করোনাকালে বন্যা : মানুষের বিপন্নতা বাড়ছেই

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
অনিরুদ্ধ দাশ অঞ্জন : বর্তমানে করোনাভাইরাস সৃষ্ট মহাসংকটে মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছে। জীবন আর জীবিকার দোলাচলে এখন দুলছে মানুষ। সরকারের ব্যর্থতা পরিস্থিতিকে জটিলতর করে তুলেছে। সংক্রমণ আর মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছেই। এ রকম পরিস্থিতিতে বন্যার প্রাদুর্ভাব মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দেখা দিয়েছে। এর আগে আম্ফানের তাণ্ডব মোকাবিলা করতে হয়েছে আমাদের। দেশে বন্যা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হচ্ছে। নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। ইতিমধ্যে ২১ জেলায় প্রায় এক কোটি মানুষ বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। ঢাকার আশপাশের জেলাগুলোতে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। ঢাকার দিকেও বন্যার পানি ধেয়ে আসছে। এমনিতেই ঢাকা জলাবদ্ধতায় নাকাল। সরকারি হিসাবে এখন পর্যন্ত ৮৬ জন মারা গেছেন। বাস্তুচ্যুত হয়ে সরকারি আশ্রয় শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন ৫৬ হাজার মানুষ। প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ বাড়িঘর ডুবে গেছে। কৃষি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রথম পর্যায়ের বন্যায় প্রাথমিকভাবে প্রায় ৩৪৯ কোটি টাকার ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ভেঙে গেছে অসংখ্য বসতবাটি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সেতু, সড়ক-মহাসড়ক, রেলপথ। ভেসে গেছে বিপুলসংখ্যক গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি, দৈনন্দিন বেঁচে থাকার উপাদান। আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘রেডক্রস’ মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। এবারের বন্যা ১৯৮৮ সালের পর সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের কো-অর্ডিনেশন অব হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাফেয়ার্স (ওসিএইচএ)। বন্যা, খরা, জলোচ্ছ্বাস ও সাইক্লোনের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে এ ভূখণ্ডের মানুষকে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এ ভূখণ্ডে ১৮৭০ থেকে ১৯২২ সাল পর্যন্ত গড়ে প্রতি দুই বছরে একবার মাঝারি আকারের বন্যা এবং গড়ে ৬-৭ বছরে একবার ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। আর প্রতি শতাব্দীতে ৬টি করে মহাপ্লাবনের মুখোমুখি হতে হয়েছে এই ভূখণ্ডকে। যার একটা আমরা দেখেছি ১৯৮৮ সালে। সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা হয়েছিল ১৮৭৬ সালে। তখন ২ লাখ ১৫ হাজার মানুষ মারা যায়। হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ এবং পানি সম্পদ রক্ষা ও বন্যা নিয়ন্ত্রণের প্রচারের ঢাক-ঢোল পেটালেও, বন্যার হাত থেকে দেশকে রক্ষা করা যায়নি। সারা পৃথিবীর পরিবেশবাদীরা বাঁধ দিয়ে নদীর গতিপথ রুদ্ধ, নিয়ন্ত্রণ বা বিচ্যুত করাসহ প্রকৃতি-বিরুদ্ধ তৎপরতার বিরোধিতা করছেন। কিন্তু পুঁজিবাদী উন্নয়ন মডেল অনুসারী সরকার ভিন্ন পথে হাঁটছে। যার পরিণতি হচ্ছে ভয়াবহ। প্রাকৃতিকভাবেই বন্যার পানি সরে যাওয়ার