শ্রম মন্ত্রণালয় ঘেরাওয়ে পুলিশের বাধা

শ্রমমন্ত্রীর অপসারণ, ড্রাগন গ্রুপের মালিককে গ্রেপ্তারের দাবি

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা প্রতিবেদক : দীর্ঘ পাঁচ মাস ধরে আন্দোলনরত ড্রাগন গ্রুপ শ্রমিকদের আইনগত পাওনা পরিশোধের দাবিতে শ্রম মন্ত্রণালয় ঘেরাও কর্মসূচিতে পুলিশ বাধা দিয়েছে। গত ১৭ সেপ্টেম্বর সকালে ড্রাগন গ্রুপের শ্রমিকরা জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেত হয়ে মিছিল করে সচিবালয়ের দিকে অগ্রসর হলে সচিবালয় লিংক রোডে ব্যাপক পুলিশি বাধার মুখে পড়ে। এ সময় আন্দোলনরত শ্রমিকদের সাথে পুলিশের ধাক্কাধাক্কিতে নারীসহ কয়েকজন শ্রমিক আহত হন। পুলিশি বাধার মুখেই লিংক রোডে অবস্থিত সচিবালয় গেটে অবস্থান নিয়ে সমাবেশ করে শ্রমিকরা। সমাবেশ থেকে অবিলম্বে ড্রাগন মালিককে গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়। পুলিশি বাধার মুখে সংঘটিত সমাবেশে গার্মেন্ট টিইউসি’র সাধারণ সম্পাদক জলি তালুকদার বলেন, দীর্ঘ ৫ মাস ধরে শ্রম মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট কমিটি এবং অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তারা আলোচনার নাম করে শ্রমিকদের ঘোরাচ্ছে। তারা এ যাবতকালে অন্তত ৬-৭ বার মালিকপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেও আইন প্রতিপালনে তাকে বাধ্য করতে সক্ষম হয়নি। তিনি বলেন, ড্রাগন মালিক মোস্তফা গোলাম কুদ্দুস বিজিএমইএ’র প্রথম সভাপতি ও অত্যন্ত প্রভাবশালী হওয়ায় তার অন্যায়ের বিরুদ্ধে কোনো প্রকারের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে কেউ আগ্রহী নয়। গোলাম কুদ্দুস শ্রমিকের আইনানুগ পাওনা পরিশোধে সদর্পে অস্বীকৃতি জানানোর মাধ্যমে শিল্প এবং দেশের স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করার উষ্কানি দিচ্ছেন। জলি তালুকদার বলেন, শ্রমিকদের বিরুদ্ধে যেভাবে বল প্রয়োগ করা হয় সরকার তার সামান্য পরিমাণ মালিকের বিরুদ্ধে করলেও শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি আদায় হয়ে যেত। তিনি অবিলম্বে ড্রাগন মালিককে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে শ্রম আইন প্রতিপালনে মালিকপক্ষকে বাধ্য করার দাবি জানান। সমাবেশে আরও বক্তব্যে রাখেন গার্মেন্ট টিইউসি’র আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মঞ্জুর মঈন, শ্রমিকনেতা হযরত আলী, ড্রাগন শ্রমিক রমেসা বেগম, শিল্পী আক্তার, আব্দুল কুদ্দুস । সমাবেশে অন্যান্য বক্তারা বলেন, শ্রমিকদের আইনানুগ পাওনা পরিশোধ করতে ড্রাগন মালিক সম্পূর্ণ অস্বীকৃতি জানিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আলোচনার নামে কালক্ষেপণ করা শ্রম মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কয়েকদিন আগে শ্রমিকদের একথা জানায়। তারা একইসাথে শ্রমিকের আইনগত পাওনা পরিশোধে মালিককে বাধ্য করতে নিজেদের অপারগতার কথাও প্রকাশ করেন। উল্লেখ্য, গত ২৬ মার্চ ২০২০, সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটিতে ড্রাগন গ্রুপের দু’টি কারখানা ড্রাগন সোয়েটার লি. এবং ইম্পেরিয়াল সোয়েটার লি. কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে কারখানা দু’টি কুমিল্লায়

