দেশের মান ও সম্মান

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের এই সময়ে অধিকাংশ মানুষ অত্যন্ত নাজুক অবস্থার মধ্যে রয়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দা, মানুষ চাকরি হারাচ্ছে, গ্রামেগঞ্জে কাজ কম- ফলে মানুষের মধ্যে হতাশা আর অনিশ্চয়তা কাজ করছে। এটা শুধু আমদের দেশের চিত্রই নয়, হয়তো গোটা পৃথিবীকেই এই মন্দার মোকাবিলা করতে হচ্ছে বা ভবিষ্যতের হয়তো আরো হবে। অদৃশ্য এই ভাইরাসের প্রভাব গোটা পৃথিবীকেই কাবু করে ফেলেছে। এ অবস্থা কেউ একা একা কাটিয়ে উঠতে পারবে না। যে কারণেই জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি সম্প্রতি এক বিবৃতিতে বলেছে, গরিবদের সাহায্য করলেই হয়তো করোনা প্রভাব থেকে পৃথিবী মুক্ত হতে পারে। জাতিসংঘের এই সংস্থাটি বলছে, বাংলাদেশের ছয় কোটির ৫৩ লাখের বেশি গরিব মানুষের নগদ সহায়তা দরকার; যা দেশের মোট জনগোষ্ঠীর ৪০ শতাংশের কিছুটা বেশি। এসব দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে প্রতি মাসে ২৫ ডলার করে ভাতা দিলে সরকারের প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা খরচ হতে পারে। নগদ সহায়তা দেওয়ার এ ব্যবস্থা বেশ কার্যকর এবং তা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। কারণ, এখন মহামারি মারাত্মক আকার ধারণ করছে। করোনার কারণে বিশাল জনগোষ্ঠীর উপার্জনের পথ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। বাংলাদেশ সরকার ৫০ লাখ মানুষকে এককালীন আড়াই হাজার টাকা দেওয়ার একটি কর্মসূচি পরিচালিত করছে। কিন্তু সেটি নিয়েও তো ঘাপলা কম না। নানা দুর্নীতি আর অনিয়মে নিমজ্জিত এই বাংলাদেশে প্রকৃত ভুক্তভোগীর কাছে প্রণোদনা পৌঁছানোই একটি জটিল ও কঠিন কাজ। কারণ, এখন যে হারে সরকারি মদদে, আশ্রয়ে-প্রশ্রয়ে করোনাকালীন সময়ে দুর্নীতির চিত্র উঠে আসছে সেটা ভয়ঙ্কর। বলা যায়, দুর্নীতির নামে এসব দুর্নীতিবাজরা শুধু টাকা-পয়সাই হাতিয়ে নেয়নি বরং মানুষের জীবনকেই হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে। নিজেদের পকেট ভরতে মানুষকে হত্যা করতেও এদের বিন্দুমাত্র দ্বিধা নেই। এটাই লুটেরা পুঁজির আসল চরিত্র। এই লুটেরারাই সরকারি দল চালায়, সরকারকে চালায়। কিন্তু কখনো সময় আসে, যখন অন্তত কিছু ক্ষেত্রে দুর্নীতির রাশ টেনে ধরতে হয়। নাহলে অনেক মূল্য দিয়েও নিজেকে রক্ষা করা যায় না। এই যেমন- সম্প্রতি বিদেশগামী যাত্রীদের নিয়ে যা হয়েছে তা দেশের সম্মানকে ধুলায় লুটিয়ে দিয়েছে। দেশ থেকে শত শত মানুষ করোনা পরীক্ষার নেগেটিভ রিপোর্ট নিয়ে বিদেশে গিয়েছে কিন্তু বিমানবন্দরে তাদের নামতেই দেওয়া হয়নি। কারণ, এসব রিপোর্ট ভুয়া বলে প্রমাণিত হয়েছে। এটা শুধু ব্যক্তির অসততা নয়, এই অসততার দায় বাংলাদেশেকেও নিতে হচ্ছে। এখন খুব অল্প সংখ্যক দেশের সঙ্গেই বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক পথে বিমান চলাচল চালু আছে। এর চেয়েও ভয়াবহ হচ্ছে, গণমাধ্যমের বাংলাদেশের ‘করোনা নকল রিপোর্টের জমজমাট হাটের’ খবর চাউর হয়ে গেছে। বিদেশের কর্তৃপক্ষ এটা তাদের আইন-নীতি ও মান বজায় রেখেই করেছে। কিন্তু এতে সম্মানটা গেছে আমাদের দেশের। এসব দুর্নীতিবাজদের কারণে আজকে সারাবিশ্বে বাংলাদেশের সম্মান ক্ষুন্ন হচ্ছে। এদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। যেন ভবিষ্যতে এরা এই ধরনের দেশবিরোধী কাজ করতে সাহস না পায়।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..