রাষ্ট্র প্রসঙ্গে পুনঃদৃষ্টিপাত

অভিনু কিবরিয়া ইসলাম

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
১. রাষ্ট্র : সংকোচন, বিলোপ ও শুকিয়ে মারা প্রসঙ্গ বলপ্রয়োগকারী সংস্থা হিসেবে কাজ করা রাষ্ট্র তার নাগরিকদের (অর্থাৎ মানুষ) দ্বারা গঠিত হলেও, তাকে সার্বভৌম হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং নাগরিকদের উপর খবরদারি করে। আগের দিনে রাজারা যেমন সার্বভৌম ক্ষমতার চর্চা করত, একই রকম ক্ষমতা রাষ্ট্রের উপর আরোপ করা হয়, আর তাই রাষ্ট্রদ্রোহিতা হয়ে ওঠে মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধ। মানুষের সৃষ্ট রাষ্ট্রই মানুষের উর্ধ্বে উঠে খবরদারি করে৷ এই ধরনের নিপীড়নমূলক রাষ্ট্রকে টিকিয়ে রেখে ন্যায়পরায়ণ সমাজ প্রতিষ্ঠা অসম্ভবই বটে। তবে, আজকের যুগে রাষ্ট্রের চাপিয়ে দেওয়া দাসত্ব থেকে যারা মুক্তি খোঁজেন, তাদের সে পথ খোঁজার পদ্ধতিতে, এমনকি খোদ 'রাষ্ট্রচিন্তা'র ভেতরেও অমিল আছে, রাষ্ট্রকে দেখার পদ্ধতিতে ভিন্নতা আছে। আজকাল নিওলিবারেলর শাসকেরাও এক অর্থে রাষ্ট্রকে সংকুচিত করার কথা বলেন, রাষ্ট্র যত ছোট পরিসরে থাকবে, ততই মঙ্গল বলে তারা প্রচার করেন। তাদের এই কথার অর্থ রাষ্ট্রকে বিলোপ করা নয়, বরং রাষ্ট্রের উপর শাসকশ্রেণির কর্তৃত্বকে আরও নিরংকুশ করার অভিপ্রায়ে রাষ্ট্রের সামাজিক দায়দায়িত্বকে সংকুচিত করাই তাদের উদ্দেশ্য, যাতে শাসকশ্রেণি নির্বিচারভাবে তাদের মুনাফার উপর কর্তৃত্ব বজায় রাখতে পারে। রাষ্ট্র এবং সমাজ দুটি ভিন্ন বিষয় হলেও, রাষ্ট্রে কিছুটা গণতান্ত্রিক চর্চা থাকলে কখনো সখনো রাষ্ট্র পরিচালনায় সামাজিক ইচ্ছার সাথে শাসককে অভিযোজন(adapt) করে নিতে হয়। নিওলিবারেল মতবাদের ফেরিওয়ালা শাসকশ্রেণি সেই ঝামেলাটুকুও আর নিতে চান না। বলপ্রয়োগকারী সংস্থা হিসেবে রাষ্ট্র তাদের মূল টার্গেট নয়, মূল টার্গেট সামাজিক শক্তি ও সমাজের মানুষের যূথবদ্ধতা। তাই একদিকে তারা ব্যক্তিকেন্দ্রিক কিংবা ব্যক্তিসর্বস্ব মতাদর্শ প্রচার করে রাষ্ট্রের সামাজিক দায়িত্বকে উপেক্ষা করতে চায়, মানুষকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে অন্যদিকে প্রতিরক্ষা বা নিরাপত্তার নামে রাষ্ট্রের বলপ্রয়োগকারী অংশকে শক্তিশালী করে। প্রতিরক্ষাখাতে তথাকথিত উন্নত রাষ্ট্রগুলোর বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ অবশ্য তাদের মুনাফার স্বার্থকেও নিশ্চিত করে। আজকের সময়ে, আধুনিক রাষ্ট্রে শাসকশ্রেণি যেমন সরাসরি বলপ্রয়োগের মাধ্যমে ক্ষমতার চর্চা করে, চিন্তার জগতেও রাষ্ট্র প্রভাব রাখে। যে শ্রেণি রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকে, তার মতাদর্শকে সে জনগণের উপর চাপিয়ে দেয়, জনগণের মনের মধ্যে যুগপৎ ভয় ও ভক্তি তৈরি করে রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য শাসকশ্রেণি সামাজিক সম্মতি