অধ্যাপক ড. আলী আসগরের চেতনা- বেঁচে থাকবে চিরকাল

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
এ.এন. রাশেদাঃ চলে গেলেন বিজ্ঞানী, বিজ্ঞানমনস্ক, শিশু সংগঠক অধ্যাপক ড. আলী আসগর। এত অভিধায় যিনি অভিষিক্ত তাঁর সম্পর্কে কিছু বলার পূর্বে তাঁর চেতনা সমৃদ্ধ দালিলিক প্রমাণ দিয়ে আমি শুরুটা করতে চাই। এ সংক্রান্ত তাঁর প্রচুর লেখালেখি আছে। আমি উদ্ধৃত করছি, ‘শিক্ষার জৈব ভিত্তি’ শীর্ষক প্রবন্ধের একটু অংশবিশেষ দিয়ে। উদ্ধৃতিটি একটু দীর্ঘ হবে বৈকি। কিন্তু প্রণিধানযোগ্য। তিনি লিখছেন : ‘অষ্টাদশ শতাব্দীতে এলো কুসংস্কার থেকে মুক্তি ও জ্ঞানালোক-প্রাপ্তির যুগ। ধর্মীয় অনুশাসন ও আধিপত্য সমগ্র ইউরোপকে পঙ্গু করে রেখেছিল প্রায় দুই সহস্র বছর ধরে। অন্ধ বিশ্বাস ও প্রশ্নহীন আত্মসমর্পণের মন্ত্র পড়িয়ে। দীর্ঘদিন ধরেই অজ্ঞানতার জমাট বাঁধা বরফ গলাবার আয়োজন চলছিল। জ্ঞানের সাধনায় সৃষ্টি হচ্ছিল উত্তাপ, কিন্তু হঠাৎ যেন দশা বিবর্তন ঘটে গেল। আলোর উদ্ভাস নিয়ে এল একদল মানুষÑ অ্যাডাম স্মিথ, জন লক, ইমানুয়েল কান্ট, ভোলতেয়ার, হিউম, মনটেসকিউ প্রমুখ। গতানুগতিক ধারণার পরিবর্তে নতুন ধারণা নিয়ে এলেন এঁরা বিশ্বজগৎ সম্পর্কে, মানুষের প্রকৃতি সম্পর্কে। জ্ঞানের বিভিন্ন ক্ষেত্রে এঁরা প্রবেশ করলেন। ধর্ম, সমাজ ও ইতিহাস সম্পর্কে প্রচলিত ধারণাকে নতুন আলোকে যাচাই করা হলো। জ্ঞান সাধনা ও প্রশ্ন উত্থাপনের এই নব জাগরণ মানুষের সঙ্গে মানুষের জন্মগত পার্থক্যের ধারণাকে স্তিমিত করল, যদিও নির্মূল করল না। কারণ সমাজের উচ্চ আসনে অবস্থান করছিল যারা, তারা আপন স্বার্থেই কুলজি ও বংশ পরিচয়ের প্রশ্নকে বড় করে দেখার প্রয়াস পেল। কিন্তু এই সংঘাতের ভেতর দিয়েও ব্যক্তি স্বাধীনতা, সমতা ও গণতন্ত্রের দাবি উপস্থাপিত হলো। সৌন্দর্য চেতনার আত্মবিশ্বাসের ও জ্ঞানের নতুন আলোÑ দীর্ঘদিনের বেড়ে ওঠা অন্ধকারের দেয়াল, ভয়ের আত্মগ্লানি ও আত্মপরিচয়হীনতার দেয়াল অতিক্রম করে উদ্ভাসিত করল মানুষকে। ব্যাপারটি সহজ ছিল না; কারণ ক্ষমতার আধিপত্য ও অর্থনৈতিক স্বার্থ, যৌক্তিক ভাবনা, স্বাধীন চিন্তা ও নিরপেক্ষ জ্ঞান-সাধনার পথে বাধা সৃষ্টি করবেই।’ হ্যাঁ, ব্যাপারটি আজও আমাদের দেশে সহজ না। সেইসব বাধা আমাদের সমাজে উৎকটরূপে প্রতিভাত। এদেশে কবি, সাহিত্যিকদের মুরতাদ ঘোষণা করা হয়। দেশবরেণ্য কবি শামসুর রাহমানের বাসায় ঘাতক পাঠানো হয়। অধ্যাপক ড. হুমায়ুন আজাদ, অভিজিৎ রায়, নীলাদ্রী, রাজীব ও অনন্তসহ বেশ কয়েকজনকে হত্যা করা হয়। কিন্তু হত্যাকাণ্ডের বিচার হয় না। এই পশ্চাৎপদতার কাহিনী অনেক দীর্ঘ। অধ্যাপক ড. আলী আসগরের প্রয়াণে তাঁর কথা লিখতে বসেছিলাম। তাঁর কথাই বলি- অধ্যাপক আলী আসগর দীর্ঘদিন অধ্যাপনা করেছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগে অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে। প্রকৌশল অনুষদের ডিন হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। অবসর গ্রহণের পরে তিনি গণবিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল ফিজিক্স ও বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন। শিশু-কিশোরদের বিজ্ঞান