শান্তির দ্বারপ্রান্তে আফগানিস্তান

ঐতিহাসিক শান্তি আলোচনা শুরু

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা বিদেশ ডেস্ক: ১২ সেপ্টেম্বর কাতারে রাজধানী দোহায় শুরু হয়েছে আফগানিস্তান সরকার ও তালেবানের মধ্যে প্রথমবারের মতো শান্তি আলোচনা। দুই পক্ষের মধ্যে এ বৈঠক প্রায় দুই দশক ধরে চলা যুদ্ধের অবসান ঘটাবে বলে আশাবাদি অনেকে। বৈঠকে আফগান সরকারে পক্ষে আফগানিস্তানের 'হাই কাউন্সিল ফর ন্যাশনাল রিকনসিলিশন' এর চেয়ারপার্সন আব্দুল্লাহ আব্দুল্লাহ এবং তালেবানের পক্ষে অংশগ্রহণ করেন মোল্লাহ আব্দুল গণি বারাদারের। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বৈঠকে মধ্যস্ততাকারী হিসেবে অংশ নেন। এর আগে চলতি বছরের ২৯ ফেব্রুয়ারি তলেবান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আফগানিস্তানে চলা যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে দেশে শান্তি ফেরানোর পথ প্রশস্ত করতে একটি বৈঠক ও চুক্তি সাধিত হয়েছিল। চুক্তিতে তালেবান তাদের কারাবন্দি প্রায় পাঁচ হাজার সদস্যকে মুক্তি দেওয়ার শর্ত বেঁধে দিয়েছিল। গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির পর মার্চেই এই বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কারণ আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি মোটেও শর্তে রাজি ছিলেন না। তালেবানরাও বন্দিদের মুক্তির প্রশ্নে ছিল অটুট। তাই শুরুতে তিনি তালেবানের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় বসতে চাননি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত চার দশক ধরে চলা যুদ্ধের অবসান ঘটাতে এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপের মুখে গত অগাস্টে আফগান আইনসভা ‘লয়া জিরগা’ তালেবান বন্দিদের মুক্তির অনুমোদন দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিশ্রুতি মোতাবেক অগাস্টেই তালেবান কারাবন্দিদের মুক্তি দেওয়া হয়। কারাগার থেকে ছাড়া পাওয়াদের মধ্যে আফগান ও বিদেশিদের উপর হামলা চালানোর অভিযোগে দোষীসাব্যস্ত হওয়া তালেবান সদস্যরাও ছিল। বৈঠকের আগে আফগান সরকারের প্রতিনিধি আব্দুল্লাহ আব্দুল্লাহ জানিয়েছিলেন, তিনি বিশ্বাস করেন যে, যদি উভয়পক্ষই চায় তাহলে দেশের চলমান সংকট এই আলোচনার মাধ্যমেই শেষ হবে। তবে তালেবান পক্ষ বলছে, তারা আফগানিস্তানের জন্য আবারো ইসলামিক পদ্ধতি চালু করতে চায়। এ নিয়ে তালেবানের সহকারী প্রধান বারাদার বলেছিলেন, আমরা চাই আফগানিস্তান উন্নত রাষ্ট্র হোক তবে এটিকে ইসলামিক শাসনও অনুসরণ করা উচিৎ। মার্কিন যুক্ত্রাষ্ট্রের মধ্যস্ততাকারীদের সমর্থ আফগান সরকারের পক্ষে যাবে বলেই অনুমান করা যাচ্ছিল। ২০০১ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ১১ সেপ্টেম্বর হামলার পর ন্যাটো আফগানিস্তান আক্রমণ করে। এই আক্রমণের উদ্দেশ্য ছিল আল কায়েদাকে পরাজিত করা, তালিবানকে ক্ষমতা থেকে অপসারণ এবং আফগানিস্তানে একটি স্থিতিশীল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সৃষ্টি। মার্কিন রক্তাক্ত ও নৃশংস হামলায় বারবার কেঁপে উঠেছিল আফগানিস্তান। ৪০ বছরে নিহত হয়েছে অর্ধকোটি আফগান। মার্কিন পাপেট গভমেন্ট এবং উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী তালেবানের মধ্য এই চুক্তি সই হলে আফগানিস্তানে গত ৪০ বছর ধরে যে যুদ্ধ ও সহিংসতা চলে আসছে তার অবসান ঘটবে। অন্তত সাধারণ আফগান জনগনের প্রতিদিনই মৃত্যুর সাথে সাক্ষাতের পর্বের ইতি ঘটবে। আফগানিস্তানের শান্তি এখন পুরো বিশ্বের কামনা। এই শান্তি আলোচনা সফল হওয়ার দিকে পুরো বিশ্ব তাকিয়ে আছে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..