আদায় করে। গ্রামসি শাসকশ্রেণির এই চাপানো 'মগজধোলাই' প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে অর্গানিক ইন্টেলেকচুয়ালদের সর্বদা 'পরিখা যুদ্ধ' চালাতে বলেছেন। অবশ্য গ্রামসি কিন্তু এই দীর্ঘ ও ক্লান্তিকর পরিখা যুদ্ধ চালাতে বলেছেন পুঁজিবাদী শাসকশ্রেণির মূল দুর্গকে দখল করার অভিপ্রায়েই, অর্থাৎ নিপীড়িতদের পক্ষে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করার উদ্দেশ্যেই। তিনি এবং তাঁর মত মার্কসবাদীরা রাষ্ট্রকে বিলীন করতে চান বটে, তবে তা এক ধাপে নয়। অন্যদিকে অরাজপন্থীরা (anarchist) বিপ্লবের মাধ্যমে রাষ্ট্রকে গায়েব করে দিতে চান, বিপ্লবের পর রাষ্ট্রের আর কোনো প্রয়োজনীয়তা দেখেন না। ২. অরাজ ও স্বরাজ প্রসঙ্গ আজকের সময়ে রাষ্ট্রচিন্তার প্রত্মতাত্ত্বিক অনুসন্ধান করলে তার ভেতরেও বেরিয়ে আসবে বর্তমান সময়ের আর্থ-সামাজিক বাস্তবতা ও তা থেকে উদ্ভুত দার্শনিক সমস্যাবলীর কঙ্কাল। চামড়া-মাংস-চর্বি ছাড়িয়ে বিভিন্ন সময়ের বিষয়গত বাস্তবতার কঙ্কালগুলো আলাদা বা বিচ্ছিম্ন মনে হলেও, এদের মাঝে ঐতিহাসিক সম্পর্কও আছে। তবে প্রশ্ন হলো আজকের যে নিপীড়নমূলক রাষ্ট্র তা থেকে ব্যক্তি বা সমষ্টির মুক্তি কীভাবে সম্ভব? এই ধরনের রাষ্ট্রের বিপরীতে কি আরেক ধরনের রাষ্ট্রই মুক্তি নিশ্চিত করতে পারবে? রাষ্ট্রের কি আদৌ কোনো প্রয়োজনীয়তা আছে? সব নিপীড়িতরা মিলে একযোগে রাষ্ট্রকে ঝেঁটিয়ে বিদায় করলেই তো মুশকিল আসান! অনেকে বলেন, গত শতাব্দীতে মানুষের মুক্তির প্রতিশ্রুতি দিয়ে নিপীড়িত মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে যারা রাষ্ট্রক্ষমতায় গেছেন, সমাজতন্ত্র হয়ে সাম্যবাদের অভিমুখে যারা সমাজকে নিয়ে যেতে চেয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধেও তো রয়েছে বলপ্রয়োগ ও স্বাধীনতা হরণের অভিযোগ। সুতরাং এক অর্থে রাষ্ট্রকেই তো মূল ভিলেন বলা যায়! বল প্রয়োগের অস্ত্র না থাকলে বল প্রয়োগও তো কেউ করতে পারবে না! যেহেতু রাষ্ট্র বলপ্রয়োগ করে, জনগণকে দমিয়ে রাখে, সুতরাং 'রাষ্ট্রের বিলুপ্তি চাই'। অরাজপন্থার সাথে মার্কসবাদীদের এই সরল লাইনে কোনো বিভেদ নেই। অরাজপন্থা কিন্তু গভর্নেন্সের প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করে না। তারা সেল্ফ গভর্নেন্সের কথা বলে, অর্থাৎ, এক অর্থে সীমিত স্থানিক পরিসরে স্বরাজের কথা বলে। মার্কসবাদীরা রাষ্ট্র বিলুপ্তি অর্থে অরাজেরই প্রত্যাশী, কিন্তু তা করতে গিয়ে একটা নির্দিষ্ট সময় মেহনতি মানুষের স্বরাজ প্রতিষ্ঠা করতে চায় এবং সেই স্বরাজের মাধ্যমেই অরাজের জন্য প্রয়োজনীয় শর্তাবলী নিশ্চিত করতে চায়। তারা প্রশ্ন তোলে, বাস্তব বিষয়গত পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রের উদ্ভব ও বিকাশ হয়েছে, সে পরিস্থিতির একটা গুণগত পরিবর্তন না ঘটলে রাষ্ট্রের বিলুপ্তি কি সম্ভব? এখানেই মার্কসবাদী ও অরাজপন্থী বা এনার্কিস্টদের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা যায়। আজকাল অরাজপন্থীদের কেউ কেউ আবার ভিন্ন ধরনের রাষ্ট্রের কথা বলছেন, স্বেচ্ছায় গঠিত কমিউন বা পঞ্চায়েততন্ত্রের মাধ্যমে রাষ্ট্রকে বিকেন্দ্রীকরণ করার কথা বলছেন। 