চেতনায় সমৃদ্ধ করা, বিজ্ঞানমনস্ক করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে দীর্ঘদিন শিশু-কিশোর সংগঠন খেলাঘরের সঙ্গে যুক্ত থেকেছেন। তিনি সংগঠনটির পাঁচবার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে ছিলেন প্রধান উপদেষ্টা। দেশব্যাপী শিশু-কিশোর ও অভিভাবকদের কাছে প্রিয় ও নমস্য ছিলেন তাঁর সম্মোহনী বক্তৃতার জন্য। এক সময়ে কার্জন হলে শিশুদের বিজ্ঞান ক্লাস পরিচালনা করেছেন। দীর্ঘদিন চলেছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে বিজ্ঞানের এই ক্লাস। শত শত খেলাঘরের ভাইবোনেরা এতে অংশগ্রহণ করে পুলক অনুভব করত। বিজ্ঞান শিক্ষায় শিক্ষার্থীদের আগ্রহী ও বিজ্ঞানমনস্ক করে গড়ে তোলা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যাতে বিজ্ঞান শিক্ষার ধারাকে বেগবান করতে পারে- এমন নানাবিধ চিন্তা থেকে সংগঠনের মাধ্যমে তিনি তাঁর কর্মপরিচালনা করতেন। বিটিভি-তে বিজ্ঞানবিষয়ক অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করতেন অত্যন্ত সহজ সরল ভাষায়। বিজ্ঞান ক্লাব গড়ে তোলার কাজে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করা, স্কুল-কলেজে শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান মেলার আয়োজনে যোগদান করে উদ্দীপনামূলক বক্তব্য দেয়া, জাতীয়ভাবে যেসব বিজ্ঞান সপ্তাহ পালিত হত- সেখানে অবদান রাখা এবং বিজ্ঞানবিষয়ক নানা সেমিনার বা ওয়ার্কশপে ড. আলী আসগরের ছিল সপ্রতিভ অংশগ্রহণ। শিক্ষা, শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে তাঁর চিন্তা-ভাবনাও ছিল বিস্তর। বিজ্ঞানমনস্ক ও শিক্ষাব্যবস্থার নানা দিক নিয়ে চিন্তাভাবনার এই শিক্ষকের সঙ্গে আমার পরিচয় হয়েছিল- বাংলাদেশ সোভিয়েত মৈত্রী সমিতির মুখপত্র ‘মৈত্রী’-প্রকাশের কালে। ১৯৮০ সালে সেপ্টেম্বরে শিক্ষা সংখ্যা ‘মৈত্রী’র জন্য লেখা চাওয়ায় তিনি সম্মত হয়ে ‘পরীক্ষা পদ্ধতি ও আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা’ শিরোনামে লিখেছিলেন। আমি সেই প্রবন্ধের সামান্য অংশ বিশেষ উদ্ধৃত করছি, ড. আলী আসগরের চিন্তাধারাকে তুলে ধরার জন্য। এক পর্যায়ে তিনি লিখছেন : ‘সামন্ততান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় মুষ্টিমেয় মানুষের হাতে সমস্ত অর্থ সঞ্চিত ছিল বলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত না হয়ে ব্যক্তি বিশেষের দানছত্রের উপর নির্ভরশীল ছিল। ফলে শিক্ষা একটি সামাজিক ব্যাপার না হয়ে অনেকটা সৌখিনতা হিসেবে পরিগণিত হত।’ তারপর এক পর্যায়ে তিনি লিখছেন- ‘প্রগতিশীল প্রতিটি সমাজ এক গতিশীলতার মধ্যে তার ভারসম্য রক্ষা করছে।’ তারপর তিনি বলেছেনÑ ‘উপযুক্ত শিক্ষা বলতে অবশ্য সবাইকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চশিক্ষা দেয়া বুঝায় না। সামাজিক প্রয়োজনের বৈচিত্র্য এবং বিভিন্ন ব্যক্তির মধ্যে মেধা ও প্রবণতার পার্থক্যের কারণে সবাইকে একই শিক্ষা প্রদান সঠিক নয়। সুষ্ঠু সমাজ ব্যবস্থায় এই বৈচিত্র্যকে সমাজ ও ব্যক্তির কল্যাণে ব্যবহার করা সম্ভব। সমাজতন্ত্রের উদ্দেশ্য হচ্ছেÑ এই বৈচিত্রকে বৈষম্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে কোনো এক শ্রেণি যেন অন্য শ্রেণির ওপরে শোষণ চালাতে না পারে- সেটা নিশ্চিত করা। সবাইকে সমান সুযোগ প্রদান, মেধা ও প্রবণতার ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের বিন্যস্ত করা- সুষ্ঠু পরীক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমেই শুধু এটা সম্ভব।’ ১৯৮০ সালে শিক্ষাকে যেভাবে বিন্যস্ত করাকে যুক্তিযুক্ত মনে করেছিলেন- আজও তা সুদূর পরাহত এবং দেশ পরিচালনাকারীদের চিন্তা-ভাবনা তা থেকে অনেক দূরে। অধ্যাপক ড. আলী আসগর যেমন শিশু সংগঠন ‘খেলাঘরের’ সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তেমনি ‘বিজ্ঞান সংস্কৃতি পরিষদ’ নামে বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি চেতনায় ঋদ্ধ একটি সংগঠনের সাথেও প্রতিষ্ঠাকাল থেকে যুক্ত হয়েছিলেন। সেখানে ছিলেন জ্যোতিবিজ্ঞানী অধ্যাপক মোহাম্মদ ড. আবদুল জব্বার, বুয়েটের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আ. মু. জহুরুল হক, ঢা. বি. পদার্থ বিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. এ. এম. হারুন অর রশিদ, অধ্যাপক ড. অজয় রায়, এস. এম. মুজিবুর রহমান ও সুলতান আহমেদ এবং উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. নুরুল ইসলাম। আরো উপস্থিত ছিলেন ড. আবদুল্লাহ আল মুতী, সাংবাদিক সন্তোষ গুপ্ত, সাহিত্যিক বশীর আল হেলাল, অধ্যাপক ড. মনসুর মুসা, অধ্যাপক ড. আবুল কাশেম ফজলুল হকসহ আরও অনেকে। এঁদের মধ্যে অনেকেই আজ প্রয়াত। পাক্ষিক প্রবন্ধ পাঠের আসর একটি কর্মকান্ড ছিল এবং তা বেশ জমজমাট হতো। ১৯৮৫ ও ’৮৬ সালে বাংলা একাডেমির সঙ্গে যৌথভাবে বিজ্ঞান লেখক সম্মেলনের আয়োজনও তারা করেছিলেন। সর্বত্রই ড. আলী আসগরের ছিল সরব উপস্থিতি। অনেক ধারার সাথে যুক্ত থেকেও মাসিক ‘শিক্ষাবার্তা’র আয়োজনে যেসব সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছিলÑ তার প্রায় সব অনুষ্ঠানেই ছিলেন তিনি; হয় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপক হয়ে, আলোচক হয়ে বা সভাপতিত্ব করার জন্য। যেমন ‘পাবলিক পরীক্ষা পদ্ধতি : সংকট ও সুপারিশ’, ‘শিক্ষাদর্শন লক্ষ্য ও সমাজ’, ২৬-২৭ অক্টোবর ১৯৯৫ দু-দিন ব্যাপী বিজ্ঞানচর্চা : সমকালীন বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনার। শেষোক্ত সেমিনারে ‘বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে বিজ্ঞান শিক্ষা : সাম্প্রতিক সমস্যা’ শীর্ষক প্রবন্ধের উপস্থাপক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আহমদ শফি। প্রবন্ধের ওপর আলোচকদের আলোচনা শেষে সভাপতির বক্তব্যের এক পর্যায়ে ড. আলী আসগর বলেন- ‘আমরা যদি শিক্ষাক্ষেত্রে একটি যুদ্ধাবস্থার শর্ত আরোপ করি এইভাবে যে- আমাদের যত যোগ্য শিক্ষক ও বিজ্ঞানী আছেন এবং আমাদের যা কিছু সামর্থ্য ও সম্পদ আছে তা আমাদের তরুণদের শিক্ষা প্রদানের কাজে নিয়োজিত করব এবং এতে কোনো সমর্থ শিক্ষাবিদকে অবসর দেয়া যাবে না যতক্ষণ পর্যন্ত তিনি মানসিক ও শারীরিকভাবে শিক্ষা প্রদানে সক্ষম থাকেন। এবং এতে প্রতিটি শিক্ষা লাভের যোগ্য ও প্রতিভাবান শিক্ষার্থী শিক্ষা লাভের সুযোগ পাবে, তার অর্থনৈতিক অবস্থা যতই খারাপ হোক না কেন? এজন্য অবশ্য নতুন এক মূল্যবোধ ও আয়োজন প্রয়োজন হবে। আমাদের অর্থনৈতিক পরিকল্পনার এই বাস্তবতাকে উপলব্ধি করতে হবে যে, একটি জাতির সবচেয়ে বড় সম্পদ- আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষায় একটি শিক্ষিত জনগোষ্ঠী। যথার্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা লাভের ভিতর দিয়ে এই জনশক্তি সৃষ্টি হতে পারে এবং তা যতই ব্যয়বহুল হোক না কেন? আর শেষ পর্যন্ত এই বিনিয়োগই সবচেয়ে ফলপ্রসূ উন্নয়ন আনতে পারে। যদিও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে বিজ্ঞান শিক্ষায় বিনিয়োগ তাৎক্ষণিকভাবে অর্থনৈতিক উন্নয়ন বা বস্তুগত প্রাচুর্য আনে না। কিন্তু এর সুদূরপ্রসারি যে প্রভাব অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে এবং সেই সঙ্গে নৈতিক ও চেতনাবোধের ক্ষেত্রে- তা হিসেবে আনলে বিজ্ঞান শিক্ষার ক্ষেত্রে বিনিয়োগই সবচেয়ে দক্ষ বিনিয়োগ।’ উদ্ধৃতিটি দীর্ঘ হলেও প্রয়োজনীয়। কারণ আজও আমরা বিজ্ঞান শিক্ষাধারায় বরাদ্দ অপ্রতুল দেখি। ১৮.১২.২০১৯ দৈনিক ‘কালের কণ্ঠ‘ রিপোর্ট করেছে, ‘মাদ্রাসায় রেকর্ড বরাদ্দ।’ আর আমরা লক্ষ্য করছি স্কুল-কলেজে বিজ্ঞান শিক্ষা সবচাইতে অবহেলিত। প্রতিষ্ঠানে না আছে শিক্ষক, না ল্যাবরেটরি। শিক্ষক থাকলেও নেই বেতন। আবার প্রতি জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ঘোষণা করা হয়েছে। সমাজে ড. আলী আসগরের মত চিন্তাধারার মানুষের আজ হাহাকার। মানুষ তৈরির কারখানায় আজ মানুষ তৈরি হয় না। দেশের বর্তমান অবস্থা সে কথাই প্রমাণ করে। ড. আলী আসগর প্রচুর লিখেছেন। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি বিষয়ে তাঁর শতাধিক প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে, আছে ২০টির মতো বই। বিজ্ঞানবিষয়ক বইয়ের মধ্যে- ‘ভাষা ও বিজ্ঞান’, ‘বিজ্ঞান প্রতিদিন’, ‘সময় প্রসঙ্গে’, ‘বিজ্ঞানে বিচিত্র জগৎ থেকে’, ‘বিজ্ঞানের মজার প্রজেক্ট’, ‘বিজ্ঞান ও সমাজ’, ‘বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিকাশের পথে’, ‘পরিবেশ ও বিজ্ঞান’, ‘বিজ্ঞানের দিগন্তে’, ‘বিজ্ঞান আন্দোলন’সহ আরও অন্যান্য। ড. আলী আসগরের বিজ্ঞান-চিন্তা, সমাজকে এগিয়ে নেয়ার চিন্তা- বর্তমান সমাজ ও সরকার অনুধাবন করতে না পারলেও করোনাকাল অতিক্রান্ত হলে বিশ্বব্যাপী ওলোট-পালটের পরে দেশবাসী একদিন অবশ্যই অনুধাবন করবেÑ বিজ্ঞান কী? মানবকূলের শান্তি ও উন্নয়নের লক্ষ্যে বিজ্ঞান শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা কী? তিনি আজ নেই। গত ১৬ জুলাই ২০২০ বিদায় নিয়েছেন এই মর্ত থেকে। জন্ম তার ৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৩৯ সালে। তিনি বেঁচে থাকবেন তাঁর চিন্তা-ভাবনার মধ্যে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে; বিজ্ঞান সবার কাছে চরম সত্যে প্রতীয়মান হবার হাজার বছরের পথ ধরে। প্রয়াত অধ্যাপক ড. আলী আসগরের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা। লেখক : সম্পাদক, একতা, সাবেক অধ্যাপক, নটরডেম কলেজ ও সম্পাদক, শিক্ষাবার্তা

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..