আলোচনার পথে তুরস্ক-গ্রিস

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা বিদেশ ডেস্ক : বিতর্কিত সমুদ্রাঞ্চল থেকে তুরস্কের জাহাজ সরিয়ে নেয়ার পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে আলোচনায় বসার আগ্রহের কথা জানিয়েছে গ্রীস। আর গ্রিসের সঙ্গে তুরস্কের তীব্র বিরোধ সত্ত্বেও বৈঠকে কোনও আপত্তি নেই ভলে জানিয়েছে আঙ্কারা। ফলে শীঘ্রই অনুষ্ঠিত হতে পারে গ্রিক প্রধানমন্ত্রী কাইরিয়াকোস মিতসোকাতিস-এর সঙ্গে তুরস্কের প্রধামন্ত্রী রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের বৈঠক। যদিও তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান বলেন, গ্রিক প্রধামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে আমাদের কোনও সমস্যা নেই। তবে এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, সেখানে আমরা কী নিয়ে আলোচনা করবো এবং কিসের আলোকে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। আর বিতর্কিত সমুদ্রাঞ্চল থেকে তুরস্কের সকল জাহাজ সরিয়ে নেয়ার পরই আলোচনা হতে পারে বলে জানিয়েছে গ্রিস। গ্রীসের প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিতসোতাকিস বলেছেন, তুরস্কের হাতে এখনো সময় আছে। আগামী ২৪-২৫ তারিখ ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্মেলন বসতে যাচ্ছে। এরমধ্যেই তাদের সংকট থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। যদি তুরস্ক এভাবে এই সংকট থেকে নিজেকে সরিয়ে নিতে থাকে তাহলে আলোচনায় গ্রীসের কোনো সমস্যা নেই। ফলে তুরস্ক এবং গ্রীসের মধ্যে আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে প্রবল। পূর্ব ভূমধ্যসাগরে তুরস্কের অশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রমে গ্রিস ও সাইপ্রাস আপত্তি তুললে এ উত্তেজনা তৈরি হয়। তুরস্কের দাবি ওই অঞ্চল তাদের এলাকাভুক্ত। এ নিয়ে গ্রীসের পাশে এসে দাঁড়ায় ফ্রান্স। তুরস্ককে শায়েস্তায় ইউরোপীয় ঐক্যের দাবি তোলেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন। ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠকও করেন তিনি। এর আগে বিতর্কিত সমুদ্রাঞ্চলে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে সঙ্গে নিয়ে নৌমহড়া চালায় গ্রীস।পূর্ব ভূমধ্যসাগর পরিস্থিতি নিয়ে তুরস্কের সঙ্গে আলোচনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সম্প্রতি এ নিয়ে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সর্বশেষ নিজ দেশের সেনাবাহিনীকে ঢেলে সাজানোর ঘোষণা দিয়েছে দেশটি। এ জন্য গত ২ দশকের মধ্যে সবথেকে বেশি সামরিক উন্নয়নের পদক্ষেপ নেয়া হয়। দেশটির প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিতসোটাকিস জানিয়েছেন, তার দেশ উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সামরিক সরঞ্জাম ক্রয় করবে। এর মধ্যে ফ্রান্সের তৈরি ১৮টি রাফাল যুদ্ধবিমান, চারটি ফ্রিগেট এবং চারটি নেভি হেলিকপ্টারও রয়েছে। এ ঘোষণার পরদিনই তুরস্ক তার জাহাজ ফিরিয়ে নিয়ে যায়। ফলে পরিস্থিতি আপাতত শান্ত হওয়ার পথে রয়েছে। গ্রীসও তুরস্কের এমন সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..