'মুক্তিপরায়ণ সমাজতন্ত্র', যেখানে দাসত্বের বিনিময়ে স্বাধীনতাই হবে মূলমন্ত্র, সেরকম সমাজ তাদের কাম্য। মার্কসবাদীরা সেই আকাঙ্ক্ষার সাথে নিশ্চয়ই দ্বিমত করবেন না। কিন্তু প্রাসঙ্গিকভাবেই এই ধরনের সমাজ বা রাষ্ট্র বিনির্মাণের ক্ষেত্রে বিষয়গত পরিস্থিতির মোকাবিলা কীভাবে হবে তা নিয়ে প্রশ্ন চলে আসে। রাষ্ট্রের প্রশ্নটি নিয়ে আলোচনার সময় মার্কসবাদীরা খোঁজার চেষ্টা করে কেন ও কীভাবে রাষ্ট্রের উদ্ভব ঘটল। কোন বাস্তব এবং ঐতিহাসিক শর্তাবলী রাষ্ট্রকে টিকিয়ে রাখছে এবং কীভাবে এই বল প্রয়োগমূলক রাষ্ট্রকে বিলীন করতে হবে৷ এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে তারা রাষ্ট্রের আধিপত্যকারী শ্রেণিকে চিহ্নিত করে এবং রাষ্ট্র যাদের দমিয়ে রাখে, সেই শ্রেণিকেও চিহ্নিত করে। তারা এটা বোঝে, সমাজবিকাশের এক পর্যায়ে এক ঐতিহাসিক পরিস্থিতিতে কোন ধরনের বাস্তব শর্তাবলী রাষ্ট্রের উৎপত্তি ঘটিয়েছে। আধুনিক রাষ্ট্রের ব্যাকবোন বা মেরুদণ্ডটা কোথায়? রাষ্ট্র কাদের স্বার্থে পরিচালিত হচ্ছে? কোন আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থা রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয়তাটাকে অর্থাৎ এক শ্রেণি কর্তৃক আরেক শ্রেণিকে দমিয়ে রাখার যন্ত্রটাকে টিকিয়ে রাখার বাস্তবতা তৈরি করছে? রাষ্ট্রের বিলুপ্তি ঘটাতে গেলে যে সমাজে বিদ্যমান শ্রেণিরই বিলুপ্তি ঘটাতে হবে এবং তা না হলে এক শ্রেণি কর্তৃক আরেক শ্রেণিকে দমিয়ে রাখতে রাষ্ট্রকে ব্যবহার করবে, এটিও তারা উপলব্ধিতে নিয়ে আসতে পারে। মার্কসবাদীদের মতে রাষ্ট্রের বিলুপ্তির জন্য সর্বাগ্রে দরকার ব্যবস্থার বদল। তারা মনে করে, শ্রেণিবিভাজন টিকিয়ে রেখে রাষ্ট্রের বিলুপ্তি অলীক কল্পনা। তাই শ্রেণি যতদিন আছে, রাষ্ট্রও থাকবে, বিভিন্ন ফর্মে। এক্ষেত্রে লেনিন বলেন রাষ্ট্রকে 'শুকিয়ে মারা'র কথা। হুট করে একদিন রাষ্ট্র নাই হয়ে যাবে বাস্তবতা এমন নয়। রাষ্ট্রে যেসকল শ্রমজীবী মানুষ প্রান্তিক অবস্থানে আছেন, তারা যদি নিজেদের স্বরাজ প্রতিষ্ঠা করতে চান, তাহলে প্রথমে বিদ্যমান রাষ্ট্রযন্ত্রটার দখল তাদের নিতে হবে। শ্রেণি যেহেতু কোন একটা ফরমান জারি করলেই বিলীন হয়ে যাবে না, সুতরাং শ্রমজীবী মানুষের স্বরাজকে টিকে থাকতে তাকেও বলপ্রয়োগ করতে হবে যাতে পুরনো ব্যবস্থা আর ফিরে আসতে না পারে। রাষ্ট্রক্ষমতা হাতে নিয়ে তার সাহায্যে আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থার বদল, জনগণের মধ্যে নিরবচ্ছিন্ন সাংস্কৃতিক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে