চীনের ভ্যাকসিন ট্রায়াল বন্ধের চক্রান্তে ক্ষোভ বাম জোটের

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
একতা প্রতিবেদক: ভারতের স্বার্থে বাংলাদেশে চীনের ভ্যাকসিন ট্রায়াল বন্ধের চক্রান্তে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বাম গণতান্ত্রিক জোট। ২৯ জুলাই অনলাইনে জোটের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক ও বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বজলুর রশীদ ফিরোজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন বাসদের সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, সিপিবি’র সহকারী সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ জহির চন্দন, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন নান্নু, বাসদ (মার্কসবাদী)’র নেতা মানস নন্দী, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের আহ্বায়ক হামিদুল হক, বাসদ নেতা রাজেকুজ্জামান রতন, সিপিবি নেতা আবদুল্লাহ কাফি রতন, ইউসিবিএল নেতা অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা আকবর খান, গণসংহতি আন্দোলনের বাচ্চু ভূইয়া ও মনিরুদ্দিন পাপ্পু। সভার এক প্রস্তাবে দেশের এক তৃতীয়াংশের অধিক জেলায় বন্যার প্রাদুর্ভাবে কয়েক লক্ষ মানুষ পানি বন্দি ও ঘর-বাড়ি ছেড়ে খোলা আকাশের নিচে বাঁধে ও আশ্রয় কেন্দ্রে উঠে অমানবিক জীবন যাপনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ঈদের আগেই বন্যার্তদের খাদ্য ও নগদ অর্থ সহায়তা প্রদানের জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছেন। প্রস্তাবে বলা হয়, একদিকে করোনা মহামারি অন্যদিকে বন্যার কারণে পানিবাহিত রোগের সংক্রমণ বেড়ে গিয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত করে তুলছে। বাম জোট বন্যার্তদের চিকিৎসা প্রদানে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানায়। ‘বাম জোট মনে করে বাংলাদেশে বন্যা সাংবাৎসরিক বিষয় ফলে বন্যা নিয়ন্ত্রণে সুষ্ঠ পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের উপর জোর দেওয়া উচিত। নদী-খালগুলো ভরাট, দখল ও দুষণের শিকার; ফলে বর্ষাকালে পানি প্রবাহ বেড়ে গেলে নদীর গভীরতা কমে যাওয়ায় ঠিক মতো পানি প্রবাহিত হতে না পেরে আশেপাশের এলাকা প্লাবিত করে বন্যা দেখা দেয়। তাছাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ ও নির্মাণে দুর্নীতির কারণেও বাঁধ ভেঙ্গে গিয়ে অনেক এলাকায় বন্যা দেখা দেয়, ’ বলেন বাম জোটের নেতারা। সভা থেকে নদী-খাল খনন, দখলকৃত নদী-খাল উদ্ধার, পাউবির দুর্নীতি বন্ধ করে বাঁধ নির্মাণ করাসহ বন্যা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়। বাম জোটের সভার অপর এক প্রস্তাবে বলা হয়, করোনা মহামারি নিয়ন্ত্রণে সারা বিশ্ব ভ্যাকসিনের জন্য অধির আগ্রহে প্রতিক্ষা করছে। সব মিলে প্রায় দুই শতাধিক প্রতিষ্ঠান ভ্যাকসিন আবিষ্কারের চেষ্টা চালাচ্ছে, তার মধ্যে যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড, যুক্তরাষ্ট্রের মর্ডানা, চীনের সিনোভেক তৃতীয় বা শেষ পর্যায়ের ট্রায়ালে রয়েছে। ইতিমধ্যে চীন বাংলাদেশে ওই ভ্যাকসিনের ট্রায়ালের জন্য আইসিডিডিআরবি’র সাথে চুক্তি করেছে। ভ্যাকসিন ট্রায়ালের অনুমতি দেয়ার সংস্থা বিএমআরসি আইসিডিডিআরবিকে অনুমোদনও দিয়েছে। তার পরেও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং সচিব চীনের ভ্যাকসিন ট্রায়ালের ব্যাপারে ‘চীন সরকার বাংলাদেশ সরকারকে কোনো প্রস্তাব দেয়নি’ ইত্যাদি কুযুক্তি দিয়ে ট্রায়ালে বাধা দিচ্ছে। বাম জোটের নেতারা এ চক্রান্তের ব্যাপারে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। বাম জোটের সভার প্রস্তাবে বলা হয়, ভারতসহ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যের স্বার্থেই চীনের ভ্যাকসিন ট্রায়াল বন্ধ করা হয়েছে কিনা তা দেশবাসী জানতে চায়। কারণ ইতিপূর্বে আইসিডিডিআরবি যখন কলেরার ভ্যাকসিন ট্রায়াল করেছে তখনও বিএমআরসি’র অনুমোদন নিয়েই করেছে। মন্ত্রণালয় বা সরকারের অন্য কোন সংস্থার অনুমোদনের দরকার হয়নি। তা হলে এখন কেন বাগড়া দেয়া হচ্ছে? এ ছাড়া বিএমআরসি কর্তৃক চীনের ভ্যাকসিন ট্রায়ালের অনুমোদন দেয়ার পর ভারতের গণমাধ্যমে এ সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করতে থাকে। এ থেকে ভারতের প্রভাব খাটানোর বিষয়ে যথেষ্ট সন্দেহ করার কারণ আছে। প্রস্তাবে ভারতের বা অন্য কোন সাম্রাজ্যবাদী দেশের স্বার্থে রশি টানাটানি না করে দেশের মানুষের সহজে ভ্যাকসিন পাওয়ার স্বার্থে অবিলম্বে চীনের ভ্যাকসিন ট্রায়ালের ব্যবস্থা করার দাবি জানান।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..