২৫ জুলাইয়ের আগে বকেয়া মজুরি বোনাস দাবি স্কপের

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা প্রতিবেদক ঃ ২৫ জুলাইয়ের আগে বকেয়া মজুরি ও বোনাস দেয়ার দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)। গত ২১ জুলাই সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনের সড়কে শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে করা এ কর্মসূচিতে স্কপের যুগ্ম সমন্বয়কারী ও জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি ফজলুল হক মন্টুর সভাপতিত্বে এবং স্কপের অপর যুগ্ম সমন্বয়কারী ও জাতীয় শ্রমিক জোট বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক নঈমুল আহসান জুয়েলের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি শহিদুল্লাহ চৌধুরী, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সভাপতি রাজেকুজ্জামান রতন, জাতীয় শ্রমিক জোট বাংলাদেশের সভাপতি সাইফুজ্জামান বাদশা, জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কামরুল আহসান, জাতীয় শ্রমিক জোটের কার্যকারী সভাপতি আব্দুল ওয়াহেদ, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব বুলবুল, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের দপ্তর সম্পাদক সাহিদা পারভিন শিখা । নেতৃবৃন্দ বলেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকে স্থবির করে ফেলেছে। বিশেষত শ্রমজীবী মানুষদের জীবনকে চরম হুমকির মধ্যে ফেলেছে। শ্রমিকদের অপ্রতুল আয় সাধারণ অবস্থাতেই দৈনিক জীবনযাপনের প্রয়োজন মেটাতে পারেনা। করোনা সংক্রমনের স্বাস্থ্য ঝুঁকি মোকাবেলার ব্যয় তাদের কাছে মরার উপর খাড়ার ঘাঁ সমতুল্য। এই সময় উৎপাদনের প্রধান চালিকা শক্তি শ্রমজীবী মানুষকে রক্ষায় শিল্প মালিকদের দায়িত্ব ছিল শ্রমিকদের উপার্জনের সুযোগ বৃদ্ধি করা, তাদের নিয়মিত আয়ের প্রবাহ স্বাভাবিক রাখা। কিন্তু অধিকাংশ শিল্প, প্রতিষ্ঠান, পরিবহনের মালিক সম্পুর্ণ বিপরীত আচরণ করেছেন। তারা শ্রম আইনের তোয়াক্কা না করে ইচ্ছামতো শ্রমিক ছাঁটাই করেছেন, বিনাবেতনে ছুটির মাধ্যমে উপার্জন বঞ্চিত করেছেন, বেতন-বোনাস কর্তন করেছেন, পুরাতন শ্রমিকদের সার্ভিস বেনিফিট/ গ্রাচ্যুয়িটি থেকে বঞ্চিত করতে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করেছেন। মালিকদের এই ধরণের বর্বর আচরণের নিন্দা জানিয়ে স্কপ নেতৃবৃন্দ বলেন, এবারও যদি ঈদুল ফিতরের সময়ের মত শ্রমিকদের সাথে হয়রানিমূলক আচরণ করা হয় তাহলে কঠিন জবাব দেওয়া হবে। নেতৃবৃন্দ পর্যটন শ্রমিক, রি-রোলিং ও স্টিল মিল শ্রমিক, পরিবহন শ্রমিক, নৌযানশ্রমিক, চা-শ্রমিক, গৃহকর্মী, সেলুন কর্মী, হোটেল-রেঁস্তোরার কর্মী, হস্তশিল্পী, ছাপা-মুদ্রণ ও বাঁধাই শ্রমিক, স্বর্ণকার, দর্জিশ্রমিক, হকার, দোকান কর্মচারীসহ প্রাতিষ্ঠানিক-অপ্রাতিষ্ঠানিক সকল শ্রমিকের প্রাপ্য বেতন-বোনাস ২৫ জুলাই এর মধ্যে পরিশোধের আহবান জানান। গার্মেন্টস মালিকরা বোনাস পরিশোধের জন্য ২৭ জুলাই এবং চলতি মাসের বেতন পরিশোধের জন্য ৩০ জুলাই পর্য়ন্ত সময় নিয়েছেন; কিন্তু শেষ সময়ের সুযোগ নিয়ে ফাঁকি দেওয়ার যেকোনো চেষ্টা হলে তার পরিণতিও ভালো হবে না বলে স্কপ নেতারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। নেতৃবৃন্দ শ্রম আইনের অপপ্রয়োগ করে যেসব মালিক শ্রমিক ছাঁটাই করেছে ও কারখানা লে-অফ করেছে সে সব মালিকদের শাস্তি এবং শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ ও ইতিমধ্যে যাদের ছাঁটাই করা হয়েছে তাদের কাজে পুনর্বহাল করার দাবি জানান। তারা একইসঙ্গে করোনা দুর্যোগে কর্মহীন ও বেকার হয়ে পড়া শ্রমিকদের জন্য শ্রম অধিদপ্তরের মাধ্যমে এককালীন সহায়তা ও রেশনের ব্যবস্থা করতেও সরকারের প্রতি আহবান জানান।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..