মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চা শ্রমিকদের কর্মবিরতি চলছে

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে আলীনগর বাগানের চা-শ্রমিকদের কর্মবিরতি
একতা প্রতিবেদক : সিলেট, মৌলভীবাজারসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চা শ্রমিকদের আন্দোলন অব্যাহত আছে। গত সপ্তাহেও চা শ্রমিকরা বিভিন্ন চা বাগানে দুই ঘণ্টার কর্মবিরতি, কোথাও কোথাও সড়ক অবরোধও করেছে। গত ৯ অক্টোবর আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজার আগে দৈনিক মজুরি বৃদ্ধি ও উৎসব বোনাসের দাবিতে সারা দেশের কর্মসূচির অংশ হিসেবে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে মনু-ধলই ভ্যালীর (অঞ্চলের) ২৩টি চা বাগানের চা শ্রমিকরা চা বাগান থেকে বের হয়ে এসে বাজার এলাকায় সড়ক অবরোধ করে দুই ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করে। এদিন কমলগঞ্জে মনু-ধলই ভ্যালির ২৩টি চা বাগানের শ্রমিকরা এ কর্মসূচিতে অংশ নেন। অপরদিকে শমশেরনগর চা বাগানের শ্রমিকরা ৯ অক্টোবর সকাল ৮টায় চা শ্রমিকরা কাজে যোগ না দিয়ে চা বাগান থেকে বিক্ষোভ মিছিল করে এসে শমশেরনগর বাজার চৌমুহনায় সড়ক অবরোধ করে পথ সভা করে। একইভাবে আলীনগর চা বাগানের শ্রমিকরা এ কর্মসূচি পালন করেন। হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার লস্করপুর ভ্যালির ২৪টি চা বাগানে কর্মবিরতি অব্যাহত রয়েছে। ১২ অক্টোবর সিলেটের বিভিন্ন চা বাগানের শ্রমিকরা মানববন্ধন ও দুই ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করেছেন। এদিন সকালে সিলেট এয়ারপোর্ট রোডে এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করেন শ্রমিকরা। এ সময় শ্রমিকরা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকনে। শ্রমিকরা বলেন, চা শ্রমিকদের দৈনিক ৩০০ টাকা মজুরির দাবি দীর্ঘদিনের। বারবার বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি পেলেও এ দাবি বাস্তবায়ন হয়নি। ১৪ অক্টোবর সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে তিনটি চা বাগানের চা শ্রমিকরা চা বাগান থেকে বের হয়ে এসে বাজার এলাকায় সড়ক অবরোধ করে দুই ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করে। এদিন একযোগে সকাল ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত দুই ঘণ্টা কর্মবিরতি পালন করেন। তারা দুর্গাপূজার আগে শ্রমিকদের বকেয়া বোনাস, পূজার বোনাস প্রদান, মজুরি ৩০০ টাকা বৃদ্ধি করা এবং চুক্তি নবায়ন ও বাস্তবায়নের দাবিতে এ কর্মবিরতি পালন করছেন। দেশের ১৬৭টি চা-বাগানের পঞ্চায়েত কমিটির সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন বাংলাদেশ চা -শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা। বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রাম ভজন কৈরী বলেন, চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি বৃদ্ধি একটি নিয়মতান্ত্রিক বিষয়। চা বাগানের মালিকপক্ষের সংগঠন বাংলাদেশী চা সংসদ এ সময়ের মধ্যে মজুরি বৃদ্ধি না করায় চা শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হচ্ছে। তিনি জোর দাবি জানিয়ে বলেন, অবিলম্বে চা শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধিসহ উৎসব বোনাস প্রদান করতে হবে। এদিকে গত ২২ মাসের বোনাস বকেয়া রয়েছে দাবি করে শ্রমিকরা জানান, করোনা মহামারীর দোহাই দিয়ে বোনাস থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে তাদের। কিন্তু করোনা মহামারীর চ্যালেঞ্জিং সময়েও চা বাগানে কাজ করে গেছেন শ্রমিকরা। চা শ্রমিক নেতারা বলেন, চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি বৃদ্ধি একটি নিয়মতান্ত্রিক বিষয়। চা বাগানের মালিকপক্ষের সংগঠন বাংলাদেশি চা সংসদ এ সময়ের মধ্যে মজুরি বৃদ্ধি না করায় চা শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হচ্ছে। তারা জোর দাবি জানিয়ে বলেন, অবিলম্বে চা শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধিসহ উৎসব বোনাস প্রদান করতে হবে। কর্মসূচি পালনকালে চা-শ্রমিক নেতারা বলেন, দৈনিক মাত্র ১০২ টাকার মজুরিতে ৬ থেকে ৭ সদস্যের একটি পরিবারের জীবন যাপন করা খুবই কষ্টকর। প্রতি দুই বছর অন্তর চা শ্রমিক ইউনিয়ন ও চা বাগান মালিকপক্ষের সংগঠন বাংলাদেশীয় চা সংসদ বৈঠক করে মজুরি বৃদ্ধি করে। এবার মজুরি বৃদ্ধির মেয়াদ শেষে আরও কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও নতুন করে মজুরি বাড়ানো হয়নি।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..