স্থানান্তরের নোটিস জারি করা হয়। শ্রমিকরা কুমিল্লায় স্থানান্তরিত না হওয়ার কথা জানিয়ে মালিকপক্ষের কাছে আইনানুগ পাওনা পরিশোধের দাবি জানান। পরবর্তীতে মে মাসে নতুন করে করোনা মহামারীর কারণ উল্লেখ করে কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এখন কিছু নতুন শ্রমিক দৈনিক হাজিরার ভিত্তিতে নিয়োগ দিয়ে কারখানা দু’টি চলছে বলে মালিক দাবি করেছে। দীর্ঘদিন কর্মরত পুরাতন শ্রমিকরা কাজে যোগদান করতে গেলে তাদের কাজে যোগদান করতে দেয়া হচ্ছে না। এই অবস্থায়, কয়েক মাস ধরে শ্রমিকরা তাদের আইনানুগ পাওনা অর্থাৎ প্রতি মাসে প্রভিডেন্ট ফান্ড বাবদ জমা করা বেতনের ৭ শতাংশ টাকা এবং আইন অনুযায়ী মালিকের প্রদেয় ৮ শতাংশ টাকা, প্রতি বছর কাজের জন্য সার্ভিস বেনিফিট বাবদ একটি বেসিকের সমান টাকা, অর্জিত ছুটির টাকা, ৩ মাসের বকেয়া বেতন, ২টি বকেয়া বোনাস পরিশোধের দাবিতে আন্দোলন করে আসছে। শ্রমমন্ত্রীর অপসারণ দাবি: আইনানুগ পাওনার দাবিতে আন্দোলনরত ড্রাগন গ্রুপের শ্রমিকরা ১৬ সেপ্টেম্বরও ঢাকায় বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে। এদিন জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ড্রাগন গ্রুপ শ্রমিক সংগ্রাম কমিটির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মঞ্জুর মঈন, ড্রাগন কারখানার শ্রমিক রমেসা বেগম, আব্দুল কুদ্দুস। সমাবেশ শেষে শ্রমিকরা মিছিল করে শ্রম ভবনে অবস্থান গ্রহণ করে। বিক্ষোভ সমাবেশে শ্রমিকনেতা মঞ্জুর মঈন বলেন, শ্রম মন্ত্রণালয়কে একটি অকার্যকর এবং ডাম্পিং দপ্তরে পরিণত করে রাখা হয়েছে। শ্রমিকদের প্রতি কোনো দায়বদ্ধতা রক্ষা করার প্রয়োজন সরকার বোধ করে না বিধায় মালিকদের হুকুমে এ দপ্তর চলছে। যার ফলে শ্রমিকদের বেতন কমানোর উদ্দেশ্যে শ্রম ভবনে ঘটা করে সভা হলেও শ্রমিকের পাওনা আদায়ে এ দপ্তর কোনো ভ‚মিকা রাখতে পারে না। তিনি বলেন, আলোচনার নাম করে কয়েক মাস ধরে শ্রমিকদের রাস্তায় ঘোরানোর দায়-দায়িত্ব শ্রম মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্তাদের নিতে হবে। তিনি আরও বলেন, করোনা মহামারিকালীন সময়ে শ্রমিকদের সীমাহীন দুর্দশার দায়ে শ্রম মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় শ্রমিকের আইনগত পাওনা পরিশোধের দাবির পাশাপাশি তাদের অপসারণের দাবিতে গোটা শিল্পে শ্রমিক আন্দোলন গড়ে উঠবে। বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর জাতীয় জাদুঘরের সামনে ছাত্র-শিক্ষক-লেখক-শিল্পী-জনতার সংহতি সমাবেশ; ২০ সেপ্টেম্বর গণভবন অভিমুখে শ্রমিকদের ভুখা মিছিল কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..