বিক্ষোভে উত্তাল কিরগিজস্তান

নির্বাচনের ফলাফল বাতিল

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা বিদেশ ডেস্ক : নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগে তা বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন মধ্য-এশিয়ার দেশ কিরগিজস্তানের হাজার হাজার মানুষ। ৪ সেপ্টেম্বরের নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগে এবং নতুন নির্বাচনের দাবিতে শুরু হয় বিক্ষোভ। বিক্ষোভকারীরা পার্লামেন্টের দখল নেন। বিক্ষোভকারীরা জেল থেকে মুক্ত করেন আটকে রাখা বিরোধী দলের সাবেক প্রেসিডেন্ট আলমাজবেক আতামবায়েভ, সাদির জাপারোভসহ বেশ কিছু রাজনীতিককে। পদত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রী কুতাববেক বেরোনোভ। তার পদে বসানো হয়েছে সাদির জাপারোভকে। এরপরই বিরোধী দলের নেতারা স্টেট প্রসিকিউটরের অফিস, জাতীয় নিরাপত্তা কমিটি ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি করেছেন। নিজেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করে কুরসান আশানভ নামক বিরোধী দলীয় এক নেতা বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি সুরোনবাই জিনবেকোভের অবস্থান “অস্পষ্ট”। কিন্তু পুলিশ তার কোনো সন্ধানও করছে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘সরকারের নিয়োগ পাওয়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী খাসকার জুনাশালিয়েভ বিক্ষোভের মুখে “কাপুরুষের’’ মতো পালিয়ে গেছেন। এখন জনগণের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। ২০১০ সালের মতো জাতিগত সহিংসতায় শতাধিক নিহতের কোনো পুনরাবৃত্তি হবে না।’ সাত বছর আগে বিরোধীদের বিক্ষোভ চলাকালে একজন আঞ্চলিক গভর্নরকে অপহরণের জন্য জাপারোভকে ১১ বছরের জেল দেয়া হয়েছিল। একই রকম শাস্তি দেয়া হয়েছিল আরও কিছু রাজনীতিককে। সাবেক প্রেসিডেন্ট আলমাজবেক আতামবায়েভকে দুর্নীতির দায়ে দেয়া হয়েছিল ১১ বছরের জেল। বিক্ষোভকারীরা তাদেরকে মুক্ত করে দিয়েছে। নির্বাচন কমিশন নির্বাচন ফল বাতিল ঘোষণা করে। বর্তমানে সব মিলে দেশটিতে ভয়াবহ এক রাজনৈতিক বিশৃংখলা দেখা দিয়েছে। ৪ সেপ্টেম্বর ‘জালিয়াতির’ নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট সুরোনবাই জিরবেকভের সঙ্গে মিত্রতা আছে এমন দলগুলো বড় জয় পায়। নির্বাচনে ১৬টি দলের মধ্যে পার্লামেন্টে যাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করে মাত্র চারটি দল। এর মধ্যে তিনটি দল প্রেসিডেন্টের একেবারে ঘনিষ্ঠ। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা জানান, দেশটির নির্বাচনে ভোট কেনাবেচা এবং হস্তক্ষেপের দাবি ‘বিশ্বাসযোগ্য’ এবং মারাত্মক উদ্বেগের কারণ। এরপরই রাজধানী বিশকেকসহ বিভিন্ন শহরে শুরু হয় ব্যাপক বিক্ষোভ। নতুন নির্বাচনের দাবিতে বিক্ষোভকারীরা রাতভর দফায় দফায় পার্লামেন্ট ভবনে ঢুকে পড়া ছাড়াও পুলিশের সঙ্গে সংঘাতে জড়ায়। বিক্ষোভে শত শত মানুষ আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। বিক্ষোভ থেকে দেশটির পার্লামেন্ট ভবনে ভাঙচুর ও কিছু অংশে আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভের ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, বর্তমান প্রেসিডেন্ট সুনোরবাই জিনবেকোভের কার্যালয়ে ঢুকে পড়েছেন বিক্ষোভকারীরা। তারা প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের কাগজপত্র জানালা দিয়ে বাইরে ছুড়ে ফেলছেন। ভবনের কিছু অংশে আগুন জ্বলতেও দেখা যায়। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ, টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন বিক্ষোভকারীরা। সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নভুক্ত দেশ কিরগিজস্তানে পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সুপ্রিম কাউন্সিল নামের এই পার্লামেন্টের আসন সংখ্যা ১২০টি। দেশটির আইন অনুযায়ী, নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোট অনুযায়ী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আসন বণ্টন করা হয়। তবে পার্লামেন্টে কোনও আসন পেতে গেলে কোনও দলকে ন্যূনতম সাত শতাংশ ভোট পেতে হয়। ১৯৯১ সালে আলাদা রাষ্ট্র হওয়ার পর বহুবার কিরগিজস্তানের সাধারণ মানুষ এভাবেই বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। ২০০৫ ও ২০১০ সালে দু’জন প্রেসিডেন্ট বিক্ষোভের জেরেই ক্ষমতা হারিয়েছেন। সুরনবে জিনবেকোভ নিজেকে পুনর্র্নির্বাচিত ঘোষণা করে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ডাক দিলেও সংসদ সদস্যের দাবি, প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ অথবা অভিশংসন ছাড়া চলমান সংকট সমাধানের কোনো পথ খোলা নেই।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..