মালিতে সহিংস বিক্ষোভ

Facebook Twitter Google Digg Reddit LinkedIn StumbleUpon Email

একতা বিদেশ ডেস্ক: মালিতে চলছে সরকার বিরোধী সহিংস বিক্ষোভ। এক মাসের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম বৌবাকার কেইটার পদত্যাগের দাবিতে এটি তৃতীয় বিক্ষোভ ছিল। দেশটিতে দীর্ঘদিন ধরে চলমান জিহাদি সংঘাত, অর্থনৈতিক সংকট ও বিতর্কিত আইনসভার নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা বিরাজ করছে। সরকার বিরোধী আন্দোলনের জেরে রাজধানী বামাকোতে দেশটির জাতীয় সম্প্রচার মাধ্যমের কার্যালয় দখল করেছে বিক্ষোভকারীরা। এর আগে, জাতীয় পরিষদে প্রবেশের চেষ্টা করলে প্রতিবাদকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে। ১০ জুন কয়েক হাজার বিক্ষোভকারী রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে বিক্ষোভ করেন। তাদের কয়েকজন অল্প কিছু সময়ের জন্য জাতীয় সম্প্রচারমাধ্যম দখল করে নেয় এবং সম্প্রচার বন্ধ করে। জাতীয় পরিষদে ঢুকে পড়ার চেষ্টাও করা হয়েছে। এছাড়া বিক্ষোভে লুটপাটের খবর পাওয়া গেছে। বিক্ষোভের সময় অন্তত এক ব্যক্তি নিহত হয়েছে। রক্ষণশীল ইমাম মাহমুদ ডিকোর নেতৃত্বে একটি নতুন বিরোধী দলীয় জোট গড়ে উঠেছে। এই সপ্তাহে প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের দাবি থেকে জোটটি সরে এসেছে। তবে তারা সরকারে বড় ধরনের সংস্কারের দাবি তুলছে। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে ঐক্য সরকার গঠন। মালি পশ্চিম আফ্রিকার একটি রাষ্ট্র। এর রাজধানীর নাম বামাকো। পশ্চিম আফ্রিকার এই বড় দেশটির উত্তরে প্রায় অর্ধেক জুড়ে রয়েছে সাহারা মরুভূমি। দেশের বাকি অংশ জুড়ে রয়েছে সবুজ তৃণভূমি। মালিতে বহু খনিজ পদার্থ থাকলেও তার ব্যবহার খুব অল্প। ৩০০ থেকে ১৫০০ অব্দ পর্যন্ত দেশটি আফ্রিকার তিনটি শক্তিশালী সাম্রাজ্য ঘানা, মালি ও সোঙ্গাই সাম্রাজ্যের অংশ ছিল। ১৮৯৫ থেকে ১৯৫৯ সাল পর্যন্ত ফরাসিদের অধিকারে ছিলো দেশটি। ১৯৬০ সালে মালি স্বাধীনতা লাভ করে। ১৯৯১ সালে মালি স্বৈরশাসন থেকে মুক্ত হয় এক সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে। ১৯৯২ সালে অনুষ্ঠিত হয় গণতান্ত্রিক নির্বাচন। ২০১১ সালে থেকে দেশের উত্তর প্রান্তে তুয়ারেগ জাতি গোষ্ঠীর বিদ্রোহ দেখা দেয়। বিদ্রোহ দমনে সরকারি ব্যর্থতার অভিযোগে মাঝারি পদের কিছু সেনা ২০১২ সালের ২২ মার্চ রাষ্ট্রপতি আমাদো টোরেকে ক্ষমতাচ্যূত করে সামরিক শাসন জারি করে। ইকনমি কমিউনিটি অব ওয়েস্ট আফ্রিকান স্টেটস’এর মধ্যস্থতায় এপ্রিল মাসে অসামরিক শাসন পুনর্বহাল হয়, অন্তর্বর্তী রাষ্ট্রপতি হন ডিওনকোন্ডা ট্রারোরে। অভ্যুত্থান পরবর্তী বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে দেশের উত্তর প্রান্তের তিনটি অঞ্চল অধিকার করে নেয় বিদ্রোহীরা। ২০১৩ সালের জানুয়ারি মাসে অঞ্চলগুলি পুনর্দখলে অভিযান শুরু করে সেনাবাহিনী। এরপর দীর্ঘদিনের অস্থিতিশীলতা এবং জাতিসংঘের হস্তক্ষেপের পর চলতি বছর করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যেই দ্বিতীয় দফায় সংসদ নির্বাচনে ভোট দেয় সংঘাত কবলিত আফ্রিকার দেশ মালি। গত ২৯ মার্চ প্রথম দফার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় মালিতে। কিন্তু হামলা, হুমকি ও বিরোধীদলীয় নেতাকে অপহরণ ছাড়াও নানা কারণে ভোট প্রদান বাধাগ্রস্ত হয়। মার্চের ভোট গ্রহণ পণ্ড হওয়ায় প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম বৌবাকার কেইটাকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট নিযুক্ত করা হয়।

Print প্রিন্ট উপোযোগী ভার্সন



Login to comment..
New user? Register..