয়ন; ৩) বিশ্ব পুঁজিবাদী বাজার গঠন। সরল পণ্য উৎপাদনে, পণ্যের মালিক নিজে যেসব পণ্য উৎপাদন করতো তা বিক্রি করে শুধু তার প্রয়োজনীয় অন্যান্য পণ্য কিনতো। সরল পণ্য সঞ্চলনের সূত্রটি প-অ-প অর্থাৎ পণ্য-অর্থ-পণ্য। এই ধরনের পণ্য বিনিময়ের লক্ষ্য হলো পণ্যের মালিকের প্রয়োজন মেটানো। পুঁজিপতি উৎপাদনকাজে নিযুক্ত হয় মুনাফার জন্য। সে অর্থের একটা অঙ্ক আগাম খরচ করে আরো বেশি কিছু পাওয়ার জন্য। সুতরাং পুঁজির সূত্রটি পণ্য সঞ্চলনের সূত্র থেকে আলাদা। তা প্রকাশ করা যায় এইভাবে, অ-প-অ’। এখানে অ’= অ+উ। অর্থাৎ অর্থ-পণ্য-অর্থ+উদ্বৃত্ত-মূল্য। সরল পণ্য উৎপাদনের অ আর পুঁজিবাদী পণ্য উৎপাদনের অ’-এর মধ্যে পার্থক্য আছে। এখানে উ মানে উদ্বৃত্ত-মূল্য কী, এই প্রশ্নটি আসে। একজন পুঁজিপতি ১০, ০০০ টাকা দিয়ে একটি পণ্য উৎপাদন করে শুধু ১০, ০০০ টাকায় বেচার জন্য নয়। ধরা যাক যে পুঁজিপতি ১০, ০০০ টাকা ব্যবহার করলো একটি পণ্য (প) উৎপাদনের জন্য এবং তারপর সেটি বেচলো ১১, ০০০ টাকায়। সে তার পুঁজি বাড়ালো ১, ০০০ টাকা। আগাম ১০, ০০০ টাকা দেয়ার পর এই ১, ০০০ টাকা বৃদ্ধিকে মার্কস বলেছেন, উদ্বৃত্ত-মূল্য। এই বাড়ানোই হচ্ছে পুঁজির লক্ষ্য, পুঁজির গতির চূড়ান্ত বিন্দু। পুঁজিপতি যে আগাম অর্থ বরাদ্দ করে এবং এই অর্থ যে বৃদ্ধি পায় তার উৎস কী, স্বভাবত এই প্রশ্নটাও আসে। প্রকৃতপক্ষে আগাম দেয়া পুঁজির উৎস নিহিত আছে পুঁজিপতির কেনা শ্রম-শক্তি-পণ্যের বিশেষ গুণের মধ্যে; সেই গুণটি হচ্ছে উদ্বৃত্ত-মূল্য উৎপাদনের ক্ষমতা। পুঁজিপতি তার ব্যবসা চালু করার সময় ঘর ও যন্ত্রপাতি, সাজ-সরঞ্জাম, কাঁচামাল ও উৎপাদনের অন্যান্য উপকরণ ক্রয় করে। শ্রমিকদেরও ভাড়া করে পুঁজিপতি। শ্রমিকদের ভাড়া করে মানে তাদের একমাত্র সম্বল শ্রমশক্তি অর্থাৎ তাদের কাজ করার ক্ষমতা কেনে। পুঁজিবাদে শ্রমশক্তি হয়ে ওঠে একটি পণ্য। যে কোনো পণ্যের মতো শ্রমশক্তিরও মূল্য ও ব্যবহার-মূল্য আছে। শ্রমশক্তি পণ্যটির মূল্য নির্ধারিত হয় তার উৎপাদনে এবং পুনরায় উৎপাদনে সামাজিক শ্রম ব্যয়ের দ্বারা। বেঁচে থাকা ও কাজ করার জন্য একজন লোকের খাদ্য, বস্ত্র ও আবাসন দরকার পড়ে অর্থাৎ শ্রমিককে তার দৈনন্দিন চাহিদা পূরণ করতে হয়। কিন্তু