এতক্ষণে অরিন্দম কহিলা বিষাদে : `মেডিকেলের প্রশ্ন ফাঁসেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর’

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
এ এন রাশেদা : ২৩ জুলাই সন্ধ্যায় টিভি চ্যানেলের খবরে চমকে উঠলাম। ‘স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রেস থেকেই বারবার ফাঁস হয়েছে মেডিকেল ও ডেন্টাল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র। প্রেসের মেশিনম্যান আব্দুস সালাম আর তার খালাতো ভাই জসিম- এ দুজন মিলেই সারাদেশে গড়ে তোলেন বিরাট এক চক্র। যার মাধ্যমে শত শত শিক্ষার্থী টাকার জোরে ভর্তি হয়েছেন মেডিকেল কলেজগুলোতে। দীর্ঘদিনের অনুসন্ধানে পুরো এই চক্রটিকে চিহ্নিত করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।’ হায়রে কপাল! এতোদিন পরে এরা বলে কি? ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৫ সারা দেশব্যাপী বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্রে মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজ ২০১৫ ২০১৬ সেশনের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৮২ হাজার ৯৬৪ জন। পরীক্ষার পরপরই প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে এবং পুনঃপরীক্ষার দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়। বিভিন্ন গণমাধ্যমে নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশিত হয়। কিন্তু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ‘প্রশ্ন ফাঁস হয় নাই’ বলে শিক্ষামন্ত্রীর পদাঙ্ক অনুসরণ করে। ভর্তিচ্ছু আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা একপর্যায়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আমরণ অনশন শুরু করে। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিন শিক্ষক, বুদ্ধিজীবীরা অনশনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি গণতদন্তের আশ্বাস দেন। ১৯ অক্টোবর ঢা.বি শিক্ষক লাউঞ্জে সমাজের বিভিন্ন স্তরের নাগরিকদের সমন্বয়ে মোট ১৭ সদস্যের ‘মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস বিষয়ক গণতদন্ত কমিটি’ গঠিত হয়। অধ্যাপক আনু মুহাম্মদকে আহ্বায়ক করা হয়। আর সদস্যরা হলেন, ড. আহমেদ কামাল, ডা. ফজলুর রহমান, ডা. শাকিল আক্তার, প্রকৌশলী ম. এনামুল হক, সাংবাদিক আবু সাঈদ খান, অধ্যাপিকা এ এন রাশেদা, ব্যারিস্টার সারা হোসেন, ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, ড. তানজীম উদ্দিন খান, ড. সামিনা লুৎফা, শিক্ষক মোশাহিদা সুলতানা ও আইটি বিশেষজ্ঞ ফিদা হক। সভার পর সভা হলো। বহু সাক্ষ্য প্রমাণ হাজির হলো। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে কর্মরত একজন অভিভাবকের পক্ষে অধ্যক্ষ আশরাফ কামাল বললেন, ঘটনাটি ঘটে রংপুর মেডিকেলের কাছে, এক কোচিং সেন্টার থেকে ওই অভিভাবককে বলা হয় দশ লক্ষ টাকার চেকের বিনিময়ে প্রশ্ন দেওয়া হবে। পরীক্ষার আগে কিছু টাকা নগদ দিতে হবে, ঢাকায় পাঠানোর জন্য। পরীক্ষার আগের দিন সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে এক বাসায় তাকে আসতে হবে। কোন এক কারণে টাকাটা তাদের দেয়া হয় নাই। পরে দেখা যায়, রংপুরে ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের তিনজন কোচিং সেন্টারের এবং চারজন ডাক্তার। ঢাকার পরীক্ষার্থী তানভীর জানায়, ‘আমাকে প্রস্তাব করা হয়- ১২ লাখ টাকার বিনিময়ে প্রশ্ন দেওয়া হবে। গ্যারান্টি ১০০ ভাগ। আমার যে বন্ধু প্রস্তাব দিয়েছিল, সে পটুয়াখালীতে চান্স পেয়েছে। নাম মেহেদী হাসান। টাকা দিয়েও এত পিছনে কেন- এ প্রশ্নের জবাবে মেহেদী বলে, এবার বেশি হারে প্রশ্ন আউট হওয়ার ফলে টাকা দিয়েও তাকে পটুয়াখালীতে সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে। উল্লেখ্য যে, মেডিকেলে ভর্তির তারিখ ছিল ৪ অক্টোবর ২০১৫ কিন্তু তা এগিয়ে ২৯ সেপ্টেম্বর করা হয়।’ এসব বহু অভিযোগ কেউ নিজে গণতদন্ত কমিটির সামনে উপস্থিত হয়ে অথবা কেউ লিখিত আকারে প্রেরণ করেছেন। সংবাদ মাধ্যমে যেসব রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছিল- গণতদন্ত কমিটি সেসব তাদের রিপোর্টে যুক্ত করেছিল। ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৫ দৈনিক যুগান্তরের শিরোনাম ছিল : ‘বিভিন্ন সময়ে প্রশ্নফাঁস চক্রের মূল হোতা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সহকারী পরিচালক ওমর সিরাজসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে র্যাব। শুক্রবার সকালে ইউজিসি ভবন থেকে ওমর সিরাজ, রেজাউল করিম ও ঈশান ইমতিয়াজ হৃদয়কে গ্রেপ্তার করে র্যাব। ওইদিনই রেজাউলসহ দুই কর্মীকে বরখাস্ত করেছে জুডিশিয়াল কমিশন। এর আগে শুক্রবার ওমর সিরাজকে সাময়িক বরখাস্ত করে ইউজিসি। জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের সচিব শনিবার রাতে একটি সংবাদ মাধ্যমে বলেন, গণমাধ্যমের অভিযোগ বিবেচনায় নিয়ে কমিশন- স্টোর কিপার রেজাউল করিম ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের ব্যক্তিগত সহকারি নাজমুল আহসানকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে। ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৫ প্রথম আলো শিরোনাম করেছে- ‘মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রশ্নবিদ্ধ’। “…. ঢাকা, যশোর ও রংপুর থেকে কমপক্ষে তিনটি নমুনা প্রশ্ন প্রথম আলোকে পাঠিয়েছেন ভর্তি ইচ্ছুক শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা। এগুলো বিনিময় হয়েছে পরীক্ষার আগের রাত দেড়টা থেকে পরদিন সকাল সাড়ে আটটা পর্যন্ত। এর মধ্যে রংপুর থেকে একটি নমুনা প্রশ্ন ইমেইলে পাঠান এক শিক্ষার্থী। তিনি বলেন, ঐ দিন পরীক্ষা কেন্দ্র রংপুর ক্যান্টনমেন্ট কলেজের বাইরে এক অভিভাবক এ প্রশ্নটি হাতে করে দাঁড়িয়েছিলেন। তিনি পরীক্ষা দিয়ে বের হবার পরে অভিভাবকটি তার হাতে থাকা প্রশ্নটি মিলিয়ে নেন। ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নের সাথে এই প্রশ্নটি মিলে গেছে।” প্রথম আলো লিখেছে: “রাজধানীর মহাখালী ডিওএইচএস এলাকা থেকে মঙ্গলবার বিকালে র্যাব অভিযান চালিয়ে মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত অভিযোগে ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের কাছে থেকে ১ কোটি ২১ লাখ ৩৮ হাজার টাকা মূল্যমানের বিভিন্ন ব্যাংকের চেক, নগদ টাকা ও ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন, উত্তর পত্র এবং ভর্তি পরীক্ষার নিবন্ধন পত্র উদ্ধার করা হয়। এই চক্রের প্রধান জসিম উদ্দিন ভুইয়াকে ২০১১ সালে একই অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। অভিযোগ আছে জসিম অধিদপ্তরের ছাপাখানার এক কর্মীর আপন খালাতো ভাই। এই কর্মীকে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে দুইবার ছাপাখানা থেকে বদলি করা হয়। প্রভাব খাটিয়ে তিনি আবারও ফিরে আসেন ছাপাখানায়। তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক এবিএম হান্নান বলেন, এ ধরনের কোনো ঘটনার কথা তিনি জানেন না।” সমস্যাটি যে এখানেই তা বুঝতে খুব জ্ঞানী হওয়া প্রয়োজন পড়ে না- সর্ষের মধ্যেই ভূত। তাই তো ভুত খুঁজে পাওয়া যায় না। ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫ কালের কন্ঠ শিরোনাম করেছে- “মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা : রংপুরে প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তার সাত। র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, রংপুর শহরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন, রংপুর সদর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডাক্তার মোস্তাফিজুর রহমান পাভেল, প্রাইভেট কোচিং সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনজুরুর রহমান, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডাক্তার জিল্লুর হাসান