দরিদ্র মানুষের সংখ্যা পৌঁছবে ১৫ কোটিতে

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা বিদেশ ডেস্ক : সংক্রমণের ধাক্কায় অত্যন্ত গরিবের সংখ্যা বেড়ে ১৫ কোটি হতে পারে। ২০২১’র মধ্যেই দারিদ্র বৃদ্ধির এই আশঙ্কা জানাচ্ছে বিশ্বব্যাংক। অর্থনীতিতে নতুন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পরামর্শ দিয়ে বিশ্বব্যাংক বলেছে যে শ্রম, পুঁজি, দক্ষতা এবং উদ্ভাবনী ক্ষমতা নতুন ক্ষেত্র এবং নতুন ব্যবসাগুলির দিকে যাওয়ার উপায় সুগম করা উচিত। ভারতে তথ্য লুকিয়ে রাখার প্রবণতায় খেদ জানানো হয়েছে এই রিপোর্টে। বিশ্বব্যাঙ্কের অনুমান, বিশ্ব অর্থনীতিতে করোনা সংক্রমণের ধাক্কার কারণে অত্যন্ত গরিব মানুষ বাড়বেন। নতুন করে ৮.৮ কোটি থেকে ১১.৫ কোটি মানুষকে এই অবস্থায় পড়তে হতে পারে। অর্থনীতির সঙ্কোচন কতটা হবে তার ওপর এই সংখ্যা নির্ভর করছে। ২০১৭’র তুলনায় অত্যন্ত গরিবের সংখ্যা বৃদ্ধির হার হবে ৯.২ শতাংশ। করোনা সংক্রমণের ধাক্কার মুখে না পড়লে আনুমানিক ৭.৯ শতাংশ কমে যেত অত্যন্ত গরিব মানুষের সংখ্যা। ভারত প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, অত্যন্ত গরিবের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। জনসংখ্যাও বেশি। দারিদ্রের টাটকা তথ্যের গুরুতর অভাব রয়েছে। বিশ্বে দারিদ্রের গতিপ্রকৃতি বোঝার ক্ষেত্রে সমস্যা ভারত। কারণ তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। বিশ্বে দারিদ্র সম্পর্কিত হিসাব করার ক্ষেত্রেও সমস্যা হচ্ছে। করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভারতের মুম্বাইয়ের ধারাভি বস্তির ইতিবাচক অভিজ্ঞতার উল্লেখও করেছে বিশ্বব্যাংক। সামাজিক উদ্যোগ এবং সহমর্মিতা কাজে লাগানোর প্রশংসা করা হয়েছে। বিশ্বব্যাংক বলেছে, ধারাভি বস্তির জনঘনত্ব খুব বেশি। সেখানে করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ার পর অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে নগর প্রশাসন। সমাজের বিভিন্ন অংশকে যুক্ত করা হয় প্রতিরোধের কাজে, ব্যাপক হারে জ্বর এবং অক্সিজেনের মাত্রা পরীক্ষা শুরু হয়। সংক্রমণ ধরা পড়ার তিন মাসের মধ্যে, জুলাইয়ে সংখ্যা প্রায় ২০ শতাংশ কমে যায়। লকডাউনে গরিব পরিবারগুলির সহায়তায় ব্যাপক সামাজিক উদ্যোগ দেখা গিয়েছে। বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং স্বেচ্ছাসেবকরা জরুরি প্রয়োজনের খাদ্য তুলে দিয়েছেন এমন বহু পরিবারের হাতে। বিশ্বব্যাঙ্কের পর্যবেক্ষণ, ধারাভির সাফল্য সম্ভব হয়েছে বিশেষ পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তার সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে সামাজিক উদ্যোগ বজায় থাকার কারণে। বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট ডেভিড ম্যালপাস বলেছেন, মহামারীর কারণে অত্যন্ত গরিব মানুষের বৃদ্ধি দাঁড়াবে বিশ্ব জনসংখ্যার প্রায় ১.৪ শতাংশ। যাঁদের দৈনিক খরচ ১.৯ মার্কিন ডলারের কম। উল্লেখ্য, এই অর্থ এখন ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১৪০ টাকা। এই পরিস্থিতি মোকাবিলার কৌশলেই নতুন ক্ষেত্র এবং ব্যবসায় পুঁজি, শ্রম, দক্ষতা এবং উদ্ভাবন চলাচলের পথ সুগম করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। বিশ্বব্যাঙ্কের রিপোর্ট জানাচ্ছে, দারিদ্রের হার খুব বেশি এমন দেশগুলিতেই কেবল সঙ্কট সীমাবদ্ধ থাকবে না। সঙ্কটে বেশি আক্রান্ত হবে মাঝারি আয়ের দেশগুলি। বস্তুত নতুন করে অত্যন্ত গরিবের বলে চিহ্নিত হবেন, এমন মানুষের ৮২ শতাংশই এই দেশগুলির বাসিন্দা। দারিদ্র মোকাবিলার লক্ষ্যে পৌঁছাতে বিভিন্ন সংঘাত এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সমস্যা আগেই চিহ্নিত। কিন্তু মহামারীর পর ২০৩০-এর মধ্যে কোনও ভাবেই দারিদ্র মুছে দেওয়া যাবে না। বরং ওই সময়ে দারিদ্রের হার হবে ৭ শতাংশ। বিশ্বব্যাংকের অভিমত, প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থনৈতিক নীতিতে দ্রুত পরিবর্তন আনা জরুরি। দুনিয়াজুড়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা তিন কোটি ৬৭ লাখ ছাড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটারস জানিয়েছে করোনাভাইরাস বৈশ্বিক মহামারিতে এ পর্যন্ত বিশ্বের ২১৫টি দেশ ও অঞ্চল আক্রান্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা তিন কোটি ৬৭ লাখ ৪৪ হাজার ৩৪৯। এর মধ্যে ১০ লাখ ৬৬ হাজার ৮১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে উঠেছে দুই কোটি ৭৬ লাখ ৬৩ হাজার ৫৫৫ জন। আমেরিকার দুই মহাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ায় সংক্রমণ এখনও দ্রুত বাড়ছে। অন্যদিকে ইউরোপকে লণ্ডভণ্ড করে দিয়ে করোনা কিছুটা স্তিমিত হলেও সেখানে আবারও নতুন করে রোগটির প্রাদুর্ভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। তবে আশার কথা হচ্ছে, এখন আক্রান্তের পর সুস্থ হওয়ার হার দ্রুত বাড়ছে। ওয়ার্ল্ডোমিটারস-এর তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৭৮ লাখ ৩৩ হাজার ৭৬৩। মৃত্যু হয়েছে দুই লাখ ১৭ হাজার ৭৩৮ জনের। আক্রান্তের হিসাবে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ভারত। দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৬৯ লাখ তিন হাজার ৮১২। এর মধ্যে এক লাখ ছয় হাজার ৫২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। ব্রাজিলে আক্রান্তের সংখ্যা ৫০ লাখ ২৯ হাজার ৫৩৯। এর মধ্যে এক লাখ ৪৯ হাজার ৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..