ব্যর্থ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করে চট্টগ্রামে বাম গণতান্ত্রিক জোটের বিক্ষোভ

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

চট্টগ্রাম সংবাদদাতা : স্বাস্থ্যখাতে অনিয়ম-দুর্নীতি-অব্যবস্থাপনা বন্ধ ও ব্যর্থ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ, করোনা টেস্টের ফি বাতিল, চট্টগ্রামে স্বাস্থ্যখাতে নৈরাজ্য বন্ধ, কোভিড-ননকোভিড সকল রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার দাবিতে গত ৯ জুলাই সকাল ১১ টায় লালদীঘি পাড়ে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে বাম গণতান্ত্রিক জোট। বাম জোট জেলা সমন্বয়ক ও সিপিবি জেলা সাধরেণ সম্পাদক অশোক সাহার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন গণসংহতি আন্দোলন চট্টগ্রাম জেলা সমন্বয়কারী হাসান মারূফ রূমি, সিপিবি জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য অমৃত বড়ুয়া, বাসদ জেলা কমিটির সদস্য মহিন উদ্দিন, বাসদ (মার্কসবাদী) জেলা সদস্যসচিব শফি উদ্দিন কবির আবিদ। সমাবেশ পরিচালনা করেন বাসদ সংগঠক রায়হান উদ্দিন। আরো উপস্থিত ছিলেন সিপিবি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মৃণাল চৌধুরী, বাসদ (মার্কসবাদী) নেতা আসমা আক্তার, গণসংহতি আন্দোলনের নেতা ফরহাদ জামান জনি। নেতৃবৃন্দ বলেন, “করোনা সংক্রমণ মোকাবিলায় সরকারের চিকিৎসা ব্যবস্থা ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের চরম ব্যর্থতা ফুটে ওঠেছে। এই স্বাস্থ্যমন্ত্রী ব্যর্থ। তারা বারবার বলে আসছিল, করোনা মোকাবিলায় তাদের প্রস্তুতি আছে, কিন্তু করোনা মোকাবেলায় চূড়ান্ত অব্যবস্থাপনায় স্পষ্ট হলো, তাদের কোনো প্রস্তুতিই ছিল না। করোনা মোকাবিলায় ৪৩টির ওপর কমিটি হয়েছে, কিন্তু বেশিরভাগেরই কোনো কার্যক্রম নেই। কোনো কোনো কমিটির এখন পর্যন্ত একটি বৈঠকও হয়নি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী করোনা মোকাবিলায় জাতীয় কমিটির সভাপতি। কিন্তু তিনি জানেন না যে, কিভাবে গার্মেন্টস খুলে দেওয়া হয়। তিনি সংসদে দাঁড়িয়ে বলেন যে, স্বাস্থ্যকর্মীরা পিপিই পরতে জানেন না। এই ব্যর্থতা তো স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে তারই। অথচ এই অথর্ব ও ব্যর্থ স্বাস্থ্যমন্ত্রী এখনও বহাল তবিয়তে দায়িত্বে আছেন।" নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, “করোনা নিয়ন্ত্রণে জন্য যেখানে প্রয়োজন ছিল গণহারে টেস্ট করা, আক্রান্তদের চিহ্নিত ও আলাদা করা, সেখানে সরকার করোনা টেস্ট নিয়ন্ত্রণ করার জন্য ফি আরোপ করেছে। দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশে করোনা টেস্ট বিনামূল্যে হয়। অন্যদিকে দেখছি, আওয়ামীলীগ নেতার রিজেন্ট হাসপাতাল করোনা চিকিৎসার নামে ও ভুয়া রিপোর্ট দিয়ে জনগণ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। সরকারের কোন নিয়ন্ত্রণ নেই। স্বাস্থ্যখাতে এক চরম নৈরাজ্যজনক পরিস্থিতি বিরাজ করছে।” নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, চট্টগ্রামের কোটি মানুষের জন্য চিকিৎসাব্যবস্থা খুব অপ্রতুল। চট্টগ্রামের মানুষ এ করোনাকালে চিকিৎসার অভাবে এক বিভীষিকাময় সময় অতিক্রম করছে। চার মাস সময় পেলেও করোনা মোকাবেলায় প্রস্তুতি শোচনীয়। টেস্টের সুযোগ সীমিত, রিপোর্ট পেতে একমাসও লাগছে। জেনারেল হাসপাতাল, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল করোনাকালে প্রধান ভরসাস্থল হলেও, সেখানে চিকিৎসার আয়োজন ও সুযোগ অপ্রতুল। পর্যাপ্ত বেড, আইসিইউ, সেন্ট্রাল অক্সিজেন সরবরাহ, হাই ফ্লো ক্যানুলা, জনবল, চিকিৎসা সামগ্রীর তীব্র ঘাটতি আছে। জনগণের অসহায়ত্বের সুযোগে সরকারি হাসপাতালগুলো গলাকাটা বিল করছে। অথচ মহামারীতে জনগণের চিকিৎসার দায়িত্ব হলো রাষ্ট্রের, ব্যক্তি উদ্যোগে এ আয়োজন সম্ভব নয়। করোনা মহামারী স্পষ্ট করল, রাষ্ট্রকে সবার জন্য স্বাস্থ্য নিশ্চিত করার উপযোগী করে পুরো স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে। অথচ স্বাস্থ্যখাতে সরকারের বাজেট বরাদ্দে তার কোন প্রতিফলন নেই। তাই আজ জনগণকেই স্বাস্থ্য, চিকিৎসার দাবিতে জোরদার আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।" নেতৃবৃন্দ চট্টগ্রামে দ্রুত কয়েকটি করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল স্থাপন, আইসোলেশন সেন্টার তৈরি, হাসপাতালে পর্যাপ্ত আইসিইউ বেড ও সিট, সেন্ট্রাল অক্সিজেন সরবরাহ, হাই ফ্লো ক্যানুলা নিশ্চিত করা, গণহারে করোনা পরীক্ষা ও ল্যাবের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং কোভিড, ননকোভিড সকলের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতের দাবি জানান সমাবেশে। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল কেসিদে রোড, আন্দরকিল্লাহ হয়ে চেরাগী পাহাড় মোড়ে এসে শেষ হয়।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..