রনি, সার্জারি ডাক্তার শরিফুল হাসান অন্তু (বর্তমানে ওএসডি), এ ওয়ান ক্যাডেট কোচিং সেন্টারের শিক্ষক আতিকুর রহমান আদিল, জামিল উদ্দিন ও সাজরাতুল ইয়াক্কিন রানা। গ্রেফতারকৃতরা মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে প্রশ্নপত্র ফাঁসে বিভিন্ন পরিকল্পনা করছিলেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন। ডাক্তার মুন্না নামে রংপুরের কলেজ হাসপাতালে আরও এক চিকিৎসক ও রেটিনা কোচিং সেন্টারের পরিচালক এই জালিয়াতির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত বলে গ্রেপ্তারকৃতরা জানান। প্রশ্ন ফাঁসের একাধিক সত্যতা তো পাওয়া যাচ্ছিল। ৩ অক্টোবর ২০১৫ দৈনিক যুগান্তর শিরোনাম করেছে: “র্যাব হেফাজতে ইউজিসির সহকারী পরিচালকের মৃত্যু: হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ওমর- র্যাব। অন্যদিকে নিহতের স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন শম্পার অভিযোগ, ‘রিমান্ডে নিয়ে র্যাব তাকে হত্যা করেছে।” মিলিয়ন ডলার প্রশ্ন- কেন তাকে হত্যা করা হলো? আসল আসামিদের আড়াল করার জন্য- তা তো স্পষ্ট করেই বলা যায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থীর বর্ণনা অনুযায়ী ‘২০১২ সালে এসএসসিতে ওর এক ভাই ছিল। তার কাছ থেকে সে শুনেছে যে, ২০১০ সালেও প্রশ্ন ফাঁস হয়েছিল। সেবছর মেডিকেল ভর্তির কয়েকদিন আগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বড়কর্তাদের একটা মিটিং হয়। সেখানে তারা সবাই মিলে টাকা দিয়ে একটা ফান্ড তৈরি করে। সে ফান্ড দিয়ে প্রশ্নপত্র কেনা হয়। পরে নির্দিষ্ট চ্যানেলে সে প্রশ্ন বন্টন করা হয়। পরে প্রাপ্ত অর্থ সবাই ভাগ করে নেয়।’ আর সে কারণেই অবস্থা বিবেচনায় চার্জশিট দুর্বল হয়, মামলা খারিজ হয়ে দোষীরা দৌর্দণ্ডপ্রতাপে ঘুরে বেড়ায়। একজন ছাত্রের বক্তব্য: ডিএমসি ছাত্রলীগের সভাপতি আমাকে বলেছে যে- প্রশ্ন তার কাছেই ছিল। বিক্রিও করেছে সে কিন্তু তার মনটা খুব খারাপ- এত আজেবাজে ছেলেরা চান্স পেয়ে যাচ্ছে। সলিমুল্লাহয় যেদিন ক্লাস বর্জনের কথা ছিল, তার আগের দিন ওদের এইচএমওকে আন্দোলনে সমর্থন দেয়ার অপরাধে বরখাস্ত করা হয়েছে। সলিমুল্লাহ ছাত্রলীগের নেতা আমার বন্ধুকে থ্রেট দিয়েছে। যেন কোনো আন্দোলন না হয়। থ্রেটটা এসেছে মন্ত্রী ও তার ছেলের কাছ থেকে সরাসরি ফোনে। এটা একটা সিন্ডিকেটের কাজ। সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নাম আমি অনেকদিন ধরে শুনছি, এবার যুক্ত হয়েছে বর্তমান জন ও তার ছেলে। মন্ত্রণালয়ের পরিচালক- এর পার্ট।’ শিক্ষার্থীর এই বক্তব্যের সাথে শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী ও সাধারণ মানুষের দ্বিমত প্রকাশের কি কিছু আছে? গণ তদন্ত কমিটি আরও অনেক তথ্য দিয়েছিল, সুপারিশ করেছিল- কিন্তু সরকার বা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ভর্তির তারিখ তরিঘরি করে ৪ অক্টোবর ২০১৫ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৫ করেছিল। এর কারণসমূহ এবং প্রতিকার লিখতে গেলে পিএইচডি থিসিসের মতো এক থিসিস হয়ে যাবে; কেন পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হয়? এতো শুধু মেডিকেল ডেন্টাল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র নয়, প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী থেকে জেএসসি-জেডিসি, এসএসসি, এইচএসসি, শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা, ব্যাংকে চাকরির পরীক্ষা, কোথায় না? স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে কিভাবে ডা. মিঠু, ডা. সাবরিনা আর সর্বগ্রাসী সাহেদদের জন্ম হয়, কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়, ব্যাংক লুট হয়, শেয়ারবাজারে ধসের মহানায়ক রাষ্ট্র ক্ষমতার শীর্ষে অবস্থান করে, গণমানুষের নানাবিধ চরম ভোগান্তির কারণ ঘটায়- অথচ বঙ্গবন্ধুর দল আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রক্ষমতায়। একারণেই