ব্যাংককে সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা বিদেশ ডেস্ক : রাজতন্ত্রের সংস্কার দাবিতে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে বিক্ষোভ করেছে হাজারো মানুষ। প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুথ-চান ওচার বিরুদ্ধে এবং সরকার পতন, নতুন সংবিধান ও নির্বাচনের দাবিতে মধ্য জুলাই থেকেই সেখানে বিক্ষোভ দানা বাঁধতে শুরু করে।বিক্ষোভে সামন্ত্রতন্ত্রের পতন হোক, মানুষের জীবন দীর্ঘজীবি হোক- এমন স্লোগান সম্বলিত ব্যানার দেখা গেছে তাদের হাতে। বিক্ষোভকারীরা দীর্ঘদিনের প্রচলিত রীতি ভেঙে রাজা মাহা ভাজিলংকর্নের সমালোচনা করেছে। পুলিশ বলেছে, শনিবার থাম্মাসাট ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে বিক্ষোভে অংশ নেন কমপক্ষে ৫ হাজার মানুষ। হালকা বৃষ্টিপাতের মধ্যে বিক্ষোভকারীরা গ্রান্ড প্যালেসের বিপরীতে সমবেত হন। সাধারণত, রাষ্ট্রীয় কোনো অনুষ্ঠান হয় এই গ্রান্ড প্যালেসে। থাইল্যান্ডে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিক্ষোভের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। তবে গত ফেব্রুয়ারিতে আদালত গণতন্ত্রপন্থী একটি বিরোধী দল ভেঙে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার পর নতুন বিক্ষোভ শুরু হয়। ফিউচার ফরোয়ার্ড পার্টি (এফএফপি) নামের দলটি দেশটির তরুণ, প্রথমবার ভোটার হওয়াদের মধ্যে বিশেষ জনপ্রিয় বলে প্রমাণিত হয়েছে। ২০১৯ সালের মার্চ থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত পার্লামেন্ট নির্বাচনে দলটি তৃতীয় সর্বোচ্চ সংখ্যক আসন লাভ করে। ওই নির্বাচনে জয় পায় ক্ষমতাসীন সাবেক সামরিক নেতাদের নেতৃত্বাধীন দলটি। জুন মাসে কম্বোডিয়ায় নির্বাসিত গণতন্ত্রপন্থী অ্যাকটিভিস্ট ওয়ানচালেরাম সাতাসাকসিত নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার পর থাইল্যান্ডের বিক্ষোভ নতুন গতি পায়। ২০১৪ সালে দেশটিতে সেনা অভ্যুত্থানের পর থেকেই কম্বোডিয়ায় নির্বাসিত থাকা ওই অ্যাকটিভিস্টের সন্ধান এখনও মেলেনি। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ থাই সরকার তাকে অপহরণের নেপথ্যে ভূমিকা রেখেছে। তবে দেশটির পুলিশ ও সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। এসব ঘটনার জেরে জুলাই মাস থেকে থাইল্যান্ডে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে নিয়মিত বিক্ষোভ চলছে। বিক্ষোভকারীদের দাবি প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুথ চান-ওচা’র সরকারের পদত্যাগ এবং সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে সমালোচকদের হয়রানির অবসান ঘটানো। থাইল্যান্ড একটি সাংবিধানিক রাজতন্ত্র। ১৯৯২ সাল থেকে ২০০৬-এর কু পর্যন্ত দেশটি একটি কার্যকর গণতন্ত্র হিসেবেই বিবেচিত হয়েছিল। ২০০৭ সালের ডিসেম্বরে একটি বহুদলীয়, মুক্ত নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশটিতে গণতন্ত্র পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হয়। থাইল্যান্ডের সংবিধানে রাজাকে খুব কম ক্ষমতাই দেওয়া হয়েছে, কিন্তু তিনি জাতীয় পরিচয় ও ঐক্যের প্রতীক। ফলে থাই রাজনীতিতে এবং শাসন ব্যাবস্থায় তার ব্যাপক আধিপত্য রয়েছে। এখনো বিচার বিভাগের প্রধান, সংসদীয় নেতা ইত্যাদি নিয়োগের দায়িত্ব রাজার। থাইল্যান্ডের বিক্ষোভরত নাগরিকরা মূলত একটি প্রকৃত গণতন্ত্রর লক্ষে রাস্তায় রয়েছে। ২০০৭ সালের সংবিধান অনুযায়ী থাইল্যান্ডের জাতীয় আইনসভা দুইটি কক্ষে বিভক্ত - সিনেট বা উচ্চকক্ষ এবং প্রতিনিধিসভা বা নিম্নকক্ষ। উচ্চকক্ষের সদস্যসংখ্যা ১৫০; এদের মধ্যে ৭৬ জন জনগণের সরাসরি ভোটে প্রতি প্রদেশ থেকে ১ জন করে নির্বাচিত হয়ে আসেন। বাকী ৭৪ জন সিনেট সদস্য নির্বাচন কমিশনের তৈরি করা একটি তালিকা থেকে বিচারক ও ঊর্ধ্বতন অফিসারদের দ্বারা বাছাই হন। নিম্নকক্ষে ৪৮০ জন সদস্য, এবং এদের মধ্যে ৪০০ জন থাইল্যান্ডের বিভিন্ন জেলা ও নির্বাচনী এলাকা থেকে সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন। বাকীদেরকে বিভিন্ন দলের তৈরি করা তালিকা থেকে আনুপাতিক হারে বাছাই করা হয়। থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের গভর্নর জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন। কিন্তু থাইল্যান্ডের বাকী ৭৫টি প্রদেশের গভর্নর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে নিযুক্ত হন।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..