সিস্টেমটাকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। আবাসন, পুনর্বাসন আর প্রকল্পের নামে সমস্ত জলাশয় ভরাট করা হলো। হাইকোর্ট হস্তক্ষেপ করলেও, নদী, জলাশয় দখল বন্ধ করা যাচ্ছে না। ঢাকায় বড় বড় প্রকল্প করা হচ্ছে অথচ পানি নিষ্কাশন নিয়ে কোনো ভাবনা নেই। বন্যার হাত থেকে বাঁচার জন্য তাৎক্ষণিক ব্যবস্থার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন। পানি-সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা করা এখনো সম্ভব হয়নি। বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)-র পরামর্শে প্রকল্পের পর প্রকল্প নেয়া হয়েছে, যেসব প্রকল্প খুবই ব্যয়বহুল। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে প্রকল্পের অর্থনৈতিক লাভের ওপর নির্ভর করে প্রকল্পের বিন্যাস হয়েছে। পানি ব্যবস্থাপনা ও বন্যা নিয়ন্ত্রণের নামে স্বাধীনতার আগে-পরের উদ্যোগ এ ধারাতেই চলছে। বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং পানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে আশির দশকে বিশ্বব্যাংক ব্যাপক তোড়জোড় শুরু করে। ১৯৮৬ সালে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে সারফেস ওয়াটার সিমুলেশন মডেলিং প্রোগ্রাম (SWSMP) চালু করা হয়। ১৯৮৮ সালের ভয়াবহ ও দীর্ঘস্থায়ী বন্যার পরে বন্যার কারণ নির্ণয় ও প্রতিকারের জন্য প্রণয়ন করা হয় ‘ফ্লাড অ্যাকশন প্ল্যান’ (ফ্যাপ)। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই প্রকৃতি ও পরিবেশের ক্ষতিকর প্রভাবের বিষয়টি স্পষ্ট হয়। তারপর দেশে-বিদেশে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয় এবং ‘ফ্যাপ’ বাতিল করা হয়। এরপর ভিন্নভাবে ‘ফ্যাপে’রই নতুন সংস্করণ গ্রহণ করা হয়। বন্যা থেকে যেন মানুষের মুক্তি নেই। প্রাক-প্রস্তুতি থাকলে বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব। কিন্তু সেক্ষেত্রে সরকারের অবহেলা লক্ষ্য করা গেছে। করোনার মতো বন্যা মোকাবিলায়ও সরকার আমলাদের ওপর নির্ভর করছে। দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা বাড়ছে। ত্রাণ চুরি ও অনিয়মের খবর আসছে। তথ্যমন্ত্রী অবশ্য বলেছেন, ‘বন্যা মোকাবিলা কীভাবে করতে হয়, তা বিশ্ব আমাদের কাছ থেকে শিখতে পারে’। করোনার মধ্যেই বন্যা দেখা দেয়ায় মানুষের বিপন্নতা অনেক বেড়েছে। সরকার জীবিকা রক্ষার কথা বলে মানুষের জীবনকে হুমকির মধ্যে ফেলে দিয়েছে। কিন্তু জীবিকা রক্ষা করা যাচ্ছে না। করোনা মোকাবিলায় সরকারের ব্যর্থতার ফলে সংকট অনেক বেড়ে গেছে। সংক্রমণের দিক থেকে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান এখন ১৭তম। সরকারি হিসাবে এ পর্যন্ত (২৫ জুলাই) আক্রান্ত হয়েছেন ২২১,১৭৮ জন এবং মারা গেছেন ২,৮৭৪ জন। যদিও প্রকৃত সংখ্যা আরো বেশি। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাস সংকটে নাগরিকদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুরক্ষার ক্ষেত্রে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ দেশের মধ্যে সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। এ অঞ্চলে কোভিড-১৯ মহামারির সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাবের ওপর এ প্রতিবেদন তৈরি করেছে এশিয়া–প্যাসিফিক ইকোনমিস্ট নেটওয়ার্ক নামের অর্থনীতিবিদদের একটি সংগঠন। যুক্তরাজ্যভিত্তিক