মালিকপক্ষের সভা বয়কট; সমঝোতা আলোচনা পণ্ড

ড্রাগন গ্রুপের শ্রমিকদের সর্বাত্মক আন্দোলনের ঘোষণা

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা প্রতিবেদক : সমঝোতা আলোচনা ভেস্তে যাওয়ায় সর্বাত্মক আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে ড্রাগন গ্রুপের শ্রমিকরা। গত ৯ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টায় শ্রম মন্ত্রণালয়ের ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট কমিটির ডাকে ড্রাগন গ্রুপের শ্রমিকদের সংকট নিরসনে ত্রিপক্ষীয় সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। মালিকপক্ষ সভা বয়কট করায় সমঝোতা আলোচনা ভেস্তে যায়। শ্রম মন্ত্রণালয়ের ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট কমিটির সভাপতি ও শ্রম অধিদপ্তরের পরিচালক আমিনুল হকের সভাপতিত্বে সভাটি কোনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত ছাড়া শেষ হওয়ার পর বিকাল সাড়ে ৫টায় মুক্তিভবনে ড্রাগন গ্রুপ শ্রমিকদের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ড্রাগন গ্রুপ শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি অ্যাড. মন্টু ঘোষ, জাতীয় শ্রমিক জোট বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক নাঈমুল আহসান জুয়েল, গার্মেন্ট টিইউসি’র সাধারণ সম্পাদক জলি তালুকদার, আন্তর্জাতিক সম্পাদক মঞ্জুর মঈন, জাতীয় শ্রমিক জোট বাংলাদেশের আইন বিষয়ক সম্পাদক আমির হামজা খান। সাধারণ সভায় শ্রমিকদের দাবি আদায়ে কঠোর আন্দোলনের কোনো বিকল্প অবশিষ্ট নেই মর্মে সকলেই একমত হন। যার প্রেক্ষিতে দেশের সকল শিল্পাঞ্চলে কর্মসূচি ঘোষণাসহ আন্দোলন জোরদার করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পরদিন শ্রমিক-কর্মচারীদের প্রভিডেন্ট ফান্ড, সার্ভিস বেনিফিট, অর্জিত ছুটির টাকাসহ সকল আইনানুগ পাওনা পরিশোধ করার দাবিতে আন্দোলনরত ড্রাগন গ্রুপের দুটি কারখানার শ্রমিকরা বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামন থেকে বিক্ষোভ মিছিল করে শ্রম ভবনে গিয়ে সমাবেশ করে। সমাবেশ থেকে শ্রমিকরা ১৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সংকট সুরাহার সময় বেধে দেন। সমাবেশে গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের নেতা সাদেকুর রহমান শামীম বলেন, মালিক একদিকে মাসের পর মাস শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ না করে নিষ্ঠুর জুলুম চালিয়ে যাচ্ছে অন্যদিকে শ্রমিকদের বিরুদ্ধে নানা মিথ্যা অভিযোগ প্রচার করছে। তিনি বলেন, শ্রমিকদের আইনগত পাওনা পরিশোধ না করাটাই সবচেয়ে বড় ষড়যন্ত্র। ড্রাগনের মালিক দেশ এবং শিল্পের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছেন। শ্রমিকদের পক্ষে দেশে এবং দেশের বাইরে যে বিবেকবান মানুষ এবং ট্রেড ইউনিয়ন কর্মীরা কথা বলছেন অসহায় ড্রাগন শ্রমিকদের প্রতি সংহতি জানানো ভিন্ন তাদের অন্য কোনো উদ্দেশ্য নেই। শ্রমিকনেতা শামীম অভিযোগ করেন, ড্রাগন মালিক নিজের ফৌজদারি অপরাধ আড়াল করতেই শ্রমিকপক্ষের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করে যাচ্ছেন। সমাবেশে সাদেকুর রহমান শামীম বলেন, ড্রাগন গ্রুপের মালিক মোস্তফা গোলাম কুদ্দুস বিজিএমইএ’র প্রথম সভাপতি হওয়ায় শ্রম আইন কিংবা শ্রম দপ্তরের কর্মকর্তাদের তোয়াক্কা করছেন না। এ কারণে তিনি শ্রম মন্ত্রণালয়ের ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট কমিটির ডাকা সভা বয়কট করতেও পিছপা হননি। শ্রমিকদের এই সংকট নিরসনে বিজিএমইএ’ও ‘ধরি মাছ নাই ছুঁই পানি’ অবস্থান নিয়েছে। তিনি বিজিএমইএ নেতৃবৃন্দের উদ্দেশ্যে বলেন, শ্রমিকদের মানবেতর অবস্থা না দেখার ভান করে মালিক নেতৃবৃন্দের নির্বিকার ভূমিকার কথা গার্মেন্ট টিইউসি মনে রাখবে। এর ফলাফলের দায়-দায়িত্বও বিজিএমইএ ও পাওনা আটকে রাখা মালিককে নিতে হবে। ড্রাগন গ্রুপ শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই শ্রমিক বিক্ষোভে বক্তব্য রাখেন গার্মেন্ট টিইউসি’র কেন্দ্রীয় নেতা সাদেকুর রহমান শামীম, মঞ্জুর মঈন, কারখানার শ্রমিক রমেসা বেগম, আব্দুল কুদ্দুস, মোহাম্মদ বাবুলখ। সমাবেশে অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বলেন, জেনারেল মঞ্জুর হত্যাকাণ্ডের পর অসীম ক্ষমতাবান হয়ে ওঠা একজন পুলিশ পরিদর্শক হাজার কোটি টাকার মালিক হয়ে আজ শ্রমিকদের সারা জীবনের সঞ্চিত পাওনা লুটে নেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। এমন একজন মালিকের ক্ষমতার প্রকৃত উৎস দেশের মানুষের সামনে উন্মোচিত হওয়া প্রয়োজন। সমাবেশ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টায় শ্রম ভবনের সামনে শ্রমিকদের একত্রিত হওয়ার ঘোষণা দেয়া হয়। এর আগে গত ৭ সেপ্টেম্বর পাওনার দাবিতে মালিকের বাড়ি অভিমুখে ড্রাগন শ্রমিকদের ঝাড়ু মিছিলও পুলিশের বাধার মুখে পড়েছিল। প্রভিডেন্ট ফান্ড, সার্ভিস বেনিফিট, অর্জিত ছুটির টাকাসহ সকল আইনানুগ পাওনার দাবিতে কয়েক সপ্তাহ ধরেই এই ড্রাগন গ্রুপের দুটি কারখানার শ্রমিকরা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..