শ্রমিকের দরকারি এসব জীবনধারণের উপকরণ হলো পণ্যসামগ্রী এবং সেগুলোরও নিজস্ব একটা মূল্য আছে। সেজন্যই শ্রমশক্তি পণ্যটির মূল্য শ্রমিকের জীবনধারণের উপকরণের মূল্য দিয়ে নির্ধারিত হয়। পুঁজির প্রয়োজন পড়ে নিরন্তর শ্রমশক্তির একটা প্রবাহের। তাই শ্রমিকের পরিবারের ভরণপোষণের জন্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের মূল্যও শ্রমশক্তির মূল্যের অন্তর্ভুক্ত হওয়া উচিত। সূক্ষ্ম যন্ত্রপাতি চালানোর মতো দক্ষ শ্রমিক পুঁজিপতিদের দরকার হয় বলে শ্রমিকের প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা বাবদ ব্যয়ও শ্রমশক্তির মূল্যের অন্তর্ভুক্ত হওয়া উচিত। যে কোনো পণ্যের মতো শ্রমশক্তিরও ব্যবহার-মূল্য আছে। পুঁজিবাদী শোষণের রহস্য নিহিত আছে এখানেই। শ্রমশক্তির এমন একটি বিশেষ ব্যবহার-মূল্য আছে যা পৃথিবীর অন্য কোনো পণ্যের নেই। জুতা, পোশাক, চাল প্রভৃতি যে কোনো পণ্যের ব্যবহার-মূল্য ভোগের প্রক্রিয়ায় শেষ হয়ে যায়। অথচ শ্রমশক্তি পণ্যটির ব্যবহার-মূল্য ভোগের প্রক্রিয়ায় শেষ হয়ে যায় না। বরং এই পণ্যটি নিজের মূল্যের চেয়ে বেশি মূল্য উৎপাদন করার ক্ষমতা রাখে। শ্রমিকের কর্ম-দিবস দুই অংশে বিভক্ত। কর্ম-দিবসের যে অংশে শ্রমিক তার শ্রমশক্তির মূল্যের একটা সমমূল্য সৃষ্টি করে, তাকে বলে আবশ্যকীয় শ্রম-সময়। আবশ্যকীয় শ্রম-সময়ে ব্যয়িত শ্রমকে বলা হয় আবশ্যকীয়-শ্রম। কর্ম-দিবসের অন্য যে অংশে শ্রমিক পুঁজিপতির জন্য মেহনত করে তাকে বলা হয় উদ্বৃত্ত শ্রম-সময়। উদ্বৃত্ত শ্রম-সময়ে শ্রমিক উদ্বৃত্ত-শ্রম ব্যয় করে এবং তখন সৃষ্টি করে উদ্বৃত্ত-মূল্য। এই উদ্বৃত্ত-মূল্যের সবটাই পুঁজিপতি আত্মসাৎ করে। উদ্বৃত্ত-মূল্য (উ) হলো উদ্বৃত্ত শ্রম-সময়ে শ্রমিকের দাম-না-দেয়া শ্রমের দ্বারা সৃষ্ট মূল্য। উদ্বৃত্ত-মূল্য নিংড়ে নেয়াই পুঁজিবাদী উৎপাদনের মূল লক্ষ্য। এই লক্ষ্যই পুঁজিবাদী উৎপাদনের চালক। শ্রম-বাজারে, পুঁজিপতি শ্রমশক্তি পণ্যটি কেনে এর উদ্বৃত্ত-মূল্য সৃষ্টি করার ক্ষমতাকে প্রয়োগ করার জন্য। উদ্বৃত্ত-মূল্যের নিয়ম হলো পুঁজিবাদের মূল অর্থনৈতিক নিয়ম। এই নিয়ম পুঁজিবাদী উৎপাদনের লক্ষ্য আর তা অর্জনের উপায় দুটোকেই প্রকাশ করে। প্রকাশ করে পুঁজিবাদী সমাজের মূল উৎপাদন-সম্পর্ককে। বুর্জোয়া শ্রেণির দ্বারা মজুরি-শ্রমিকদের শোষণের সম্পর্ককে। দাসতন্ত্র ও সামন্ততন্ত্রে দাস-মালিক আর সামন্ত প্রভুরা তাদের প্রয়োজন ও খেয়াল মেটানোর জন্য মেহনতি মানুষের উদ্বৃত্ত-শ্রম নিংড়ে নিতো। পুঁজিবাদে শ্রমিকের উদ্বৃত্ত-শ্রমের উৎপাদকে পরিবর্তিত করা হয় অর্থে। এই অর্থকে আবার কাজে লাগানো হয় নতুন উদ্বৃত্ত-মূল্য সৃষ্টিকারী বাড়তি পুঁজি হিসেবে। বুর্জোয়া অর্থনীতিবিদরা সংজ্ঞা দেন যে পুঁজি হচ্ছে একটা বস্তু। পুঁজি সংক্রান্ত এমন ধারণা বুর্জোয়াদের খুবই কাজে লাগে। পুঁজি যদি একটা জিনিস হয় তাহলে অতীতকাল থেকেই তার অস্তিত্ব ছিলো, কেননা মানুষকে শুরু থেকেই জিনিস নিয়ে কাজ করতে হতো। প্রকৃতপক্ষে পুঁজি একটা জিনিস নয়। পুঁজি হচ্ছে বুর্জোয়া আর প্রলেতারিয়েতের মধ্যে নির্দিষ্ট একটি অর্থনৈতিক সম্পর্ক। বস্তু, যেমন - ঘরবাড়ি, যন্ত্রপাতি, কাঁচামাল ইত্যাদি পুঁজি নয়। হ্যাঁ, এগুলো পুঁজি যখন এসবের মালিক এগুলোকে মজুরি-শ্রম শোষণের কাজে ব্যবহার করে। সুতরাং পুঁজি হচ্ছে শোষণের হাতিয়ার। পুঁজি হচ্ছে সেই মূল্য যা তার মালিককে উদ্বৃত্ত-মূল্য এনে দেয় মজুরি-শ্রম শোষণের মাধ্যমে। উদ্বৃত্ত-মূল্য উৎপাদনে পুঁজির বিভিন্ন অংশ বিভিন্ন ভূমিকা পালন করে। পুঁজিপতি পুঁজির একটি অংশকে ব্যবহার করে উৎপাদনের উপকরণ কেনার জন্য, কারখানার ঘর ও আনুসাঙ্গিক সবকিছু নির্মাণের জন্য, সাজসরঞ্জাম, কাঁচামাল, জ্বালানি, প্রভৃতি কেনার জন্য। একটি পণ্যের উৎপাদনে, উৎপাদনের এইসব উপকরণের মূল্য স্থানান্তরিত হয় তৈরি প্রডাক্টটিতে। স্থানান্তরিত হয় শ্রমিকের মূর্ত শ্রমের সাহায্যে। পুঁজির এই অংশটির মূল্যের পরিমাণ পরিবর্তিত হয় না। মার্কস তাই একে বলেছেন স্থির পুঁজি (সপু)। পুঁজির অপর অংশটি শ্রমশক্তি কেনার জন্য খরচ হয়। উৎপাদন প্রক্রিয়ায় এই পুঁজির মূল্যের পরিমাণ পরিবর্তিত হয়। শ্রম প্রয়োগে উদ্বৃত্ত-মূল্য হয়। আর উদ্বৃত্ত-মূল্যের পরিমাণ দিয়ে এই পুঁজি বাড়ে। মার্কস একে অস্থির পুঁজি (অপু) বলেছেন। শ্রমিকের মূর্ত শ্রম পণ্যটির ব্যবহার-মূল্য সৃষ্টি করে, আর ব্যবহৃত হওয়া উৎপাদনের উপকরণ স্থানান্তরিত করে তৈরি প্রডাক্টটিতে। সেই সাথে