অর্থনীতিবিষয়ক নীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান এফএম গ্লোবাল ‘গ্লোবালরেজিলিয়েন্স ইনডেক্স–২০১৯’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় ১৩০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১০৬তম বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। প্রাণঘাতী করোনা-পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হওয়ায়, বিশাল জনগোষ্ঠীর কর্মহীনতা সৃষ্টি হয়েছে। এখন তার সঙ্গে নতুন করে বন্যার ক্ষতি মোকাবিলার বিষয়টি যুক্ত হয়েছে। কর্মহীনতার কারণে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা স্বাভাবিকভাবেই কমে গেছে। ফলে সামগ্রিক উত্পাদন ব্যাহত হচ্ছে। এরই মধ্যে অনেক পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। আরও গার্মেন্টস বন্ধ করে দেয়ার হুমকি আছে। ফলে বহু শ্রমিক কাজ হারিয়েছেন এবং আরো শ্রমিক কাজ হারাবেন। সম্প্রতি রাষ্ট্রায়ত্ত ২৫টি পাটকল বন্ধ করে দেয়ায়, ২৫ হাজারের মতো শ্রমিক কাজ হারিয়েছেন। সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েছেন ভাসমান শ্রমিক ও উদ্বাস্তু জনগোষ্ঠী। অনানুষ্ঠানিক খাত ভেঙে চুরমার হয়ে পড়ছে। আমাদের দেশের কর্মসংস্থানের ৮৫ ভাগই অনানুষ্ঠানিক খাতের। দোকান, হোটেল-রেস্তোরাঁ, টেইলার্স ইত্যাদির কর্মচারী, নির্মাণ খাত ও কৃষি খাতের শ্রমিক এবং গৃহকর্মীরা মহা সংকটে রয়েছেন। অনেকে দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছেন। বিআইডিএসের জরিপ অনুযায়ী, করোনা পরিস্থিতির কারণে ১৩ শতাংশ মানুষ কাজ হারিয়েছেন। এই হার আরও বাড়বে। ঢাকা ও অন্যান্য শহরে কাজ হারিয়ে অনেক মানুষ গ্রামে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। অর্থনীতিতে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে সেটা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ১৭০টি দেশে ১ কোটি ২০ লাখের মতো বাংলাদেশি কাজ করেন। করোনার কারণে চাকরিচ্যুত কিংবা অনেকটা বাধ্য হয়ে ১০ লাখেরও বেশি শ্রমিককে দেশে ফিরতে হতে পারে। অনেক প্রবাসী শ্রমিক দেশে ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছেন। তাঁদের একটি বড় অংশ হয়তো আর সেসব দেশে কাজে ফিরতে পারবেন না। সব মিলিয়ে অর্থনীতির ওপর মারাত্মক চাপ পড়বে। বাংলাদেশে করোনা টেস্ট তথা বাংলাদেশ সম্পর্কে বহির্বিশ্বে এরই মধ্যে একটা নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে। ইতালিতে বাংলাদেশিদের বাঁকা চোখে দেখা হচ্ছে। রোমের ফিউমিসিনো বিমানবন্দরে কাতার এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইট থেকে ১২৫ জন বাংলাদেশিকে নামতেই দেয়া হয়নি। তাঁদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়। ল্যাজিও শহরে নতুন করে শনাক্ত হওয়া ১৪ জনের মধ্যে নয়জনই দেশের বাইরে থেকে আসা। এ নয়জনের মধ্যে সাতজন বাংলাদেশ থেকে আসা বলে ইতালির ‘লা রিপাবলিকা’ পত্রিকায় বলা হয়। এর আগে ৬ জুন বাংলাদেশ থেকে ২৭৬ যাত্রী নিয়ে যে বিমানটি রোমে অবতরণ করেছিল, সেখানে ৩৬ জনের মধ্যে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এরপর বাংলাদেশ থেকে ফ্লাইটের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় ইতালি। এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই ১২৫ জন বাংলাদেশি ইতালিতে