যুদ্ধবিরতিতে সম্মত আজারবাইজান ও আর্মেনিয়া

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা বিদেশ ডেস্ক : নাগর্নো-কারাবাখ নিয়ে চলমান যুদ্ধ থামাতে একমত হয়েছে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান। রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়। সেখানেই দুই দেশ সাময়িক সময়ের জন্য যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে। রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ যুদ্ধবিরতির খবর নিশ্চিত করেছেন। ১৪ অক্টোবর দুই দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে টেলিফোন আলাপে রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই শোইগু সংঘাতপূর্ণ নাগরনো-কারাবাখ অঞ্চলে অস্ত্রবিরতি পালন করতে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। নাগরনো-কারাবাখ অঞ্চল নিয়ে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের পুরনো সংঘাত গত ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন করে আবার শুরু হয়। বিতর্কিত অঞ্চলটি আন্তর্জাতিকভাবে আজারবাইজানের অন্তর্ভুক্ত বলে স্বীকৃত। তবে অঞ্চলটির প্রায় শতভাগ বাসিন্দাই আর্মেনীয়। ফলে তারা প্রথম থেকেই এ অঞ্চলে আজারবাইজানের কর্তৃত্ব মানে না। অঞ্চলটির রয়েছে আলাদা সরকার ও সামরিক বাহিনী। স্বাধীনতার পর থেকে কখনই আজারবাইজানের কোনো নিয়ন্ত্রণ ছিল না অঞ্চলটি ওপরে। তবে সম্প্রতি দেশটি নাগর্নো-কারাবাখ দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এর নিন্দা জানিয়ে নাগর্নো-কারাবাখের সেনাবাহিনীর সঙ্গে আজারবাইজানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যোগ দেয় আর্মেনিয়া। গত দুই সপ্তাহের সংঘাতে ৩ শতাধিক মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। এর মধ্যে গত ১০ অক্টোবর রাশিয়ার মধ্যস্থতায় আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার মধ্যে অস্ত্রবিরতির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও যুদ্ধ থামেনি। আজারবাইজানের সরকার এবার দাবি করল, আর্মেনিয়াই প্রথম যুদ্ধ বিরতি লঙ্ঘন করেছিল। সে কারণেই তারা জবাব দিতে বাধ্য হয়েছে। তাদের আরও দাবি, যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরে আজারবাইজানের একটি শহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে আর্মেনিয়া। এতে বহু শিশু অনাথ হয়ে গিয়েছে। জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলে এখবর জানিয়েছে। আজারবাইজানের দাবি, যুদ্ধ বিরতি ঘোষণা হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আজারবাইজানের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর গ্যাঞ্জায় ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালায় আর্মেনিয়ার সেনা। আজারবাইজান জানিয়েছে, গ্যাঞ্জায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত সাত জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত অনেকেই। যার মধ্যে শিশুও আছে। আর্মেনিয়া অবশ্য আজারবাইজানের এই দাবি প্রথম থেকেই অস্বীকার করছে। ১৫ অক্টোবরও তারা জানিয়েছে, আজারবাইজানের কেবল সেনা কাঠামো লক্ষ্য করেই তারা আক্রমণ চালাচ্ছে। সাধারণ মানুষ কখনোই তাদের লক্ষ্য নয়। অপরদিকে, ১৫ অক্টোবর আজারবাইজান জানিয়েছিল, আর্মেনিয়ার রকেট ও মিসাইল লঞ্চার প্যাড ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে আজেরি সেনা। ওই লঞ্চপ্যাড থেকেই আজারবাইজানের বিভিন্ন শহরে হামলা চালানো হতো বলে অভিযোগ।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..