সিঙ্গাপুরের নির্বাচনে বামপন্থিদের দৃশ্যমান অগ্রগতি

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা বিদেশ ডেস্ক: সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত ১৩তম জাতীয় নির্বাচনে দৃশ্যমান সাফল্য অর্জন করেছে বিরোধী দল ওয়ার্কার্স পার্টি (ডব্লিউপি)। আসন সংখ্যার হিসেবে এই জয় ছোট হলেও বিশ্লেষকরা একে ঐতিহাসিক বলে উল্লেখ করছেন। দেশটির একমাত্র বিরোধী দল ওয়ার্কার্স পার্টি (ডব্লিউপি) পেয়েছে ১০টি আসন। গত নির্বাচনে দলটি ৬টি আসন পেয়েছিল। স্বাধীনতার পর দলটি এবারই সবচেয়ে বেশি আসনে জয় লাভ করলো। ওয়ার্কার্স পার্টি (ডব্লিউপি) সিঙ্গাপুরের প্রধান বিরোধী দল এবং বামপন্থি গণতান্ত্রিক সমাজতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। ১৯৫৭ সালে ডেভিড মার্শাল ওয়ার্কার্স পার্টি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ১৯৫৫ সালে সিঙ্গাপুরের প্রথম আইনসভা নির্বাচনে ওয়ার্কার্স পার্টির নেতৃত্বে বামপন্থি লেবার ফ্রন্ট বিজয়ী হয় এবং সংখ্যালঘু সরকার গঠন করে। ডেভিড মার্শাল সিঙ্গাপুরের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হন। ১৯৫৬ সালে লন্ডন কনফারেন্সে স্বাধীনতা এবং সায়ত্ত্বশাসন আলোচনা ব্যর্থ হলে তিনি পদত্যাগ করেন। ১৯৯১ সাল থেকে ওয়ার্কার্স পার্টি সিংগাপুরের প্রধান বিরোধীদল হিসেবে ভূমিকা পালন করছে। ভোটাধিকারের বয়স ২১ থেকে কমিয়ে ১৮ করা, জাতীয় ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ, সেন্ট্রাল প্রভিডেন্ট ফান্ডের দাবিতে তাদের আন্দোলনসমূহ উল্লেখযোগ্য। ওয়ার্কার্স পার্টি (ডব্লিউপি)’র সদস্যরা সিংগাপুরের শ্রমিকদের সম্মানার্থে তাদের ইউনিফর্মের অনুরূপ হালকা নীল রঙের পোশাক পরিধান করে থাকেন। গত ১০ জুলাই সিংগাপুরের ১৩তম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ক্ষমতাসীন পিএপি ৯৩টি আসন পেয়েছে। আসনের হিসেবে ৮৯ শতাংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। তবে দলটির পপুলার ভোট কমেছে ৬১ শতাংশ। এর আগে করোনা পরিস্থিতির মধ্যেই দেশটির জনগণ উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে ভোট দিয়েছেন। কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে, ভোটাররা গ্লাভস ও মাস্ক পরে, নির্দিষ্ট করে দেওয়া সময়ে ভোটের স্লটে ভোট দেন। সন্ধ্যা পর্যন্তও বিভিন্ন কেন্দ্রের বাইরে ভোটারদের ভীড় ছিল। সে কারণে ভোট দেওয়ার সময় ২ ঘণ্টা বাড়ানো হয়, যা দেশটির নির্বাচনের ইতিহাসে প্রথম ঘটল। রাত ১০টায় শেষ হয় ভোটগ্রহণ। এই নির্বাচনকে সিঙ্গাপুরে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে সরকারের পদক্ষেপের বিষয়ে গণভোট হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল। পিএপি ১৯৫৯ সাল থেকে দেশটির রাজনীতিতে কর্তৃত্ব বজায় রেখে আসছে। লি সেইন লুং-এর বাবা লি কিউয়ান ইয়ু দেশটির প্রথম প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। ভোট গণনা শেষে সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লি সেইন লুং বলেন, ‘আমরা নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছি। জনগণের সমর্থন পেয়েছি। যদিও পপুলার ভোটের শতাংশ খুব একটা বেশি না। আমি যেমনটি প্রত্যাশা করছিলাম তেমন শক্তিশালী ম্যান্ডেট পাইনি। তবে এটি ভালো ফল।’

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..