বঙ্গবন্ধুকে দুঃখের সঙ্গে বলতে হয়েছিল: “পাকিস্তান আমার সব নিয়ে গেছে কিন্তু এই চোরগুলোকে আমার জন্য রেখে গেছে।” ১৯৭৫ সালের ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের বিরাট জনসভায় দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচি ঘোষণাকালে এক পর্যায়ে বলেছিলেন: “আজকে আমি বলব, বাংলার জনগণের এক নম্বর কাজ হবে দুর্নীতিবাজদের বাংলার মাটি থেকে উৎখাত করা। আমি আপনাদের সাহায্য চাই। কেমন কাজ আপনাদের করতে হবে? গণ আন্দোলন করতে হবে। আমি গ্রামে গ্রামে নামবো। এমন আন্দোলন করতে হবে যে- যে ঘুষখোর, যে দুর্নীতিবাজ, যে মুনাফাখোর, যে আমার জিনিস বিদেশে চোরাচালান করে- তাদের সামাজিক বয়কট করতে হবে। গ্রামে গ্রামে মিটিং করে দেখাতে হবে- ওই চোর, ওই ব্ল্যাক মার্কেটিয়ার, ওই ঘুষখোর। ভয় নাই, কোন ভয় নাই, আমি আছি। ইনশাল্লাহ, আপনাদের উপর অত্যাচার করতে দিব না। কিন্তু আপনাদের গ্রামে গ্রামে আন্দোলন করতে হবে। আন্দোলন করতে পারে কে? যুবক ভাইয়েরা পারে। পারে কে? ছাত্র ভাইয়েরা পারে। পারে কে? বুদ্ধিজীবীরা পারে। সে দুর্গই গড়তে হবে দুর্নীতিবাজদের খতম করার জন্য।” অথচ আজ মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের মতো দুর্নীতির বিরুদ্ধে শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠন, প্রগতিশীল সংগঠন, সাধারণ মানুষ গণতদন্ত কমিটি গঠন করে নিজস্ব অর্থায়নে দিনরাত পরিশ্রম করে যে রিপোর্ট তৈরি করলেন। দোষীদের সনাক্ত করে তা দেখার প্রয়োজন মনে করলেন না বিশ্বের প্রতাপশালী ও আন্তর্জাতিক বহু পুরস্কারে সংবর্ধিত তারই কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর তাইতো, আজ দেখা যাচ্ছে স্বাস্থ্যখাতের, স্বাস্থ্যব্যাবস্থার, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক বেহাল অবস্থা। প্রতিদিনই প্রকাশিত হচ্ছে ‘শত শত কোটি টাকার নিম্নমানের চিকিৎসা সরঞ্জাম দিয়ে হাতিয়ে নিয়েছে শত শত কোটি টাকা’ শীর্ষক খবর। আর এইসব দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা দেখতে বাধ্য করেছে- কোভিড-১৯ যাকে চোখে দেখা যায় না। এদিক থেকে বলতে হয় করোনাভাইরাস একদিক থেকে হয়ত আশীর্বাদ হয়েই এসেছে। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ যখন পালিত হচ্ছে তখন তার প্রতিষ্ঠিত দল এবং সরকারের ‘মানুষের’ বড় অভাব দেখা যাচ্ছে। যদিও তা দীর্ঘদিন ধরেই। প্রকৃত মানুষ কোথায়? কয়লা ধুইলে ময়লা যায় না, কাঁঠালের আমসত্ত্ব হয় না। বঙ্গবন্ধু বিচার ব্যবস্থায় বিচার প্রাপ্তিকে তরান্বিত করতে চেয়েছিলেন। তা করা হবে না। দেশে কোটি কোটি সক্ষম লোক থাকলেও সব বিভাগের সর্বত্র লোকবলের অভাব। আমলাতন্ত্রের প্রভাবে তা চিরস্থায়ী হয়ে আছে। আর সংসদে আছে বঙ্গবন্ধুর ভাষায় সেইসব ‘দুর্নীতিবাজরা’। আর সে কারণেই প্রশ্ন ফাঁসকারীরা র্যাবের হাতে তথ্য-প্রমাণাদি সহ ধরা পড়লেও ভর্তি পরীক্ষা বাতিল না করে, ভর্তির তারিখ পরিবর্তন করে আগেই ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। দীর্ঘ চার বছর পর পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ পুরো চক্রটিকে চিহ্নিত করলেও তারা শাস্তির আওতায় আসবে না। কারণ দেখা যাচ্ছে এর সঙ্গে জড়িত অধিদপ্তর এবং মন্ত্রণালয়। দুর্নীতিবাজদের খতম করার যে- স্বপ্ন বঙ্গবন্ধু দেখেছিলেন তার জন্মশতবর্ষ উদযাপনকালে তা বাস্তবায়ন করা যাবে কি? আমি মনে করি, ১৭ মার্চ ২০২১ এর মধ্যে প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের সকল অপরাধীকে শাস্তির আওতায় আনতে পারলে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষে তার প্রতি হবে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম উপহার এবং শ্রদ্ধার্ঘ। কোটি কোটি টাকার আতশবাজি পুড়িয়েও যা হবার নয়। লেখক : সাবেক অধ্যাপক নটরডেম কলেজ, সম্পাদক, সাপ্তাহিক একতা ও মাসিক শিক্ষাবার্তা।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..