জাপানে চীনা বিরোধিদের বৈঠক জাতিসংঘে মুখোমুখি চীন-জার্মানি

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা বিদেশ ডেস্ক : চীনবিরোধী হিসেবে পরিচিত চার দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা জাপানের রাজধানী টোকিওতে ৬ অক্টোবর থেকে বৈঠকে বসছিলেন। দুই দিনের বৈঠকে বসা দেশ চারটি হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও ভারত। দৃশ্যত চীনকে মোকাবিলার কৌশল নির্ধারণের লক্ষ্যেই টোকিওতে মিলিত হয়েছেন তারা। অন্যভাবে বলা যায়, বেইজিংয়ের ডানা ছাঁটতে জাপানে মিলিত হয়েছে এশিয়ায় মার্কিন বলয়ের চার দেশ। অপরদিকে জাতিসংঘে চীনের কড়া সমালোচনায় মত্ত হয়েছিল জার্মানি। বিপরীতে পাল্টা আক্রমণ করে চীন। ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরে নৌ চলাচল ‘অবাধ ও স্বাধীন’ রাখার উপায় খোঁজার যুক্তি দেখিয়ে ২০০৭ সালে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের মধ্যে ‘কোয়াড’ নামে এক সংলাপের সূচনা হয়। ৬ অক্টোবর থেকে টোকিওতে শুরু হওয়া দুই দিনের সম্মেলন ওই বৈঠকের ধারাবাহিকতা মাত্র। ১০ বছর হিমঘরে থাকার পর ‘কোয়াড সংলাপ’ ২০১৭ সাল থেকে নতুন করে জীবন ফিরে পায়। তবে এবারের বৈঠক নিয়ে তাই বিশেষ আগ্রহ তৈরি হয়েছে। আর এই আগ্রহের প্রধান কারণ, বৈঠকটি হচ্ছে সীমান্ত নিয়ে ভারত ও চীনের মধ্যে প্রায় চার মাস ধরে চলা বিপজ্জনক উত্তেজনার মধ্যে। চীন তাদের প্রধান বৈরী এই চারটি দেশের মধ্যে এই বৈঠক নিয়ে যে একইসঙ্গে উদ্বিগ্ন ও ক্ষুব্ধ। টোকিওতে কোয়াডের এই বৈঠক চলার সময় একইসঙ্গে তিন থেকে চারটি নৌ ও বিমান মহড়ার ঘোষণা দিয়েছে বেইজিং। আর জাতিসংঘে একটি প্রস্তাব পেশ করেছে জার্মানি। সেখানে চীনের বিরুদ্ধে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। শিনজিয়াং প্রদেশে উইঘুর মুসলিমদের সঙ্গে অনাচার থেকে শুরু করে তিব্বতে চীনের আগ্রাসন, হংকংয়ের বর্তমান পরিস্থিতি, চীনের মূল ভূখণ্ডে নাগরিকের অধিকার হরণসহ বিবিধ বিষয়ে শি জিনপিংকে আক্রমণ করেছে জার্মানি। তবে চীনকে এই সমস্ত বিষয়ে এই প্রথম আক্রমণ করছে না জার্মানি। মাত্র কয়েক দিন আগে ইউরোপীয় ইউনিয়ন আয়োজিত এক বৈঠকে চীনের প্রেসিডেন্টের সামনেই এই সমস্ত প্রসঙ্গ উত্থাপন করেছিলেন জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল। কিন্তু জাতিসংঘের ঘটনা অন্য দিকে মোড় নেয়। জাতিসংঘে জার্মানির বিপরীতে অংশ নেয় অন্য দিকে চীন এবং তার সমর্থনকারী কিউবা, পাকিস্তান সহ আফ্রিকার এবং আরবের একাধিক রাষ্ট্র। ফলে জাতিসংঘে তীব্র বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়ে বিশ্বের দুই অর্ধ। জার্মানির পদক্ষেপে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয় চীন। ফলে জাতিসংঘে নিজেদের সমর্থন আদায়ে নেমে পড়ে তাঁরা। সঙ্গে পেয়ে যায় পাকিস্তান, কিউবা সহ একাধিক আরব এবং আফ্রিকার দেশকে। এরপর তীব্র ভাষায় জার্মানিকে আক্রমণ করেন জাতিসংঘে চীনের প্রতিনিধি। তিনি বলেন, জার্মানি যা প্রস্তাব পেশ করেছে, তা ভিত্তিহীন। চীন তার নাগরিকদের সঙ্গে অন্যায় ব্যবহার করে না। জার্মানি যা বলছে, তা একান্তই চীনের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এ নিয়ে চীন কারও কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য নয়। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে তুমুল বিরোধিতার মধ্যে ভারতের সংবাদপত্রগুলোকে এক বিরল চিঠি প্রেরণ করে চীন। সম্প্রতি তাইওয়ান দিবস নিয়ে তাইওয়ানের সরকার ভারতের বিভিন্ন পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়েছিল। তা নিয়েও তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে চীন। বলা হয়েছে, ভারতের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক দীর্ঘ দিনের। ভারত বরাবর চীনের ‘এক চীন’ নীতি মেনে চলেছে। ভারত যেন এমন কিছু না করে, যাতে সেই নীতির সঙ্গে আপস করা হয়। ভারতের পত্রপত্রিকা যেন এক চীন নীতি মেনে চলে। আর তাইওয়ানে যে কোনও হামলার ব্যাপারে চীনের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। নেভাদা ইউনিভার্সিটিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা রবার্ট ও’ব্রায়েন এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। এ সময় তিনি বেইজিংকে তাইওয়ান পুনর্দখলের চেষ্টা করলে ওয়াশিংটনের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া মাথায় রাখার পরামর্শ দেন। বিপরীতে চীনা দূতাবাসের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘পম্পেও বারবারই চীনের বিরুদ্ধে মিথ্যা রটিয়েছেন এবং বিদ্বেষপূর্ণভাবে রাজনৈতিক সংঘাত তৈরি করেছেন। আমরা আরও একবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানাতে চাই যে, তারা যেন শীতল যুদ্ধের মানসিকতা ও মতাদর্শিক কুসংস্কার পরিহার করে, বিনা উস্কানিতে চীনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ও আক্রমণ বন্ধ করে এবং চীনের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে সম্পর্ক বজায় রাখে।’

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..