নিত্যপণ্যের দাম লাগামহীন

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
কয়েক মাস যাবত পেঁয়াজ, চাল, আলুসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী। কাঁচা বাজারগুলোতে অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে শাক-সবজির দাম। এতে করে চরম বিপাকে পড়ছেন নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষ। বাজারে গিয়ে হতাশ হয়ে ফিরছেন অনেকে। নিত্যপণ্যের লাগামহীন দামে সীমিত আয়ের মানুষেরা বেশি বিপাকে পড়েছেন। বন্যা ও টানা বর্ষণের দোহাই দিয়ে ব্যবসায়ীরা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। পণ্যের বাজার সংকট না হলেও ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে দাম বৃদ্ধি করেছে। সপ্তাহের ব্যবধানে সব ধরনের সবজিতে কেজিতে ১০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। বিভিন্ন সবজির দাম এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চড়া। বিক্রেতারা বলছেন, সবজির সিজন না হওয়া আর বন্যায় ফসলের ক্ষতি হওয়ায় বাজারে সবজির সংকট রয়েছে। তবে ক্রেতারা বলছেন, বাজারেতো সবজির কোনো ঘাটতি নেই, তবে দাম বাড়ছে কেন? এর মধ্যে আলুর দামও বেড়ে গেছে অস্বাভাবিকভাবে। বাঙালির খাদ্য তালিকায় দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ পণ্যটির নাম আলু। সারা বছর আলুর চাহিদা থাকে। কিন্তু বছরব্যাপী চাষও হয় না। এখন আর চাষিদের কাছে আলু মজুদ নেই। সব বড় বড় ব্যবসায়ী ও মজুতদারদের কাছে চলে গেছে। এসব ব্যবসায়ী ও মজুতদারদের ওপরই এখন আলুর দাম নির্ভর করছে। তারা চাইলেই বাজারে সংকট তৈরি করতে পারেন। বর্তমানে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে আলু বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা কেজি দরে, যা নজিরবিহীন। অথচ অতি প্রয়োজনীয় এই পণ্যটির উৎপাদন খরচ কেজিপ্রতি মাত্র ৮ দশমিক ৩২ টাকা। কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক এক হিসেবে উঠে এসেছে, হিমাগারে রাখাসহ প্রতিকেজি আলুর পেছনে খরচ পড়েছে ১৮ টাকা ৯৯ পয়সা। আলুর দামে অস্থরিতা ঠেকাতে গত ৭ অক্টোবর পণ্যটির দাম বিশ্লেষণ ও সর্বোচ্চ মূল্যের সুপারশিসহ জেলা প্রশাসকদরে কাছে চিঠি দেয় কৃষি বিপণন অধিদপ্তর। আলুর সর্বোচ্চ মূল্য ৩০ টাকা র্নিধারণ করে চিঠি দেয়ার পরও পণ্যটির দাম কেজিতে ২০ থেকে ২৫ টাকা বেড়েছে। শুধু আলুই নয়, বাজারে ক্রেতাকে অস্বস্তি দিচ্ছে সবজি, পেঁয়াজ, চালসহ বেশিরভাগ নিত্যপণ্য। ৮০ টাকা কেজির কমে মিলছে না কোনো সবজি। গত ১৬ অক্টোবর রাজধানীর কারওয়ান বাজার খুচরা বাজার, মগবাজার, রামপুরা, মালিবাগ, মালিবাগ রেলগেট, শান্তিনগর, সেগুনবাগিচা, ফকিরাপুল, মতিঝিল টিঅ্যান্ডটি কলোনি বাজার এবং খিলগাঁও বাজার ঘুরে এসব চিত্র উঠে এসেছে। এসব বাজারে কেজিতে ১০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়ে প্রতি কেজি করলা বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকায়, উস্তা ৯০ থেকে ১০০ টাকা, মানভেদে ঝিঙে-ধন্দুল-পটল বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা, চিচিঙা ৬০ থেকে ৭০ টাকা, আলু ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, কাকরোল আকারভেদে ৮০ টাকা, ঢেঁড়স বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা, পেঁপে ৪০ থেকে ৫০ টাকা, কচুর লতি ৭০ থেকে ৮০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা, বেগুন ৮০ থেকে ১১০ টাকা, টমেটো ১২০ থেকে ১৩০ টাকা, গাজর ৯০ থেকে ১০০ টাকা ও ধনিয়া পাতা ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি দরে। আলু উৎপাদনে বাংলাদশের অবস্থান এখন বিশ্বে সপ্তম। এ সাফল্য বাংলাদশেকে এনে দিয়েছে আলু উৎপাদনকারী শীর্ষ ১০ দেশের কাতারে। দেশে আলুর বাম্পার ফলন হলেও একদিকে কৃষকরা ন্যায্য দাম পাচ্ছে না অন্যদিকে ক্রেতারাও কম দামে আলু কিনতে পারছে না। এর সুফল ভোগ করছে মধ্যস্বত্বভোগীরা। এটা উৎপাদন ও বিক্রিকেন্দ্রিক চিরাচরিত চিত্র। এই চিত্র বদলাতে হবে। মনে রাখতে হবে আলু এখন দেশের অন্যতম অর্থকরী ফসল। অন্যতম মাধ্যম হয়ে উঠছে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনেরও। কৃষকরা যাতে উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য পায় তা নিশ্চিত করতে হবে সরকারকেই। আলু যেহেতু পচনশীল পণ্য তাই পর্যাপ্ত হিমাগার তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি উচ্চমূল্যও নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..