শ্রেণির বিলুপ্তি ঘটলেই তখন আর বলপ্রয়োগের যন্ত্র হিসেবে রাষ্ট্রের প্রয়োজন হবে না। রাষ্ট্র একটা অপবিত্র জিনিস, এটাকে ধরা বা ব্যবহার করা যাবে না, এই বলে শাসকশ্রেণির হাতে এই অস্ত্রকে ব্যবহারের সুযোগ রেখে দেয়া বাস্তবসম্মত নয় বলেই মার্কসবাদীরা মনে করে। ৩. মানুষের সমাজে রাষ্ট্র রাষ্ট্র বানিয়েছে মানুষ, অর্থাৎ নিজের উপর খবরদারি করার যন্ত্রটাও বানিয়েছে মানুষ এবং সেটাকে টিকিয়ে রাখতে একটা সামাজিক চুক্তিতে মানুষেরা একমত হয়েছে। এই কর্তৃত্বমূলক 'রাষ্ট্রচিন্তা'কে মেনে নেয়া তো তাহলে একধরনের চিন্তারই দাসত্ব! উপরোক্ত কথাগুলো সাধারণভাবে ঠিক মনে হলেও এর মাঝে একটা ফাঁকি আছে। মানুষ প্রজাতিস্বত্ত্বাটি (species being) একই সাথে বিষয় (object) এবং বিষয়ী (subject)। সুতরাং মানুষের কর্মকাণ্ড, তার জীবন উৎপাদনের সাথে সম্পৃক্ত বিষয়াদি একই সাথে যেমন বিষয়গত অবস্থা দ্বারা সীমাবদ্ধ, অপরদিকে মানুষের বিষয়ীগত ভূমিকাও বাস্তব জীবনের উপর প্রভাব ফেলে। বাস্তব জীবনের নিরন্তর সংগ্রামের মধ্য দিয়েই জীবন উৎপাদন করে মানুষ, সংগ্রামের সেই কনটেন্ট (content, আধেয়) প্রকাশিত হয় বিভিন্ন ফর্ম (form, আধার)-এ। রাজার রাজ্য থেকে আজকের রাষ্ট্রের এ ক্রমবিবর্তনও তাই কেবল মানুষের বিষয়ীগত ভূমিকা বা চিন্তার বিবর্তনের ফসল নয়, মানুষের জীবন ও তা উৎপাদনের বিষয়গত শর্তাবলী দ্বারাও নিয়ন্ত্রিত। সুতরাং আজকের মানুষ যে রাষ্ট্রের অধীনতা স্বীকার করে, সে রাষ্ট্র কেবল একটি 'চিন্তা' বা 'গল্প' বা 'মিথ' নয়, এই রাষ্ট্রের অস্তিত্বের শর্ত তৈরি হয়েছে বিষয়গত উপাদানের ভিতরেই। প্রকৃতির অংশ হিসেবে প্রকৃতির মধ্য থেকেই জীবন ধারণের বিষয়াদি উৎপাদন করাই মানুষের জীবন উৎপাদনের মূল শর্ত। এমনকি তার চিন্তাগত উৎপাদনও প্রকৃতি বা বাস্তব বিষয়গত উপাদান থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। প্রতিনিয়ত সে যেসব জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়, তা সংশ্লেষণেই উৎপাদিত হয় নতুন চিন্তা। প্রতিনিয়ত বিষয়গত বাস্তবতার মুখে তার এই এক্সপোজ (expose) হওয়া, তার জীবনকে প্রভাবিত ও নিয়ন্ত্রণ করে। সমষ্টিগত এবং ব্যক্তিগতভাবে মানুষকে প্রতিনিয়ত বাস্তবে এক্সপোজ হতে হয়, এবং সেই বাস্তবের সাথে লড়াই বা সংগ্রামই তার জীবনের মর্মবস্তু বা essence। অন্যভাবে বলা যায় মনুষ্যজীবনের মর্মমূলের এই সংগ্রামই, প্রজাতিস্বত্ত্বা হিসেবে মানুষের বিষয়গত এবং বিষয়ীগত চরিত্রকে ফুটিয়ে তোলে। রাষ্ট্র নিয়ে আলাপ করতে গিয়ে ধান ভানতে শীবের গীতের মত এই প্রাথমিক আলাপটুকু করতেই হয়। রাষ্ট্রকে কেবলমাত্র একটি আইডিয়া(idea) বা চিন্তা হিসেবে বিবেচনা করার সংকট সম্পর্কে ধারণা দিতেই উপরোক্ত কথাগুলো বলা। প্রাচীন নগররাষ্ট্র থেকে আজকের পুঁজিবাদী রাষ্ট্র নিছক চিন্তার বিবর্তনে গঠিত হয়নি, রাষ্ট্রের উৎপত্তি থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের বিবর্তন নির্ভর করেছে বিভিন্ন ঐতিহাসিক পরিস্থিতিতে মানুষের জীবন উৎপাদনের বৈষয়িক শর্তাবলীর উপরেও। স্থুলভাবে, সোজা কথায় বললে, মানুষকে বাঁচতে হলে প্রকৃতির সাথে মিথস্ক্রিয়া করে উৎপাদন করতে হয়েছে এবং উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়িয়ে উৎপাদনকে বিকশিত করতে হয়েছে, উৎপাদনকে বিকশিত করতে গিয়ে মানুষে মানুষের সম্পর্ককে আরো নিবিড় করতে হয়েছে, সমষ্টিগত উৎপাদনের কারণে নতুন নতুন উৎপাদন সম্পর্কে জড়িয়ে পড়তে হয়েছে, উৎপাদিত দ্রব্য বণ্টন করতে হয়েছে, বণ্টনের ক্ষেত্রে 'ব্যক্তি ও সমষ্টি'র দ্বন্দ্বকে মোকাবিলা করে ক্ষণস্থায়ী 'শৃঙখলা' স্থাপন করতে হয়েছে এবং সময়ে সময়ে উৎপন্ন বিষয়াদির মালিকানার প্রশ্নটির সমাধান করতে হয়েছে। সময়ের সাথে সাথে জীবনধারণের এই প্রক্রিয়া আরো জটিল হয়েছে এবং নতুন নতুন বিষয়গত অবস্থার জন্ম নিয়েছে, এবং সেই বিষয়গত অবস্থার প্রেক্ষিতে বিষয়ী মানুষ বদলে ফেলেছে পুরনো নিয়মনীতি-প্রথা-আইন-কানুন-রাষ্ট্র এমনকি চিন্তার পদ্ধতিকেও। সমাজবিকাশের দার্শনিক ব্যাখ্যায় বিষয়গত শর্তাবলীর অনুধাবনের জন্য এবং মানুষের প্রজাতিস্বত্ত্বার মর্মবস্তু (essence)-কে কেন্দ্র করে সমাজের চরিত্র বদলের এই চিন্তা আজো বাতিল বলা চলে না। সমাজ বিকাশের এই ধারাবাহিকতা এবং বিষয়গত পরিস্থিতির সাপেক্ষে রাষ্ট্রকে না বুঝলে রাষ্ট্রকে ঠিকভাবে বোঝা এবং তা বিলোপের প্রচেষ্টাকে অগ্রসর করা কঠিন। ৪.রাষ্ট্রে ব্যস্টি ও সমষ্টির দ্বন্দ্ব 'রাশিয়ার চিঠি'তে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সদ্যগঠিত সোভিয়েত ইউনিয়নের ভূয়সী প্রশংসা করলেও 'ব্যষ্টির সাথে সমষ্টি'র দ্বন্দ্ব মোকাবিলার পদ্ধতি নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। রাষ্ট্র হিসেবে সোভিয়েত ইউনিয়ন অনেক সাফল্য অর্জন করতে পারলেও, সোভিয়েতগুলো শেষমেশ কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় কমিউন হয়ে উঠতে পারেনি কেন, এ প্রসঙ্গে বহু আলাপ করাও যায়। এই আলাপও ওঠে, সেরকম স্বশাসিত সমাজব্যবস্থা বা কমিউন গড়ে ওঠার বিষয়গত পরিস্থিতি কমিউনিস্ট পার্টি ৭০ বছর ক্ষমতায় থেকেও কেন করতে পারেনি। চীনের 'সাংস্কৃতিক বিপ্লব' কেন কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি? কিংবা পারী কমিউন কেন মাত্র ৭০ দিন টিকেছিল? এই আলাপগুলো করার সময় এটাও খেয়াল রাখা দরকার, যে সময় নিয়ে আলাপ হচ্ছে, সে সময়কার বাস্তব পরিস্থিতি যেন বিবেচনার বাইরে না যায় এবং সমাজতন্ত্রের প্রতিপক্ষ শক্তির একতরফা কুৎসা রচনায় প্রকৃত সত্য যাতে চাপা না পড়ে। এ বিষয়গুলো আলাপ এজন্যে জরুরি যে, নিপীড়িত জনগোষ্ঠী বিপ্লব করলেও রাষ্ট্র বা রাষ্ট্রবিহীন অবস্থায় নিজেদের স্বশাসন জারি রাখতে পারল না কেন। এই আলাপগুলোর সময় অনিবার্যভাবেই