সিলেটে পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতন, যুবকের মৃত্যু

এসআই লাপাত্তা

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা প্রতিবেদক : মূল ঘটনার আগে একটু পেছন ফেরা যাক। গত ৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার একটি আদালত রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী থানায় গাড়িচালক ইশতিয়াক হোসেন জনি হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন। এই মামলাটির বিশেষ একটি গুরুত্ব ছিল, সেটি হচ্ছে- এটি ছিল পুলিশি নির্যাতনে হত্যা মামলার প্রথম রায়। আদালত যখন রায় দেন তার আগে বিচারক ছোট্ট একটি পর্যবেক্ষণও দেন। বিচারক বলেন, ‘পুলিশের হেফাজতে যখন নির্যাতন করা হয়, তখন আল্লাহ ছাড়া কারো দেখার ক্ষমতা নেই। এ মামলায় সাক্ষীদের সাক্ষ্যের মাধ্যমে বোঝা গেছে, ঘটনার সময় কত জঘন্যতম ঘটনার সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া কোনো আসামিকে অত্যাচার করা হলে, পানির পিপাসা লাগতে পারে, কিন্তু জাহিদ পানি দেয়নি, যা আইনের শুধু বরখেলাপ নয়, মানবাধিকার চরম লঙ্ঘন হয়েছে। তাই আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত আদালত নিচ্ছে।’ ইশতিয়াক হোসেন জনি হত্যা মামলায় পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জাহিদুর রহমান জাহিদ, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) রাশেদুল ও কামরুজ্জামান মিন্টুর যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেন আদালত। পুলিশের দুই সোর্স সুমন ও রাশেদকেও ৭ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। এই মামলার রায় ঘোষণার পর অপরাধবিষয়ক বিশেষজ্ঞদের ধারণা ছিল, এর পর হয়তো পুলিশি হেফাজতে নির্যেতন বা মৃত্যুর ঘটনা কমে আসবে। এটা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য একটি বার্তা। কিন্তু জনি হত্যা মামলার রায়ের এক মাসের মাথায় সিলেট নগরীর বন্দর বাজার পুলিশ ফাঁড়িতে রায়হান উদ্দিন আহমদ (৩৩) নামে এক তরতাজা যুবককে রাতের বেলায় ধরে এনে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে নির্যাতনে হত্যার আলামত পাওয়া গেছে। পুলিশের এই তদন্ত বলছে, রায়হান যখন বন্দর বাজার পুলিশ ফাঁড়িতে ছিল তখনই তার মৃত্যু হয়েছে। সবশেষ রায়হানের মরদেহ কবর থেকে তুলে যে পুনরায় ময়নাতদন্ত করা হয়েছে তাতে বলা হয়েছে, শরীরে অতিরিক্ত আঘাতের কারণেই রায়হানের মৃত্যু হয়েছে। এরই মধ্যে ফাঁড়ির প্রধান এসআই আকবর আলী ভুঁইয়া পুলিশের নজরদারি ফাঁকি দিয়ে ‘লাপাত্তা’ হয়ে গেছেন। তাহলে জনি হত্যা মামলার রায়ের এক মাসের মাথায় আরেকজন রায়হান হত্যার মামলার বিষয়টি আসলে কী বার্তা দেয়। মানবাধিকার কর্মীদের মতে, স্পষ্টতই এটা আইনের শাসনের বাস্তবায়ন না হওয়া এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতির লক্ষণ। সিলেট নগরীর আখালিয়া এলাকার নেহারিপাড়ার মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে রায়হান উদ্দিন আহমদ গত ১০ অক্টোবর রাতে নিখোঁজ হন। পরের দিন সকালে হাসপাতালে গিয়ে তাঁর লাশ পায় পরিবার। পরে ওই দিন রাতে নিহত রায়হানের স্ত্রী বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত করছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। স্বজনদের অভিযোগ, ১০ হাজার টাকা না পেয়ে রায়হানকে পুলিশ হেফাজতে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আর বন্দর বাজার ফাঁড়ির পুলিশ প্রথম দাবি করেছিল, নগরীর ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাষ্টঘর এলাকায় ছিনতাইয়ের সময় গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন রায়হান। তবে স্থানীয় কাউন্সিলর বলছেন, যে এলাকায় গণপিটুনির কথা বলা হচ্ছে সেখানকার সিসিটিভি ক্যামেরা ফুটেজে এ ধরনের কোনো কিছু দেখা যায়নি। এ ঘটনার পর ওই ফাঁড়ির দায়িত্বরত কর্মকর্তা এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়া, কনস্টেবল হারুনুর রশিদ, তৌহিদ মিয়া ও টিটু চন্দ্র দাসকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এ ছাড়া প্রত্যাহার করা হয়- সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আশেক এলাহী, এএসআই কুতুব আলী ও কনস্টেবল সজিব হোসেনকে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..