শ্রমিকের বিমূর্ত শ্রম সৃষ্টি করে নতুন মূল্য। বিমূর্ত শ্রমের একটি অংশ হচ্ছে উদ্বৃত্ত-মূল্য। এটা হলো মজুরি-শ্রমিকের শ্রমের দুই রকম চরিত্রের একটি প্রকাশ। মার্কস পুঁজির যে বিভাজন স্থির ও অস্থির পুঁজিতে করেছিলেন তাতে উদ্বৃত্ত-মূল্য সৃষ্টির ক্ষেত্রে পুঁজির অংশগুলোর বিভিন্ন ভূমিকা প্রকাশ পেয়েছিলো। মার্কস উদ্বৃত্ত-মূল্যের ব্যাখ্যা করেছিলেন বিজ্ঞানসম্মতভাবে। এই প্রমাণ উপস্থিত করেছিলেন যে মজুরি-শ্রমিকের উদ্বৃত্ত-শ্রমই হচ্ছে উদ্বৃত্ত-মূল্যের একমাত্র উৎস। অর্থাৎ উদ্বৃত্ত-মূল্য আসে মজুরি-শ্রম শোষণ থেকে। উদ্বৃত্ত-মূল্য উৎপাদনের পদ্ধতি বেশি উদ্বৃত্ত-মূল্য পাওয়ার জন্য পুঁজিপতিরা শ্রমিকদের ওপর শোষণ চরম মাত্রায় বাড়িয়ে দেয়। সেই শোষণের মাত্রা নির্ধারণ করা যায় উদ্বৃত্ত-মূল্যের হার থেকে, অথবা শ্রমিকের কর্ম-দিবসটির উদ্বৃত্ত শ্রম-সময় ও আবশ্যকীয় শ্রম-সময়ের অনুপাত থেকে। কেননা শ্রমিকের উদ্বৃত্ত শ্রমের দাম দেয়া হয় না। তা উদ্বৃত্ত-মূল্যে মিশে থাকে। আর শ্রমিকের আবশ্যকীয় শ্রম-সময়ের দাম দেয়া হলেও তা অস্থির পুঁজিতে যোগ হয়। উদ্বৃত্ত-মূল্যের হার উ’ নির্ধারিত হয় শতাংশ হিসেবে প্রকাশিত অস্থির পুঁজি অপু-র সাথে উদ্বৃত্ত-মূল্য উ-এর অনুপাত হিসেবে। সুতরাং উদ্বৃত্ত-মূল্যের হারের সূত্রটি হলো : উ’ =..... ঢ১০০( অপ) শ্রমশক্তির দৈনিক মূল্য যদি হয় ৪ টাকা এবং কর্ম-দিবসে উৎপন্ন উদ্বৃত্ত্বমূল্য যদি হয় ৬ টাকা তাহলে উদ্বৃত্ত-মূল্যের হার হবে : উ’ = ৬/৪ ঢ১০০ = ১৫০%। উদ্বৃত্ত-মূল্যের হার শ্রমশক্তি শোষণের মাত্রা দেখায়। কর্ম-দিবসের বিভিন্ন অংশের অনুপাত হিসেবেও তা প্রকাশ করা যায় উদ্বৃত্ত-শ্রম-সময় উ’ = ....... ঢ ১০০। আবশ্যকীয় শ্রম-সময় উদ্বৃত্ত-মূল্যের হার একটি আপেক্ষিক রাশি, আর উদ্বৃত্ত-মূল্যের মোট পরিমাণ হলো একটি অনাপেক্ষিক রাশি। পুঁজিপতির দ্বারা শোষণ করা উদ্বৃত্ত-মূল্যের পরিমাণকে তা প্রকাশ করে। উদ্বৃত্ত-মূল্যের মোট পরিমাণ নির্ভর করে শোষণের হারের ওপরে এবং মজুরি-শ্রমিকের সংখ্যার ওপরে। উদ্বৃত্ত-মূল্যের মোট পরিমাণের সূত্রটি হলো: উ=উ’ঢঅপু। এখানে উ’ হলো উদ্বৃত্ত-মূল্যের হার এবং অপু হলো সকল শ্রমিকদের পারিশ্রমিকের জন্য আগাম দেয়া