রোহিঙ্গা ক্যাম্পে উত্তেজনা দুদিনে সাতজনকে হত্যা

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা প্রতিবেদক : কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্পে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দুটি পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছে। এর জের ধরে গত ৪ অক্টোবর ও ৬ অক্টোবর রাতভর সংঘর্ষে অন্তত সাতজনকে গুলি করে ও গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। কুতুপালং ক্যাম্প-১ এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে ৪ অক্টোবর তিনজন এবং ৬ অক্টোবর চারজন নিহত হয়। এ সময় আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন। এরপর ৭ অক্টোবর আবার দুপক্ষে সংঘর্ষ বাঁধে। এতে আরো ৩০ জন আহত হয়। এভাবে একের পর এক সংঘর্ঘ ও হামলার ঘটনায় শরণার্থী ক্যাম্পগুলোতে উত্তেজনা বাড়ছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। আর স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, তারা অনেকটাই নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে বসবাস করছেন। সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। তারা বলছেন, এই বিশাল শরণার্থী গোষ্ঠী সামাজিক ও পরিবেশগত অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। রোহিঙ্গাদের সঠিক প্রত্যাবাসন না হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। জাপান, চীন, ভারত ও কোরিয়ার মতো দেশগুলো যারা মিয়ানমারে বিনিয়োগ করছে, রোহিঙ্গা সংকট সমাধান না হওয়ার ফলে যদি পুরো অঞ্চলে অনিশ্চয়তা দেখা দেয় তাহলে তারা তাদের বিনিয়োগের ফলাফল নাও পেতে পারে। টানা দুদিনের সংঘর্ষের ঘটনার পরে চট্টগ্রাম পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আনোয়ার হোসেন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ওই এলাকা পরিদর্শন করেছেন। পরিদর্শন শেষে ক্যাম্প ইনচার্জের অফিস কক্ষে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সাথে মতবিনিময় করেন তিনি। এদিকে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যে এনজিওকর্মীদের সরিয়ে নেয়া হয়েছে। রোহিঙ্গাদের নিয়ে কাজ করা জাতিসংঘ এবং বিভিন্ন পর্যায়ের আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সমন্বয়কারী ইন্টার সার্ভিস কো-অর্ডিনেশন গ্রুপের (আইএসসিজি) সমন্বয়ক সৈকত বিশ্বাস জানান, সাধারণত এনজিওকর্মীদের বিকাল ৪টার পর রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় থাকতে দেয়া হয় না। কিন্তু ক্যাম্পগুলোতে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে নিরাপত্তার কারণে সবাইকে (এনজিও কর্মীদের) ক্যাম্প থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সন্ত্রাসীদের হামলার ভয়ে প্রায় দুই হাজার রোহিঙ্গা কুতুপালং ২ নম্বর পূর্ব ক্যাম্পের তাবলিগ জামায়াত মার্কাজে আশ্রয় নিয়েছিলেন। প্রায় ৫০০ রোহিঙ্গা পরিবারকে লম্বালশিয়ার ক্যাম্প থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. সামছুদ্দৌজা বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র কুতুপালং ক্যাম্পে নতুন ও পুরাতন রোহিঙ্গাদের মধ্যে গত কয়েকদিন ধরে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা চলছিল। পুলিশ জানিয়েছে, গত ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ক্যাম্পে নিয়ন্ত্রণ বিস্তারকে কেন্দ্র করে রোহিঙ্গা নেতা মৌলভী আবু আনাস এবং মো. রফিকের নেত্বত্বে মুন্না গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় গুলিবর্ষণ ও হামলার ঘটনা ঘটে আসছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর সংঘর্ষে ১৫ জনেরও বেশি রোহিঙ্গা আহত হন। এ সময় কুতুপালং ই-ব্লকের ১০-১৫টি ঝুপড়ি ঘর ভাঙচুর করা হয়। বাংলাদেশ উপকূলীয় জেলা কক্সবাজারে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে। প্রায়ই রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারে সেনা অভিযান এবং রাখাইন প্রদেশে গণহত্যার পরিপ্রেক্ষিতে লাখ লাখ রোহিঙ্গা প্রাণভয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। এ বিশাল রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নিজ দেশে প্রত্যাবাসনের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো অগ্রগতি হয়নি।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..