গিয়েছিলেন। বাংলাদেশে ভুয়া টেস্ট রিপোর্ট নিয়ে ইতালিসহ বিভিন্ন দেশের সংবাদ মাধ্যমে যেসব খবরা-খবর ছাপা হয়েছে, এতে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে। করোনাভাইরাস মোকাবিলায় প্রাক-সংক্রমণ প্রস্তুতিমূলক পর্যায়ে ও সংক্রমণকালে সরকার কর্তৃক গৃহীত বিভিন্ন কার্যক্রম বিষয়ে গবেষণা করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সরকারের গৃহীত কার্যক্রমে সুশাসনের ক্ষেত্রে ব্যাপক ঘাটতি ছিল এবং ব্যাপকভাবে দুর্নীতি হয়েছে বলে টিআইবি ‘করোনাভাইরাস সংকট মোকাবিলায় সুশাসনের চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করে। ঘাটতিগুলো হচ্ছে: ১. আইনের শাসনের ঘাটতি, ২. দ্রুত সাড়াদানে বিলম্ব (সংক্রমণ বিস্তার রোধে বিদেশ হতে আগমন নিয়ন্ত্রণে ঘাটতি, পরিকল্পনা প্রণয়ন ও কমিটি গঠনে বিলম্ব, অভ্যন্তরীণ চলাচল ও জন-সমাগম নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা, পরীক্ষাগার প্রস্তুতিতে বিলম্ব, চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা ও প্রস্তুতিতে বিলম্ব, করোনা সংকট মোকাবিলায় সরকার ঘোষিত প্রণোদনার সীমাবদ্ধতা, ত্রাণ ও সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচির প্রস্তুতিতে ঘাটতি) ৩. সক্ষমতা ও কার্যকরিতার ঘাটতি (অকার্যকর কমিটি, পরীক্ষাগারের সক্ষমতার ঘাটতি, চিকিৎসা ব্যবস্থায় সক্ষমতার ঘাটতি, সংক্রমণ প্রতিরোধ ব্যবস্থায় সক্ষমতার ঘাটতি, কমিউনিটি পর্যায়ে সংক্রমণ বিস্তার রোধে সক্ষমতার ঘাটতি, সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ব্যর্থতা), ৪. অংশগ্রহণ ও সমন্বয়ের ঘাটতি (স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সমন্বয়হীনতা, আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়হীনতা, বেসরকারি পর্যায়ের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করায় ব্যর্থতা, ত্রাণ বিতরণে সমন্বয়ের ঘাটতি) ৫. স্বচ্ছতার ঘাটতি (তথ্য প্রকাশে বিধি-নিষেধ আরোপ, মত প্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব, করোনাভাইরাস সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশে ঘাটতি), ৬. অনিয়ম ও দুর্নীতি (করোনা আক্রান্তের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম-দুর্নীতি, চিকিৎসায় অনিয়ম-অব্যবস্থাপনার অভিযোগ, পরীক্ষাগারে দুর্নীতি, চিকিৎসা সামগ্রী ক্রয়ে দুর্নীতি, স্থানীয় পর্যায়ে নিরাপত্তা সামগ্রী বণ্টনে অনিয়ম, ত্রাণ ও সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচিতে অনিয়ম-দুর্নীতি), ৭. জবাবদিহিতার ঘাটতি। সার্বিক পর্যবেক্ষণে টিআইবি বলেছে, করোনা মোকাবিলায় সরকার কর্তৃক গৃহীত কার্যক্রম সম্পর্কিত তথ্য প্রকাশে বিধিনিষেধ আরোপের মাধ্যমে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনাকে আড়াল করা হচ্ছে এবং দুর্নীতিতে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের জবাবদিহিতার আওতায় না নিয়ে এসে দুর্নীতির তথ্য প্রকাশকারীকে হয়রানি ও নিয়ন্ত্রণ করার যে প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তা প্রকারান্তরে দুর্নীতিকে উৎসাহ প্রদান করছে। সরকারের ব্যর্থতা, দায়িত্বহীনতা আর ভুল পদক্ষেপের কারণে মানুষের বিপন্নতা যে বাড়ছে, তার শেষ কোথায়?

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..