জনমত সমীক্ষায় ক্রমশ পেছাচ্ছেন ট্রাম্প

ট্রাম্পের অশালীন আক্রমণের মুখে কমলা হ্যারিস

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা বিদেশ ডেস্ক : নির্বাচনের দিন যত এগিয়ে আসছে ততই জনমত সমীক্ষায় পিছিয়ে পড়ছেন ট্রাম্প। রাষ্ট্রপতির কাজের নিরিখে সমীক্ষা বা অ্যাপ্রুভাল রেটিংয়ে ট্রাম্প নজিরবিহীন ভাবে পিছিয়ে পড়েছেন। সিএনএন-র করা দেশব্যাপী সমীক্ষায় ৫৭ শতাংশ রাষ্ট্রপতির কাজে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। মহামারী মোকাবিলায় ট্রাম্প প্রশাসনের কাজে সমর্থন রয়েছে মাত্র ৩০ শতাংশের। তিন সপ্তাহ পরে মার্কিন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। নিউজউইক পত্রিকায় ১৩ অক্টোবর প্রকাশিত শেষ জনমত সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে রিপাবলিকান ট্রাম্পের চেয়ে ডেমোক্র্যাট বাইডেন ১০.৪ শতাংশ এগিয়ে রয়েছেন। আমেরিকার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মোট ৫৩৮ নির্বাচনী কলেজ ভোটের মধ্যে যিনি ২৭০ টি ভোট পাবেন তিনি জয়ী হবেন। প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রতিটি অঙ্গরাজ্যের জন্য জনসংখ্যার ভিত্তিতে নির্বাচনী কলেজের সদস্যসংখ্যা নির্ধারিত থাকে। নির্বাচনে যে প্রার্থী ২৭০ জন ইলেকটরাল কলেজের সদস্যের সমর্থন পান, তিনিই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। যে রাজ্যে যে প্রার্থী সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের ভোট পাবেন, তিনিই সেই অঙ্গরাজ্যের জন্য নির্ধারিত সব নির্বাচনী কলেজের সদস্যের সমর্থন পাবেন। গত নির্বাচনে ট্রাম্প পেয়েছিলেন ৩০৪ টি নির্বাচনী কলেজ ভোট আর হিলারি পেয়েছিলেন ২২৭ টি। বাতিল হয়েছিল ৭ টি ভোট। ফলে এখন পর্যন্ত সব সমীক্ষায় ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী জো বাইডেন রিপাবলিকান প্রার্থী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চেয়ে এগিয়ে থাকলেও ২০১৬ সালের দুঃস্বপ্ন কিছুটা হলেও ডেমোক্র্যাটদের তাড়া করে ফিরছে। ব্রিটিশ পত্রিকা ইকোনমিস্টের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই নির্বাচনে জো বাইডেনের নির্বাচনী কলেজ জয়ের সম্ভাবনা ৯১ শতাংশ। একই সঙ্গে মোট ভোটে বাইডেনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার সম্ভাবনা ৯৯ শতাংশ। ইকোনমিস্ট-এর ভাষ্যে, বাইডেন ৩৪৭টি ইলেকটোরাল ভোট পেতে পারেন। ট্রাম্পের কাছে যেতে পারে ১৯১টি ইলেকটোরাল ভোট। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী দেখা যাচ্ছে, আমেরিকার মোট ৫০ টি রাজ্যের মধ্যে ৯ টি রাজ্যের ভোটের ফলাফল খুব গুরুত্বপূর্ণ হতে যাচ্ছে। এগুলি হল: অ্যারিজোনা, ফ্লোরিডা, জর্জিয়া, মিশিগান, মিনেসোটা, নর্থ ক্যারোলিনা, পেনসিলভানিয়া ও উইসকনসিন, ওহাইও। গত নির্বাচনে এর মধ্যে বেশিরভাগ রাজ্যেই ট্রাম্প জয় পেয়েছিলেন কিন্তু এবারে জনমত সমীক্ষায় মাত্র একটি বাদে বাকি সবগুলিতেই তিনি পিছিয়ে। বিশেষ করে মহিলা ভোটারদের মধ্যে ট্রাম্প অনেকটাই পিছিয়ে আছেন। এছাড়াও, যেসব প্রবীণ ভোটারের আনুকূল্যে ২০১৬ সালে ট্রাম্পের বিজয় সহজ হয়েছিল, সেইসব প্রবীণ শ্বেতাঙ্গ ভোটারদের কাছেও এবারে তাঁর জনপ্রিয়তায় পিছিয়ে থাকা বাড়তি আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ট্রাম্পের কাছে। ইতিমধ্যেই ডাকযোগে ভোটদান শুরু হয়ে গেছে আমেরিকাতে। এক হিসেবে, ১২ অক্টোবর রাত পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ৪ লক্ষ ভোটার ইতিমধ্যে পোস্টাল ভোট দিয়েছেন। ২০১৬ সালের নির্বাচনের এই সময়ে এই পোস্টাল ভোটের সংখ্যা ছিল ১৪ লাখ। অর্থাৎ করোনা আবহাওয়ার মধ্যেও মানুষ এবার ভোট দিতে বেশি তৎপর। সিএনএন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী মোট ভোট পড়তে চলেছে ৬০-৬২ শতাংশের বেশি । এদিকে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির উপরাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী কমলা হ্যারিসকে কদর্য ভাষায় আক্রমণ করলেন রাষ্ট্রপতি ট্রাম্প। টেলিফোনে ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হ্যারিসকে দানব বলেই অভিহিত করেন তিনি। জুড়ে দেন ‘কমিউনিস্ট’ তকমাও। আগামী ৩ নভেম্বর আমেরিকায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। ট্রাম্পের উদ্ভট দাবি, ভোটে বাইডেন জয়ী হলে, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁকে সরিয়ে রাষ্ট্রপতি কুর্সি দখল করবেন হ্যারিস। সম্প্রতি রিপাবলিকান দলের প্রার্থী ও বর্তমানে উপরাষ্ট্রপতি মাইক পেন্সের সঙ্গে বিতর্কসভায় মুখোমুখি হন হ্যারিস। সভায় হ্যারিস জানান ডেমোক্র্যাটরা সরকার গঠন করলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ফ্র্যাকিং বন্ধ করা হবে। এর জেরে ডেমোক্র্যাট পার্টির প্রার্থীকে মিথ্যাবাদী বলেন ট্রাম্প। ‘উনি সীমান্ত খুলে দিতে চান। খুনি এবং ধর্ষকরা যাতে আমাদের দেশে ঢুকতে পারে, ’ সাক্ষাৎকারে বলেন ট্রাম্প। একই সঙ্গে ট্রাম্প জানান, রাষ্ট্রপতি পদে বাইডেন দু’মাসও থাকতে পারবেন না। অন্যদিকে ট্রাম্পের কুরুচিকর মন্তব্যের কড়া ভাষায় জবাব দিয়েছেন ডেমোক্র্যাটিক দলের রাষ্ট্রপতি পদের প্রার্থী জো বাইডেন। একে ‘ঘৃণ্য মন্তব্য’ বলেই জানান তিনি। বাইডেন বলেন, ‘আমেরিকার মানুষ এমন মন্তব্যে পীড়িত ও ক্লান্ত।’ কমলা হ্যারিসকে একজন চমৎকার মানুষ হিসাবেই উল্লেখ করেন বাইডেন। দৃঢ়চেতা মহিলাদের ক্ষেত্রে ট্রাম্প সমস্যায় পড়েন বলেই জানান তিনি। ডিবেটে ট্রাম্পের প্রবল সমালোচনা করেন হ্যারিস অভিযোগ করেন করোনা আবহে ট্রাম্প প্রশাসন মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিতে চাইছে। এছাড়া ট্রাম্পের কথা মেনে করোনার ভ্যাকসিন নেবেন না বলেও জানান তিনি। এনিয়ে হ্যারিসের সমালোচনা করেন পেন্স। এর ফলে নাগরিকদের ভ্যাকসিনের ওপর থেকে ভরসা কমবে। আগামী দিনে কোভিড চিকিৎসার ক্ষেত্রে যা সমস্যা তৈরি করতে পারে, আশঙ্কা প্রকাশ করে জানান পেন্স। যদিও মহামারীর ধাক্কায় বিপুল ছাঁটাই, চীন সম্পর্কিত নীতি, বর্ণবিদ্বেষ এবং জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে হ্যারিসের সমালোচনার বিষয়ে তিনি কোনও উচ্চবাচ্য করেননি। ট্রাম্পের নীতির তীব্র বিরোধিতা করে বাইডেন এবং হ্যারিস ধনীদের ওপরে করের পরিমাণ বৃদ্ধি, সীমান্ত উন্মুক্ত করা, পুলিশের জন্য বাজেটে বরাদ্দ কমানোর প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করেছেন।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..