রবীন্দ্রনাথের উল্লেখিত 'ব্যষ্টি এবং সমষ্টি'র দ্বন্দ্ব সমাধানের প্রশ্ন চলে আসে। মানুষের মধ্যে ব্যক্তি বা ইন্ডিভিজুয়ালের আশা আকাঙ্ক্ষা চাহিদায় বৈচিত্র্য থাকে, সবসময়ে থাকবেও। তাহলে ঐক্যের জায়গাটা কোথায়? প্রজাতিস্বত্ত্বা হিসেবে মানুষের মর্মবস্তু বা এসেন্সের উপর ভরসা করেই হয়তো ঐক্য প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। কিন্তু সংকট হলো, আজকের অসম বিকাশের সমাজে মানুষ তার অস্তিত্বের সেই মর্মমূলকে ভুলে গেছে, প্রকৃতির সন্তান হয়েও প্রকৃতি থেকে বিযুক্ত হয়ে পড়েছে, নিজ থেকে-অন্য মানুষ থেকে হয়ে উঠেছে বিজাতীয় (alienated)। যে বিষয়গত পরিস্থিতি এই সংকটের কারণ কিংবা সোজা কথায় যে আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থা এই আত্মিক সংকটের বিষয়গত উপাদান, তাকে নির্মূল না করে সে ঐক্য প্রতিষ্ঠা সম্ভব কি? ঐতিহাসিক বিষয়গত বাস্তবতাতেই দীর্ঘদিন ধরে সমাজ অসমভাবে বিকশিত হয়ে আসছে। সুতরাং একজন ইন্ডিভিজুয়াল বা ব্যক্তি যে বিষয়গত বাস্তবতায় এক্সপোজড হয়, আরেকজন তা হয় না। এর ফলশ্রুতিতে বিষয়ীগতভাবে ভূমিকা রাখার ক্ষেত্রেও পার্থক্য থাকে। আপনা আপনি এ পার্থক্য দূরীভূত হয়ে, বা 'মুক্তি', 'স্বাধীনতা' ইত্যাদি স্বপ্নে বিভোর হয়ে সকলে স্বশাসিত সংস্থায় অংশ নেবে, এ আশা করা কষ্টকল্পনা বলেই মনে হয়। কেউ যদি ব্যক্তির স্বাধীন ইচ্ছায় বা স্বার্থে কমিউনের বিরোধিতা করে, কমিউন ধ্বংস করতে অপতৎপরতা চালায়? বিভক্ত সমাজে স্বার্থ বিভক্ত, বাস্তব বিভক্ত, মুক্তি বা স্বাধীনতার অর্থও বিভক্ত। গার্মেন্টস মালিকের কাছে স্বাধীনতা হলো ইচ্ছেমত মুনাফা করবার স্বাধীনতা, শ্রমিকের কাছে স্বাধীনতা হলো ইচ্ছে না হলে কাজ না করেও জীবিকা নিশ্চিত করার স্বাধীনতা। এই দুয়ের ঐক্য কীভাবে হবে? বল প্রয়োগ ছাড়া শুধুমাত্র মনের বদল ঘটিয়েই কি তা সম্ভব? কিংবা বিপ্লব হয়ে গেলেই কি এই বিষয়গত অবস্থার পরিবর্তন হয়ে যাবে? এমনকী সবচেয়ে ভালো গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অর্থও তো সংখ্যাগরিষ্ঠের কাছে সংখ্যালঘিষ্ঠের অধীনতা। ব্যক্তি সে অর্থে কিছুটা স্বাধীন তখনই হতে পারে, যখন সমষ্টির স্বার্থের সাথে নিজের স্বার্থ মিলে যায়, আর তা করতে হলে সমাজের মধ্যে সেরকম বিষয়গত উপাদান থাকতে হয়। প্যারাডক্সটা হল, সেই বিষয়গত অবস্থা তৈরিও আপনা আপনি হবে না, বিষয়ীস্বত্ত্বা হিসেবে মানুষকেই তা গড়ে তোলার উদ্যোগ নিতে হয়। এখানেই ভুল হয়, বিভক্ত স্বার্থের দ্বন্দ্বে জোর জবরদস্তিও হয়। ব্যক্তি ও সমষ্টির স্বার্থ মিলে যাওয়ার আগ পর্যন্ত এই দ্বন্দ্বের সমাধান প্র্যাকটিকালি অনেক কঠিন, এবং এই কঠিন কাজটিতে উন্নত গণতান্ত্রিক চর্চা জরুরি, যে গণতন্ত্রে মানুষ কেবল প্রতিনিধিই নির্বাচন করবে না, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী প্রশ্নে মতামতও দিতে