ব্যাংককে বিক্ষোভ অব্যাহত রাখার প্রত্যয় বিরোধীদের

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা বিদেশ ডেস্ক : থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। ১৫ অক্টোবর ভোর ৪টা থেকে এটি কার্যকর হয়েছে। রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে চলমান শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচি থামানোর লক্ষ্যে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুত চান-ওচা। এছাড়া বড় ধরনের যে কোনও সমাবেশের ওপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে বিক্ষোভকারী রাজনৈতিক দলগুলোর কমপক্ষে ৪ নেতাকে। প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুত চান-ওচার পদত্যাগ দাবিতে এবং অসীম সম্মানের রাজার ক্ষমতাকে খর্ব করার দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবাদ বিক্ষোভ হচ্ছে থাইল্যান্ডে। সেই বিক্ষোভের ধারাবাহিকতায় ১৪ অক্টোবর দিবাগত শেষ রাতের দিকে বিক্ষোভকারীরা গভর্নর হাউজের বাইরে বিক্ষোভ করেন। এ সময় পুলিশ তাদের বাধা দেয়। সেখানে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়েছে। গ্রেফতারকৃত বিক্ষোভকারীদের শীর্ষস্থানীয় তিন নেতা হচ্ছেন মানবাধিকার বিষয়ক আইনজীবী অ্যানন নামপা, পেঙ্গুইন নামে সুপরিচিত অ্যাক্টিভিস্ট পারিত চিওয়ারাক এবং পানুসায়া সিথিজিরাওয়াত্তানকুল। টেলিভিশনে প্রচারিত এক ঘোষণায় পুলিশ জানিয়েছে, ‘শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে’ জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। মূলত শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে পরিচালিত এই গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলনকারীদের দাবি, থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ এবং রাজার ক্ষমতা কমিয়ে আনা। গত আগস্টে থাইল্যান্ডের রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে জনসমক্ষে প্রথমবার সমালোচনা করে এবং প্রথাগত ধারার সংস্কারের দাবি তুলে আলোচনায় আসেন বিক্ষোভকারীদের নেতা অ্যানন। ওই মাসের শেষদিকে রাজতন্ত্রের নিয়ম সংস্কারের ১০ দফা দাবি পেশ করে আলোচনায় আসেন পানুসায়া সিথিজিরাওয়াত্তানকুল। তাদের মুখ বন্ধ করে আন্দোলন দমন করতে চাইছে কর্তৃপক্ষ। জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হলেও প্রতিবাদ বিক্ষোভ অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ঘোষণা করেছে থাইল্যান্ডের ফ্রি ইয়ুথ গ্রুপ। ফেসবুকে ‘খানা রাতসাডোন ২৫৬৩’ (পিপলস পার্টি ২০২০) ফেসবুকে এক পোস্টে দাবি করেছেন অন্যায়ভাবে তাদের চার নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে তারা ব্যাংককে জরুরি অবস্থা জারিকে সরকারের ষড়যন্ত্র বলে আখ্যায়িত করেছে। জরুরি অবস্থা জারি হলেও ফ্রি ইয়ুথ গ্রুপ বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে। গণতন্ত্রের সমর্থনে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে চলতে থাকা আন্দোলন থাইল্যান্ডের ক্ষমতাসীনদের জন্য সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে। বিক্ষোভকারীরা সাবেক সেনাপ্রধান ও ২০১৪ সালে সেনা অভ্যুত্থানে ক্ষমতা দখল করা জেনারেল প্রায়ুথের পদত্যাগ দাবি করছে। গত বছর বিতর্কিত এক নির্বাচনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী হন জেনারেল প্রায়ুথ। অগাস্টে সাম্প্রতিক বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর রাজতন্ত্র সংস্কারের দাবি জোরালো হতে থাকে। বর্তমানে থাই আইন অনুযায়ী, রাজতন্ত্রের সমালোচনা করা বেআইনি। এই ধারা দীর্ঘ সময় ধরে চলে আসছে। ২০১৪ সালে সেনা অভ্যুত্থানের পর থেকে জেনারেল প্রায়ুথের বিরুদ্ধে বহু বিক্ষোভ হয়েছে। তবে ফেব্রুয়ারিতে আদালত নতুন করে গণতান্ত্রিক একটি দল বিলুপ্ত করার আদেশ দেওয়ার পর এই আন্দোলন নতুন গতি পায়। ফিউচার ফরোয়ার্ড পার্টি ২০১৯ সালের নির্বাচনে তরুণ ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। দলটি পার্লামেন্টের তৃতীয় বৃহত্তম দল হিসেবে আবির্ভূত হয়। তবে ওই নির্বাচনে জয়ী হয় সেনা সমর্থিতরা। তাদের ওই বিজয় নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। ২০২০ সালের জুলাই থেকে নিয়মিতভাবে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে বিক্ষোভ হয়ে আসছে। গত সপ্তাহে ব্যাংককে হওয়া বিক্ষোভে বিপুল সংখ্যক মানুষ জড়ো হয়। থাইল্যান্ডের বাস্তবতায় রাজতন্ত্রের সংস্কারের দাবি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। কেননা, দেশটিতে রাজতন্ত্রের সমালোচনার সাজা হিসেবে দীর্ঘ সময় ধরে কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..