অস্থির পুঁজি। স্পষ্টতই, শ্রমশক্তি শোষণের হার বাড়িয়ে এবং মজুরি-শ্রমিকদের সংখ্যা বাড়িয়ে উদ্বৃত্ত-মূল্যের মোট পরিমাণ বাড়ানো যায়। উদ্বৃত্ত-শ্রমের ভাগটা বাড়ানোর জন্য পুঁজিপতিরা দুটি প্রধান পদ্ধতি ব্যবহার করেন। প্রথমটি হলো কর্ম-দিবস লম্বা করা। আবশ্যকীয় শ্রম-সময় ঠিক রেখে তারা উদ্বৃত্ত শ্রম-সময় বাড়ায়। ফলে উদ্বৃত্ত-মূল্যের হার এবং এর মোট পরিমাণ বাড়ানো সম্ভব হয়। কর্ম-দিবস লম্বা করে যে উদ্বৃত্ত-মূল্য সৃষ্টি করা হয় তাকে অনাপেক্ষিক উদ্বৃত্ত-মূল্য বলে। কিন্তু কর্ম-দিবস লম্বা করার মধ্যে শারীরিক, সামাজিক ও অন্যান্য সীমা আছে। সে কারণে পুঁজিপতি উদ্বৃত্ত-মূল্য আরো বাড়ানোর ইচ্ছায় শোষণের হার বৃদ্ধির নতুন নতুন কৌশল বের করে। শ্রমশক্তি শোষণের মাত্রা বাড়ানোর দ্বিতীয় পদ্ধতিটি হলো কর্ম-দিবসের স্থায়িত্বকাল ঠিক রেখে আবশ্যকীয় শ্রম-সময় হ্রাস করা। কর্ম-দিবসের কোনো পরিবর্তন না ঘটিয়ে আবশ্যকীয় শ্রম-সময় হ্রাস করার সাহায্যে সৃষ্ট উদ্বৃত্ত-মূল্যকে বলা হয় আপেক্ষিক উদ্বৃত্ত-মূল্য। আবশ্যকীয় শ্রম-সময় কমানো হয় সামাজিক শ্রম উৎপাদনশীলতা বাড়িয়ে। এটি করা হয় শ্রমিকদের জন্য জীনধারণের উপকরণ উৎপাদনের শাখাগুলোতে। সেটা শ্রমিকদের জীবনধারণের উপকরণের মূল্য হ্রাস করতে সাহায্য করে। সহায্য করে শ্রমশক্তির মূল্য হ্রাস করতে। তার সাথে জড়িত থাকে আবশ্যকীয় শ্রম-সময় হ্রাস। এই হ্রাসকৃত সময়েই শ্রমিক এমন একটি মূল্য উৎপাদন করে যা তার শ্রমশক্তির মূল্যের সমতুল্য। অতিরিক্ত উদ্বৃত্ত-মূল্য আপেক্ষিক উদ্বৃত্ত-মূল্যের অন্যতম ধরণ হলো অতিরিক্ত উদ্বৃত্ত-মূল্য। এর কারণেও শ্রমিকের জীবনধারণের উপকরণের মূল্যে হ্রাস ঘটে। ফলে আবশ্যকীয় শ্রম-সময় কমে যায়। মুনাফার তাড়নায় প্রত্যেক পুঁজিপতিই নতুন প্রযুক্তিবিদ্যা ব্যবহার করতে চেষ্টা করে। একই শিল্পে অন্য পুঁজিপতিরা যতোক্ষণ প্রযুক্তির ব্যবহার না করে ততোক্ষণ পর্যন্ত প্রথম ব্যবহারকারীর উৎপাদন খরচ কম হয়। এবং তার পণ্যের একক মূল্য কম থাকে। কিন্তু সে পণ্য বিক্রি করে কম দামে না, বাজার দামে। ফলে সে একটা অতিরিক্ত উদ্বৃত্ত-মূল্য পায়। লেখক : কলামিস্ট

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..