রাষ্ট্রীয় পাটকল বন্ধের সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে গাইবান্ধার ৪টি স্থানে বিক্ষোভ মিছিল সমাবেশ

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
গাইবান্ধা সংবাদদাতা ঃ রাষ্ট্রীয় পাটকল বন্ধের সরকারি সিদ্ধান্ত ‘মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গীকারের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে অভিহিত করে শনিবার বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) দেশব্যাপী কর্মসুচির ডাক দেয়। এরেই অংশ হিসেবে ১১ জুলাই সিপিবি জেলা কমিটির উদ্যোগে শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও গোবিন্দগঞ্জ, সুন্দরগঞ্জ ও সাঘাটা উপজেলা শাখার উদ্যোগে একই সময় পৃথকভাবে অনুরুপ কর্মসুচি পালন করা হয়। জেলা শহরের ১নং ট্রাফিক মোড়ে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সিপিবি কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও জেলা কমিটির সভাপতি মিহির ঘোষ, সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল, জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য কৃষক নেতা ছাদেকুল ইসলাম। এসময় সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পর দেশের প্রধান শিল্প পাটকলগুলো রাষ্ট্রায়ত্তকরণ করা হয়েছিল। ৫৪’র যুক্তফ্রন্ট্রের ২১-দফা ও ৬৯’র গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র সমাজের ১১-দফার অন্যতম অঙ্গীকার ছিল। বক্তারা বলেন, ২০০২ সালে বিএনপি-জামাত সরকারের শিল্পমন্ত্রী রাজাকার নিজামীর হাত দিয়ে দেশের বৃহত্তম আদমজী পাটকল বন্ধ করে দেয়া হয়। আর আজ মুক্তিযুদ্ধের চেতনার দাবিদার আওয়ামী সরকার মুক্তিযুদ্ধে খেতাবপ্রাপ্ত মন্ত্রীর হাত দিয়ে অবশিষ্ট ২৫টি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ বিশ্বাসঘাতকতার জন্য জাতি কখনও তাদের ক্ষমা করবে না। নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, সরকার লোকসানের কথা বলে পাটকলগুলো বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাটকলগুলো রাষ্ট্রীয়করণের পর থেকে এ পর্যন্ত পুঞ্জীভূত লোকসানের পরিমাণ মাত্র ১০ হাজার ৬৭৪ কোটি টাকা। তারা পাটকল বন্ধ করে পাট চাষ ও পাট শিল্পকে ধ্বংস করার পাঁয়তারা না করে মাত্র ১২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে আধুনিকায়ন করার মাধ্যমে দেশীয় পাট শিল্প টিকিয়ে রাখতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। নেতৃবৃন্দ সরকারের বিশ্বাসঘাতকতাপূর্ণ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলতে পাটকল শ্রমিক, পাটচাষী ও দেশবাসীকে আহ্বান জানান। তারা বলেন, সরকার যদি পাটকল বন্ধের মত গণবিরোধী সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না করে তাহলে জনগণকে সাথে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। সভায় বক্তারা করোনা মহামারি মোকালোয় গাইবান্ধায় পিআির ল্যাব চালুর জোর দাবি জানান। এর আগে একটি বিক্ষোভ মিছিল শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে ১নং ট্রাফিক মোড়ে সমাবেশ স্থলে এসে শেষ হয়।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..