করোনার মহামারীর মধ্যে বন্যার পদধ্বনি

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email
সারাবিশ্বব্যাপী করোনা মহামারী চলছে। বাংলাদেশে এর প্রকোপ মারাত্মক আকার ধারণ করছে। করোনা মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকারের অবহেলা আর বিশৃঙ্খলার চিত্রগুলোকে আর লুকিয়ে রাখা যাচ্ছে না। বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিকভাবে বিমান চলাচলে সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। মিথ্যা তথ্য দিয়ে যাদেরকে দেশের বাইরে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু সেসব দেশ তাদেরকে গ্রহণে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ধারণা করা যায়, সমানের দিনগুলোতে হয়তো বাংলাদেশকে এরকম আরো সমস্যার মুখোমুখি হতে হবে। বিশেষ করে, মধ্যপ্রাচ্যের ব্যাপক সংখ্যক বাংলাদেশি শ্রমিক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। তাদেরকেও কর্ম হারিয়ে দেশে ফিরে আসতে হতে পারে। এই নাজুক অবস্থার মধ্যেই দেশের বিভিন্ন জেলায় বন্যার পদধ্বনি শুনতে পাওয়া যাচ্ছে। এটা অনেকটাই মরার উপর খাঁড়ার ঘায়ের মতো। সরকারের পক্ষ থেকে এরই মধ্যে অন্তত ২৩টি জেলায় স্কুল-কলেজকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জুলাই মাস জুড়ে বন্যার বিস্তার হবে বলে আবহাওয়া কার্যালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। কিন্তু এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের প্রস্তুতির যথেষ্ট ঘাটতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কারণ, এবারকার বানভাসী মানুষের দুর্ভোগ অন্যান্য বারের মতো হবে না। অন্যসময় মানুষের হাতে যাই হোক কিছু টাকা-পয়সা থাকতো। কিন্তু এবারকার পরিস্থিতি একেবারেই ভিন্ন। করোনা মহামারীর কারণে গ্রামের প্রান্তিক মানুষ খুবই কষ্টেসৃষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। তাদের হাতে কোনো কাজ নেই, ফলে উপার্জনও নেই। একেবারে শূণ্য হাতে তাকে বন্যা মোকাবিলা করতে হবে, যা অনেক কঠিন। ফলে সরকারকেই এসব বানভাসী মানুষের জন্য বিশেষ পদক্ষেপ নিতে হবে। শুধু ‘ত্রাণ দেওয়া হচ্ছে’ বলে গালভরা বুলি দিয়ে মানুষকে এই বিপদ থেকে উদ্ধার করা যাবে না। ত্রাণ যেন বানভাসী মানুষ প্রকৃতপক্ষেই পায় সেটাও নিশ্চিত করতে হবে। প্রান্তিক অনেক মানুষের বাড়িঘর পানিতে তলিয়ে গেলে তাদেরকে বাধ্য হয়েই আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে হবে। এই করোনার সময়ে সেটা ভয়ঙ্কার বিপদ ডেকে আনতে পারে। কিন্তু জীবন বাঁচাতে প্রথমে মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রেই যাবে। দুর্গত মানুষ যাতে সংক্রমণ এড়িয়ে চলতে পারে তার জন্য সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নিতে হবে এবং সেটা সরকারকেই করতে হবে। কিন্তু তারচেয়ে বড় বিপদ হবে পানিবাহিত রোগের বিস্তার ঘটলে। এমনিতেই এই পরিস্থিতিতে দেশের চিকিৎসাসেবা নিয়ে মানুষের অভিযোগের অন্ত নেই। সাধারণ রোগীও হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা পাচ্ছে না। বিনা চিকিৎসায় মানুষের মৃত্যুর সংবাদ প্রতিদিনই গণমাধ্যমে আসছে। এই অবস্থায় আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়া মানুষ যাতে পানিবাহিত রোগের কবলে না পড়ে সেটি নিশ্চিত করতে হবে। এ ছাড়া বন্যায় যাদের বাড়িঘর ভেঙে গেছে, শাক-সবজি ও ফসল নষ্ট হয়েছে তাদের পুনর্বাসনের জন্যও পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিতে হবে। কারণ, অন্যান্যবার ঘর ভেঙে গেলে মানুষ নিজের হাতে থাকা টাকা দিয়ে সেই ঘর মেরামত বা সংস্কার করে। এবার তো করোনার মহামারীতে কর্মহীন মানুষের হাত একেবারেই ফাঁকা। ফলে বন্যা চলে গেলেও তাকে বাড়িতে ফিরেও খোলা আকাশের নিচেই থাকেত হবে। তাই বন্যা পরবর্তী সময়ের পুনর্বাসন কাজটিকে খুবই গুরুত্ব সহকারে সরকারকে বিবেচনা করতে হবে। কমিউনিস্ট পার্টি গণমানুষের পার্টি। মানুষের দুর্দিনে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই প্রতিটি নেতাকর্মীর দায়িত্ব। করোনা মহামারীর মধ্যেও পার্টিকর্মীরা বিপন্ন মানুষের সেবার নিজেদের সর্বোচ্চ সাধ্য নিয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের যেসব জেলায় বন্যার আশঙ্কা আছে সেসব জেলায় এরই মধ্যে পার্টির নেতাকর্মীদের বন্যার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সবাইকে নিয়েই করোনা আক্রান্ত ও বন্যায় দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সংকট মোকাবিলা করতে হবে।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..