ইইউর বিশাল কোভিড তহবিল

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা বিদেশ ডেস্ক ঃ বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে ৯০ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলা আলোচনা শেষে করোনা ভাইরাসের (কোভিড-১৯) থেকে উত্তরণের জন্য ৭৫ হাজার কোটি ইউরোর তহবিল ঘোষণা করেছেন ইউররোপিয়ান ইউনিয়নের (ইইউ) নেতারা। গত দুই দশকে ইইউ নেতাদের এটি সবচেয়ে দীর্ঘতম আলোচনা। অর্থাৎ ২০০০ সালে ফ্রান্সের নিসে শহরে পাঁচ দিনের ম্যারাথন বৈঠকের পর এটিই জোট নেতাদের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী আলোচনা। নতুন এ চুক্তিতে ২৭ দেশের জোটে মহামারীর প্রভাব মোকাবিলায় অনুদান ও ঋণ হিসেবে ৭৫০ বিলিয়ন ইউরো মঞ্জুরের বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। এমন অবস্থায় এই চুক্তিকে ইউরোপের জন্য ঐতিহাসিক হিসেবে বিবেচনা করছেন তারা। তবে সম্মেলনের আলোচনায় কভিড-১৯-এ মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে অনুদান বাবদ কত দেওয়া হবে তা নিয়ে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে স্পষ্ট বিভক্তি দেখা গেছে। ইতালি, স্পেনসহ ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে ৫০০ বিলিয়ন ইউরো দেওয়ার একটি প্রস্তাবের বিপক্ষে ডেনমার্ক, সুইডেন, অস্ট্রিয়া ও নেদারল্যান্ডসের পাশাপাশি ফিনল্যান্ডের নেতারাও দৃঢ় অবস্থান নিলে এ বিভক্তি সৃষ্টি হয়। ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য অনুদান সর্বোচ্চ ৩৭৫ বিলিয়ন ইউরোর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে বলেন অপর অংশের নেতৃত্ব দেওয়া নেদারল্যান্ডসের প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুটে। অন্যদিকে স্পেন, ইতালিসহ অন্য দেশগুলোর নেতারা অনুদানের পরিমাণ কোনোভাবেই ৪০০ বিলিয়ন ইউরোর নিচে দেখতে চাননি। ৭৫০ বিলিয়ন ইউরো মঞ্জুরের সমঝোতা চুক্তি হওয়ার পর এখন পুনরুদ্ধার প্যাকেজের খুঁটিনাটি নিয়ে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে আলোচনা শুরু হবে। চুক্তিটিকে ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের অনুমোদনও পেতে হবে। জোটের ২৭ দেশের নেতারা একমত হওয়ার পর গত ২২জুলাই স্থানীয় সময় ভোর সোয়া ৫টার দিকে ইউরোপিয়ান কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট চার্লস মাইকেল টুইটারে ‘চুক্তি’ হয়েছে বলে জানান। চুক্তির ঘোষণা আসার পরপরই ডলারের বিপরীতে ইউরোর দর বেড়েছে। ১ ইউরোর বিপরীতে মার্কিন মুদ্রার মূল্য ঠেকেছে ১.১৭৫ ডলা্রে। এদিকে ইতালির সুপরিচিত সিনেটর গিয়ানলুইগি প্যারাগন ব্রেক্সিটের মত ইতালিএক্সিট পরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হচ্ছেন। ইতালিয়ানদের মধ্যে ইইউবিরোধী সেন্টিমেন্ট বৃদ্ধির বিষয়টিকে তিনি কাজে লাগাতে চাচ্ছেন। অথচ গিয়ানলুইগি বহুল আলোচিত ফাইভ স্টার মুভমেন্টের অন্যতম কারিগর ছিলেন। কিন্তু গত বছর ইউরোপিয়ান ইউনিয়নপন্থি ডেমোক্রেটিক পার্টির সঙ্গে সরকার গঠন করার পর তিনি তাদেরকে ত্যাগ করেন। তিনি ‘ইতালিএক্সিট’ বা ইতালিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বের করে আনা নিয়ে একটি নতুন দল গঠন করতে পারেন। এ লক্ষে ইতোমধ্যে তিনি লন্ডনে ব্রেক্সিটের অন্যতম রূপকার নাইজেল ফারাজের সঙ্গে সাক্ষাতও সম্পন্ন করেছেন। করোনা ভাইরাসে ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য যখন ইতালি লড়াই করছে, তখন তিনি ব্রাসেলস বিরোধী সেন্টিমেন্টকে ব্যবহার করে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..