পারবে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লব বা তথ্যপ্রযুক্তির বিশাল অগ্রগতির এ যুগে প্রতিনিধিত্বমূলক ব্যবস্থার বিপরীতে ডায়রেক্ট ডেমোক্রেসির সুযোগও তৈরি হয়েছে। সমাজবিকাশের যাত্রাপথে মানবিক সমস্ত অর্জনকে কাজে লাগিয়ে রাষ্ট্রকে অধিকতর গণতান্ত্রিক করতে পারলে রাষ্ট্রের বিলুপ্তির শর্তগুলোও তৈরি হওয়া সম্ভব। অন্যদিকে রাষ্ট্রে ব্যক্তির স্বাধীনতার প্রশ্নটি মার্কসবাদীরা দেখে সৃজনশীলভাবে, একপেশেভাবে নয়। সমষ্টির ঊর্ধ্বে গিয়ে ব্যক্তির বিকাশ সম্পূর্ণ হতে পারে না। বর্তমান সমাজব্যবস্থা ব্যক্তিকে সমষ্টির উপরে স্থান দিতে শেখায়, বিশেষত মধ্যস্তরের জনগণকে আত্মমগ্ন আত্মকেন্দ্রিক জগতে ডুবিয়ে রাখতে চায়। এটা যেমন সত্যি ব্যক্তির বিকাশ সমাজের বিকাশকে ত্বরান্বিত করে, অপরদিকে উল্টোটাও সত্যি। সমাজের প্রতিটি মানুষের মধ্যে সৃজনশীল যে সম্ভাবনা থাকে তা বিকাশের সর্বোচ্চ সুযোগ করে দিতে পারে, এমন সমাজই সকলের কাছে কাম্য। কিন্তু শ্রেণিবিভক্ত সমাজের প্রান্তস্থিত দিন আনা দিন খাওয়া মানুষের দৈনন্দিন জীবনধারণের প্রক্রিয়া এত কঠিন, এত নির্মম যে মনুষ্যজীবন এর সমস্ত সৃজনশীল কাজের প্রক্রিয়া থেকে সে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। তার বেঁচে থাকতে এবং জীবীকা অর্জন করতেই জীবন পার হয়ে যায়, মানবসভ্যতার উৎকর্ষ যতটুকু ঘটেছে, তার স্বাদ সে পায় না, ফলে এসময়েও তার বিকাশ আটকে থাকে। সমাজও তাদের সৃজনক্ষমতাকে ব্যবহার করতে পারে না। সুতরাং ব্যক্তির মুক্তির পূর্বশর্তই হলো সমাজের যে ব্যবস্থা সকলের বিকাশকে রুদ্ধ করে রাখে, তা থেকে মুক্তি। তাই মার্কসবাদীরা সমগ্র সমাজের স্বার্থের প্রতিকূলে ব্যক্তিস্বার্থকে বিবেচনা করতে পারে না। ব্যক্তির অন্যদের ওপর শোষণ করবার স্বাধীনতা কিংবা সমষ্টির স্বার্থের বিপরীতে গিয়ে ব্যক্তির স্বার্থ বজায় রাখবার মতাদর্শের বিরুদ্ধে মার্কসবাদীরা সোচ্চার থাকে। মার্কসবাদীরা মনে করে, ব্যক্তিস্বাধীনতার সীমা অসীমতক নয়, বরং ব্যক্তির বিকাশের স্বার্থেই সমষ্টির স্বার্থের সাথে সংগতিপূর্ণ সীমা পর্যন্তই ব্যক্তিস্বাধীনতার ব্যাপ্তি হওয়া উচিত। গণতন্ত্র, মানবাধিকার ইত্যাদি প্রশ্নের যে খণ্ডিত ব্যাখ্যা দেয়া হয়, মার্কসবাদীরা সেটাকেও খণ্ডন করে। সমাজ বিকাশের প্রতিটি পর্যায়ে মানুষ যতটুকু অধিকার আদায় করে নিয়েছে শাসকশ্রেণির কাছ থেকে, মার্কসবাদীরা তা গ্রহণ করেই সেটাকে আরো পরিপূর্ণ করার চেষ্টা করে। বর্তমান সময়ের গণতন্ত্র মানে কেবল ভোটের মাধ্যমে শাসকশ্রেণির বিভিন্ন অংশকেই ক্ষমতায় নিয়ে আসার প্রক্রিয়া, মানবাধিকার মানে শাসকশ্রেণির ক্ষমতা টিকিয়ে রাখা বা শোষণ করার প্রক্রিয়াকে অক্ষুন্ন রেখেই অধিকারের কথা বলা, সেটা মার্কসবাদীরা বলে থাকে। সমাজে শ্রেণিবিভাজন অটুট রেখে, একটা শ্রেণিকেই বারবার ক্ষমতায় রেখে গণতন্ত্র বা মানবাধিকার কোনটাই পরিপূর্ণতা লাভ করতে পারে না। তবে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার সম্পর্কিত প্রশ্নে মার্কসবাদীরা সংগ্রাম করে, এবং শ্রেণিবিভক্ত সমাজেও মানুষ যতটুকু অধিকার আদায় করতে পেরেছে তা রক্ষা করতে চেষ্টা করে। ৫. রাষ্ট্রকে ভাতে ও পানিতে মারার সংগ্রাম বিষয়ীগত স্বত্ত্বা হিসেবে 'মুক্তিস্পৃহা, স্বাধীনতাকামীতা' মানুষের কাম্য বৈশিষ্ট্য হলেও, মানুষকে আকৃষ্ট করলেও বিষয়গত সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করতে না পারলে তা সে অর্জন করতে পারে না। মানুষ শত কষ্ট-শত অপমান-শত নিপীড়নের মধ্যেও আরেকটা দিন বেশি বাঁচতে চায়, কেননা জৈবিকভাবে তার বেঁচে থাকার মধ্য দিয়েই অযুত নিযুত সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়, তার প্রজাতিস্বত্ত্বা টিকে থাকতে এ প্রণোদনা তার ভেতরেই আছে। এই বাঁচবার ইচ্ছাটাও তার ভেতরকার স্বাধীনতম ইচ্ছা। সেই বাঁচার প্রক্রিয়া, এবং আরো ভালোভাবে বাঁচবার প্রক্রিয়ায় তার সংগ্রামই তার বিকাশের মূলসূত্র। বিষয়গত এ বাস্তবতা ভুলে গিয়ে কোন ধরনের 'উইশফুল থিংকিং' পরিবর্তন আনতে পারে না, বড়জোর কিছু হাততালি কুড়োতে পারে। একটা 'স্বাধীন', 'মুক্তিপরায়ণ', 'ন্যায়ভিত্তিক' সমাজ আমাদের সকলের কাম্য ও লক্ষ্য। সেই সাথে প্রতিটি মানুষই যেহেতু আরো ভালোভাবে বাঁচতে চায়, তাই সে নিজেকে অতিক্রমও করতে চায়। কিন্তু এই অতিক্রম করার প্রক্রিয়ায় কেবল ভাঙলেই চলে না, তাকে গড়তেও হয়। সৃজনশীল উপায়ে পথ খুঁজতে হয় বাস্তব সংগ্রামের মধ্য দিয়েও। এ সময়ে আমরা যেমন আছি, মানুষের বিকাশ এখানেই থেমে থাকবে না, মানুষ আরো অগ্রসর হবে, নিজের মুক্তি ও বিকাশের উপায় সে খুঁজে বের করবে বাস্তব অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েই। রাষ্ট্র নামক এ ব্যবস্থাও যেমন চিরদিন ছিলো না, চিরদিন থাকবেও না। কিন্তু রাষ্ট্রকে চিরতরে বিদায় দিতে গেলে রাষ্ট্রকে কেবল বিমূর্ত আইডিয়া হিসেবে উপলব্ধিতে আনলে ভুল হবে, রাষ্ট্রকে মারতে গেলে তাকে ভাতে মারতে হবে, পানিতে মারতে হবে৷ অর্থাৎ, যে বিষয়গত পরিস্থিতিতে মানুষকে রাষ্ট্র বানাতে হয়েছে, সেই পরিস্থিতিকেই বদলে ফেলতে হবে। আয়রনি হলো, সেটা করতে গেলে, অর্থাৎ রাষ্ট্রকে শুকিয়ে মারতে হলে খোদ রাষ্ট্র নামক যন্ত্রটাকেই ব্যবহার করতে হয়, বিচ্ছিন্ন ব্যক্তিকে সমষ্টির ইচ্ছার অধীনে আনতে হয়। এ প্রক্রিয়ায় অতীত অভিজ্ঞতাগুলো সবসময় সুখকর না হলেও, সেখান থেকে শেখার সুযোগটাও কিন্তু শেষ হয়ে যায়নি। রাষ্ট্র বনাম স্বাধীনতা, দাসত্ব বনাম মুক্তি এগুলো শুনতে ভালো লাগে। মূল প্রশ্ন সেখানে নয়, মূল প্রশ্ন হলো বাস্তব বিষয়গত পরিস্থিতি বদলানোর সংগ্রামে আমরা কতটা শামিল হচ্ছি। সেই সংগ্রাম যত ঘনীভূত হবে রাষ্ট্রের চরিত্রের বদল কিংবা খোদ রাষ্ট্রের বিলোপের দিন তত কাছে আসবে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..